ভাওয়াল রাজের বাকি সম্পত্তি গেল কোথায়?

আগের সংবাদ

‘এক্স রে’ নিয়ে নেটফ্লিক্সে সৃজিতের যাত্রা

পরের সংবাদ

মানবকণ্ঠ কতৃপক্ষকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম ডিইউজে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ , ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

করোনাকালে চাকরিচ্যুত সাংবাদিক-কর্মচারীদের সমস্ত পাওয়ানাদি বুঝিয়ে দিতে দৈনিক মানবকণ্ঠ কতৃপক্ষকে ১০ দিনের সময় বেধে দিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ। এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে পত্রিকা কতৃপক্ষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবকণ্ঠ সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এক মানববন্ধনে এ আল্টিমেটাম দেন ডিইউজে সভাপতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব সাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুসহ অন্যান্য নেতারা।

মানবকণ্ঠের মালিক আশিয়ান গ্রুপের এমডি নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে ডিইউজে সভাপতি বলেন, আপনার আরো অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আছে, আপনার সুনাম যেমন আছে কুনামও আছে। আমরা সেসব বলতে চাই না। একটি পত্রিকার প্রকাশক হিসেবে আপনাকে আমরা সম্মান করতে চাই। এখন আপনি আপনার সম্মান বজায় রাখবেন কি না তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে স্পষ্ট করবেন। এই সময়ের মধ্যে আপনি যদি চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধ না করেন, তাহলে আপনার জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। সাংবাদিকদের পথে নামিয়ে আপনি ঘরে বসে মজা দেখবেন তা আমরা হতে দেব না।

কুদ্দুস আফ্রদ বলেন, আপনাকে কুপরামর্শ দিয়ে আপনার পত্রিকার ক্ষতি করছে যারা তাদেরকে আমরা চিনে গেছি, নতুন চাকরি নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করা সাংবাদিকদের ছাঁটাই করেছে। সেই দালালদের এবার আপনি চিহ্নিত করুন। বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, পরিকল্পনা করে সাংবাদিকদের মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কি না ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, অতীতে যারা দালালী করেছে, তাদের করুণ পরিণতি আমরা দেখেছি। মানবকণ্ঠেও যারা দালালি করছেন, আপনাদের পরিণতিও দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

বিএফইউজে মহাসচিব সাবান মাহমুদ বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আপনাদের ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নেব। আপনাদের মিডিয়া বাতিলের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে যাবো, আপনাদের মুখোশ উন্মোচন করেই ছাড়বো। ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, মালিকপক্ষের নেক্কারজনক প্রবণতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। আগামীতে আইনগতভাবে মানবকণ্ঠ চলবে না নাকি বন্ধ হয়ে যাবে সেই সিদ্বান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

মানবকণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক মহিউদ্দিন পলাশ বলেন, গত ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ না হতেই তারা তালিকা করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় কোনোরকম নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করা হয়নি। দেওয়া হয়নি কোনো অব্যহতিপত্র। পরবর্তীতে বঞ্চিত সাংবাদিকরা আন্দোলনের ঘোষণা দিলে তাদের ডেকে মালিকপক্ষ দুই মাসের বেতন দিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর সমস্ত বাকি-বকেয়া পরিশোধ করা অথবা চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সময় ক্ষেপণ করছে কতৃপক্ষ।

মানবকণ্ঠের আরেক সিনিয়র সাংবাদিক সাবিরা ইসলাম বলেন, যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেও ৬ মাস হতে ২০ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়া অব্যহতিপত্র এখনো না দেওয়ায় টার্মিনেশন বেনিফিট পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, চাকরিচ্যুতির পর বকেয়া পরিশোধ না করার ঘটনা মানবকণ্ঠে এটিই প্রথম নয়। পত্রিকাটি ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর সময় ৭ম ওয়েজবোর্ডে সাংবাদিকদের নিয়োগ দেওয়ার পর ৮ম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার পরপরই তা সরকারি সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর করা হলে সাংবাদিকদের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আজ অবধি কার্যকর না করে সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ দ্বীপ আজাদ, নির্বাহী সদস্য শাহনেওয়াজ দুলাল, নির্বাহী সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ, ডিইউজের সহ-সভাপতি এম এ কুদ্দুস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য রাজু হামিদ, সলিমুল্লাহ সলিম, ইব্রাহীম খলিল খোকন, ডিআরইউ-এর সাবেক প্রশিক্ষণ সম্পাদক আবদুল হাই তুহিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সভাপতি সনৎ বাবলা, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দীন শাহাব প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন ডিইউজের নির্বাহী সদস্য জুবায়ের চৌধুরী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান আরা শিল্পী প্রমুখ।
সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডিউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল আলম।

এসএইচ