পায়েলকে যৌন হেনস্তা, অনুরাগকে সমন পাঠাল পুলিশ

আগের সংবাদ

করোনা কাড়লো নতুন ৩২ প্রাণ, শনাক্ত ১৪৩৬

পরের সংবাদ

বড় মাছকে পোনা বানালেন কর্মকর্তারা! ক্ষুব্ধ চাষিরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ , ৩:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ , ১০:০৩ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মৎস্য চাষিদের মাঝে মাছের পোনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কম মূল্যে বড় মাছ কিনে তা পোনা বলে চালিয়ে দেয়ায় এই মৎস্য কর্মকর্তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন উপজেলার সরকারি উপকারভোগী মৎস্য চাষিরা। ক্ষুব্ধ এক মুক্তিযোদ্ধা মৎস্য চাষি তার জলাশয়ে বরাদ্দের মাছ গ্রহণ করেননি। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ের নাম বরাদ্দের তালিকায় থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে কিছুই জানানো হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে জলাশয় ও পুকুরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের বড় সাইজের মাছ। আর এর মাধ্যমে পোনা ক্রয়ের বরাদ্দে ব্যাপক নয়ছয় করা হয়েছে বলে মৎস্য চাষিরা অভিযোগ করেন।

একাধিক মৎস্য চাষি জানান, মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে এ উপজেলার ১০টি জলাশয় ও ৩টি পুকুরের জন্য ৭৩০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে লক্ষে উপজেলার সরকারি উপকারভোগী পুকুর ও জলাশয়ের মৎস্য চাষিদের মাঝে সম্প্রতি কথিত এসব পোনা মাছ বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে উপজেলার মথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জলাশয়ের জন্য বিতরণ তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হয়নি। সেখানকার প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, তারা জানেনই না, কখন কোথায় কীভাবে এই মাছের পোনা বিতরণ করা হয়েছে। আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা কোনো ধরনের মাছের পোনা পাইনি। মৎস্য অফিস থেকে এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।

উপজেলার গাছেরদিয়াড় এলাকার মৎস্য চাষি মুক্তিযোদ্ধা কাউছার আলী জানান, ছোট পোনার বদলে বিতরণ করা হয় ৩শ থেকে ৭শ গ্রাম ওজনের মাছ। যা বাজারে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও ৭৩০ কেজি মাছের সরকারি মূল্য ২৭৫ টাকা কেজি হিসেবে দেখানো হয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তার এই অনিয়মের কারণে নিজের জলাশয়ের নামে বরাদ্দ করা ৩০ কেজি মাছ গ্রহণ করেননি বলে মুক্তিযোদ্ধা কাউছার আলী জানিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান ঠিকাদার ফারুক আলম পান্নার সাথে যোগসাজশ করে অনিয়মের মাধ্যমে নামেমাত্র মূল্যে বড় মাছ কেনেন এবং দায়সারাভাবে অনুষ্ঠানটি পালন করে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

এ ব্যাপারে আংশিক সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার শহিদুর রহমান জানান, কোটেশনের মাধ্যমে এসব পোনা মাছ ক্রয় করা হয়েছে। কিছু বড় মাছ পোনার সাথে মিশে এসেছে। কিন্তু কোথাও কোথাও মোটেও পোনা দেয়া হয়নি- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবার পোনা ক্রয় করে সেসব জায়গায় দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়