খাদ্যনালী কেটে ফেলার অভিযোগ

আগের সংবাদ

ইবির ১৩ তম উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম

পরের সংবাদ

মোস্তাফিজের মন খারাপ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ

শ্রীলঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া শর্তে ভেস্তে গেছে টাইগারদের লঙ্কা সফর। করোনার মধ্যেও মাঠে ফেরার আশায় নিজেদের তৈরি করেছিলেন ক্রিকেটাররা। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় মিশন সামনে রেখে প্রস্তুতিটাও চলছিল পুরোদমে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের সব আশাই আপাতত শেষ। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় দল, হাই পারফরমেন্স (এইচপি) ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সমন্বয়ে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টাইগার প্রশাসন। টাইগারদের লঙ্কা সফর না হওয়ায় মন খারাপ পেসার মোস্তাফিজের। সবার মতো কাটারমাস্টারও হতাশ। তারও মন খারাপ। পাশাপাশি একটা অন্যরকম আফসোস-আক্ষেপও আছে তার, যা নেই আর কারো। বলার অপেক্ষা রাখে না, মোস্তাফিজের সামনে ছিল আইপিএল খেলার হাতছানি। গত বছর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলা কাটার মাস্টারকে এবারো পেতে আগ্রহী ছিল তিন বড় দল কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। তার ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রস্তাব ছিল ১ কোটি টাকার।

আম-ছালা দুটোই গেল মোস্তাফিজুর রহমানের! না খেলা হলো আইপিএলে না হলো দেশ মাতৃকার কল্যাণে লঙ্কা বধের মিশনে নামা। আইপিএলের চলতি আসরে খেলতে পারলে ১ কোটি টাকা শুধু চুক্তি বাবদই পেতেন। দৈনন্দিন ভাতা তো ছিলই। সব মিলে এক মাসের এই আসরে ১ কোটি টাকারও অধিক আয়ের সুযোগ ছিল দেশসেরা এই পেসারের। কিন্তু দেশের কথা ভেবে মোটা অঙ্কের এই আয় জলাঞ্জলি দিলেন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! শেষ বেলায় এসে শ্রীলঙ্কা সিরিজও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল।

কোটি টাকা নয়, দেশ আগে। এই ভাবনা থেকেই কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ডাকে সাড়া দেননি কাটার মাস্টার। এরপরও যখন গাইগুই করছিল তখন দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শরণাপন্ন হতে বলেছিলেন। তারা হয়েছিলেনও। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। শ্রীলঙ্কা সিরিজ সমাগত বিধায় দুই ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই বিসিবি শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেয়।

মোস্তাফিজও এতে বিন্দুমাত্র কষ্ট পাননি। আর যাই হোক দেশের কল্যাণেই তো। কিন্তু ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন নিয়ে লঙ্কান সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে পরশু বিসিবি সভাপতি যখন জানিয়ে দিলেন সিরিজটি এই মুহূর্তে হচ্ছে না তখন তো তার কষ্ট হওয়ারই কথা। আর যাই হোক, করোনাকালে ক্রিকেটহীন থাকায় যে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন তার কিছুটা হলেও তো আইপিএল খেলে পুষিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো তেমন কোনো কষ্ট বা খেদ তার নেই। বরং যা হয়েছে তা নিয়তি বলেই মেনে নিচ্ছেন অভিষেকেই চমকে দেয়া এই টাইগার পেসার।

মোস্তাফিজ বলেন, আমাদের সবার মন খারাপ। মাঠে ফেরার সুযোগ এসেছিল। মনে হচ্ছিল করোনার ভয়াল থাবার ভেতরেও আমরা আবার ক্রিকেটে ফিরব। আবার বল ও ব্যাট হাতে মাঠে নামব। টেস্ট খেলার আশায় প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। আমি সাদা বলের চেয়ে লাল বলেই অনুশীলন করেছি বেশি। কিন্তু হায়! শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল হয়ে গেল। সবার মতো আমারও মন খুব খারাপ।

মন খারাপের পাশাপাশি আফসোসও হচ্ছে। কলকাতা ও মুম্বাই থেকে যোগাযোগ করেছিল। আমাকে পেতে খুবই উৎসাহী ছিল তারা। এছাড়া ব্যাঙ্গালুরু থেকেও শেষ দিকে ফোন করেছিল। শ্রীলঙ্কা সফর না থাকলে হয়তো আমি ঠিকই চলে যেতাম আইপিএল খেলতে। গেলে যে সব ম্যাচ খেলতে পারতাম তা বলব না। তবে দলের সঙ্গে থাকা হতো, প্র্যাকটিস করা যেত। নিজেকে ধীরে ধীরে তৈরি করতে পারতাম। এক সময় ম্যাচ খেলার সুযোগ চলে আসত। আমার ক্যাটাগরিতে প্রস্তাবটা ছিল ১ কোটি টাকার। তা থেকেও বঞ্চিত হলাম। সব মিলে খারাপই লাগছে।’

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়