চালের দাম নির্ধারণ করে দিলো সরকার

আগের সংবাদ

মানবিক বাংলাদেশ দিবস ও উন্নয়নের রূপকার

পরের সংবাদ

নীলা হত্যাকাণ্ডে শঙ্কিত সমাজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ১০:১৪ অপরাহ্ণ

ভালোবাসার প্রাপ্তি সৌন্দর্য আনয়ন করে। সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত বলে সৌন্দর্যই সেখানে মুখ্য প্রাপ্ত হয়। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত ভালোবাসা অসহনীয় করে তুলে। তাই বলে প্রত্যাখ্যাত ভালোবাসার বদৌলতে আর্তনাদের হাহাকার কাম্য নয়। পরাজয়কে বরণ করার মাঝেও কোনো শিল্পিত সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়, সেটা অনুধাবন করতে হবে।
কিছুদিন আগে সাভারের ঘটনা সে রকমই বীভৎসতার জন্ম দেয়। নীলার বড় ভাই নীলাকে রিকশাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে কিছু দূরে যাওয়ার পর বখাটে মিজান রিকশার গতিরোধ করে। অস্ত্রের মুখে নীলাকে টেনেহিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে গলায়, পেটে, মুখে ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। সর্বস্বান্ত নীলা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুর হাতছানিকে আলিঙ্গন করে। সেখানে শাশ্বত প্রেমের মাধুর্যতা থাকলে হত্যার মাধ্যমে উগ্র কামনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাত না।
পরিবারের মাঝে বেড়ে ওঠা প্রিয় মেয়েকে হারানোয় মা-বাবার বিলাপ ধ্বনিত হয়ে আসে। স্নেহময়ী আদরের বোনকে হারিয়ে হয়তো বারবার মূর্ছা যাচ্ছে বড় ভাইটি। পৈশাচিকতার চরম মুহূর্তের যাতনা ধেয়ে আসে। এ যাতনা ভালোবাসার মলিনতায় ছাপ ফেলে। শোকে কাতর পরিবারের মানুষগুলো। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ। পরিবারের মাঝে বোনের অন্যতম নিরাপদ স্থান ভাই। সেই ভাইয়ের কাছ থেকে বোনকে ছিনিয়ে নেয়া মানে নিজেকে অপরাজেয় হিসেবে উপস্থাপন নাকি আতঙ্কের রাজত্ব জানান দেয়া! খরবটুকু আমাদের ব্যথিত করে তুলে। পরিবারের ক্রন্দন রোল আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আসে। অপরাধবোধ বারবার তাড়িত করে। ভাই হয়েও বোনকে আগলে রাখতে পারেনি, অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করতে হয়। এ অসহায়ত্ব যে খুবই কঠিন। এটা আমাদের জন্য কখনো সুখকর সংবাদ হতে পারে না। চরম অসহায়ত্বের গ্লানিতে নিমজ্জিত থাকে ভুক্তভোগীর পরিবার! নিস্তব্ধতায় আঁধার ধেয়ে আসে বারবার। ফলে পৈশাচিকতা গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলে।
সমাজের প্রতিটি স্তরে ক্ষেত্রবিশেষে অপরাধপ্রবণতা কম-বেশি ঘটতে দেখা যায়। চরম পর্যায়ে ঘটিয়ে সেটি থেকে উত্তরণের কোনো সুযোগ না থাকলে শান্তির পরিবর্তে অশান্তির ঘনঘটাই বাড়তে থাকবে। মানুষের মাঝে যখন এক ধরনের লোলুপতা কাজ করে তখনই সে নিকৃষ্ট কাজ করতে উদগ্রীব হয়। পৈশাচিক কাজ থেকে পিছপা হতে পারে না। হতে পারে সেটা একপেশে সংক্ষুব্ধ ভালোবাসার মতো। সেটাও মেনে নিতে হবে পুরুষের নৈকট্য থেকে! নারীর কাছ থেকে ‘না’ শব্দটি তারা কখনো শুনতে চায় না। একপেশে ভালোবাসার মাঝেই অপরের ভালোবাসা আদায় করার অভিনব পন্থা খুঁজে। ভাবতে থাকে, সেখানে তার ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠত্বে মহিমান্বিত। অপরের ভালোবাসা জোর করে আদায়ের মাঝেও অপরাধবোধ তাড়িত করে না। অপরকে নিজের করায়ত্ত করতে পারাটাই মৌলিকতা।
আমাদের দেশে ইভটিজিং কিংবা এসব নেতিবাচক ঘটনা ধৈর্যের অসীমতায় ঠেকেছে।
মনে প্রশ্ন জাগে, এসব মিজান কি সমাজে একটাই নাকি আরো তৈরি হচ্ছে। এসব মিজান একটা নয়, এরা বারবার তৈরি হয়, বারবার এরা রাজত্ব কায়েম করে। এসব মানুষ কখনো সভ্য হতে পারে না। এদের থেকেই সমাজকে রেহাই পেতে মা-বাবার বলিষ্ট ভ‚মিকা থাকতে হবে। অথচ সমাজ ব্যবস্থা কতটুকু অবনতি হলে মা-বাবা তার সন্তানকে অপরাধে উৎসাহ জোগাতে পারে। মিজানের মা-বাবাকে বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নীলার মা-বাবাও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে এক সময় সাভার ত্যাগ করেন। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি! নীলার জীবনটা এত সহজেই স্তম্ভিত করে দিল বখাটে মিজান! একটি মেয়ের জন্ম থেকে স্বাভাবিকতা বা স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে ওঠা সবই নির্ভর করে আমাদের পরিবর্তনশীল সমাজ কাঠামোর ওপর। নাকি আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজে এখনো মেয়ের জন্মই মানে পরিবারের ভয়!

ব্যাংক কর্মকর্তা ও লেখক।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়