শুধু কি সাহেদরাই দায়ী

আগের সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষের টেঁটা হামলায় নিহত ২

পরের সংবাদ

রাজস্ব আয়ে গতি আসুক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ

চলতি অর্থবছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়ায় রাজস্ব ঘাটতি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। গত ২ মাসে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার ১৬২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। মহামারিকালে মানুষের আয়-উপার্জন কম। ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে। আমদানিও কম। তাহলে ট্যাক্স আসবে কোত্থেকে? দোকানপাটে বিক্রি নেই, ফলে ভ্যাট আদায়ও কম। এর মধ্যে জুলাই-আগস্ট সময়ে ভ্যাট থেকে ১৫ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১০ হাজার ২০ কোটি টাকা এবং আমদানি শুল্ক থেকে ১৫ হাজার ২৬২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ভ্যাট থেকে ৭ হাজার ৭৩২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৪ হাজার ২১৯ কোটি এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ৪২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল। এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, ভ্যাট থেকে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ থেকে ৩ হাজার ৬৭০ কোটি ২৬ লাখ এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৪ হাজার ৯২৯ কোটি ৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, গত দুই মাসে ভ্যাট থেকে ৯ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৮ হাজার ৮০৩ কোটি এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার-আয়তন, বাণিজ্যসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত আমলে নিলে নির্দিষ্ট রাজস্ব আহরণ কঠিন কিছু নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এটা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য ছিল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে আয় বাড়বে। কিন্তু ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলেও লক্ষ্যমাত্রার উন্নতি নেই। এতে ভ্যাট আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা আদায় কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে এনবিআরের জন্য। এমনি পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করের আওতা বাড়ানোসহ নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা খুবই শ্লথ গতির। ২০২১ সালে আমাদের লক্ষ্য মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে পৌঁছানো। এ জন্য অপরিহার্য শর্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ নিশ্চিত করা। বিনিয়োগ বাড়াতে পারলেই কেবল এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। রাজস্ব আয় বাড়ানো এর শর্ত। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দরকার করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি। সেখানে রাজস্ব প্রদানে সেবা নিশ্চিত, অনুক‚ল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইন-কানুন সময়োপযোগী করা গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পনাজনিত সমস্যা তো রয়েছেই, সঙ্গে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক নানা জটিলতা। আছে দুর্নীতির অভিযোগও। এসব বিষয়ে সরকারকে আরো জোরালো ভ‚মিকা নিতে হবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়