সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কোন পথে আমরা?

আগের সংবাদ

ওয়াসার এমডির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট অপিরপক্ক

পরের সংবাদ

মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান জরুরি

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ

মাদকের নেশা এখন আলো ঝলমল নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে অন্ধকার গ্রামেও বিস্তার করছে। দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম, স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা, গুলি বা ছুরিকাঘাতে হত্যা কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার আধিক্যের পেছনেও মাদকাসক্তির ভ‚মিকা অন্যতম। সম্প্রতি সাভারের নীলা হত্যার সঙ্গে জড়িতরা মাদকসেবী ছিল। দেশে এমন অসংখ্য নীলা মাদকাসক্তদের হাতে নির্মমতার শিকার হচ্ছেন। মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে দেশ-জাতির ভবিষ্যৎ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে শুভবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল সবার যূথবদ্ধ প্রয়াস জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাগাতার অভিযানের মুখেও থেমে নেই মাদক বাণিজ্য। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৫৪৯ জন মাদক কারবারি নিহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী এবং তারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান থাকলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। মাদক দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্যও মূর্তমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসা অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য রূপ নিয়েছে। রাজধানী থেকে শুরু করে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এর বিস্তৃতি। দেশের এমন কোনো এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। এই মরণ নেশার বিস্তারে সমাজে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে, তেমনিভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা। মাদকের সংক্রমণ, মাদকের ব্যাধি ধীরে ধীরে আমাদের জাতিকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে ফেলার আগেই যদি আমরা একে প্রতিরোধ করতে না পারি, তাহলে বর্তমান প্রজন্ম এবং দেশের ভবিষ্যৎ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশকে হাত করেই চলছে এই ব্যবসা। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাজনীতি-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও। ইতোমধ্যেই স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অনেক ব্যক্তির নাম ইয়াবা গডফাদার হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, অনেকে আটকও হয়েছেন। অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। এত কিছুর পরও মাদক ব্যবসা-বিস্তার রোধে সরকারের ঘোষিত নানা উদ্যোগ সত্তে¡ও মাদকের বাণিজ্যের ভিত নাড়ানো যাচ্ছে না। সমাজপতি, রাজনীতিক, সরকারি কর্মজীবী, পুলিশ সবাই যখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েন, তখন মাদক ঠেকানো যাবে কীভাবে? এই প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। দেশের বিরাটসংখ্যক তরুণশক্তি নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি, অথচ প্রতিনিয়ত মাদকের নেশায় ধ্বংস হচ্ছে তারুণ্য, জাতির ভবিষ্যৎ। প্রশাসনিক কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতাই পারবে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলে এর বিস্তার ঠেকাতে। সর্বোপরি মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান এই মুহূর্তে জরুরি।

এসআর