‘লং ডিস্টেন্স’ পাঠে ছন্দপতন

আগের সংবাদ

ডিএমপির দুই ডিসিকে হঠাৎ বদলি

পরের সংবাদ

হেফাজতে বিভক্তি

আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি খুন!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ , ১:৪০ অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের সদ্যপ্রয়াত মহাসচিব আমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি। একদল বলছে, তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তাকে খুন করা হয়েছে। এর সঠিক তদন্ত করতে হবে। অন্যপক্ষ বলছে, স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন আহমদ শফী। তদন্ত করার অর্থ হবে, কবর থেকে ফের তার লাশ উত্তোলন করা। আর তা করলে ‘হুজুরের’ সঙ্গে চরম বেয়াদবি করা হবে। এগুলো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাছ বলেন, মাওলানা আহমদ শফী সাহেবের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। একটি শক্তি হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যার পরিণতিতে আহমদ শফী সাহেবের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু খুনের শামিল। এর জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। আহমদ শফীর মৃত্যুর পর ছেলে আনাস মাদানীসহ তার অনুসারীরা অভিযোগ করে আসছেন, আন্দোলনের সময় ছাত্ররা আহমদ শফীর কক্ষ ভাঙচুর করেন। জোর করে তার কাছ থেকে পদত্যাগ নেয়া হয়। তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যথাসময়ে হাসপাতাল যেতে দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে দলের একটি অংশ ও হাটহাজারী মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বিবৃতিতে বলা হয়, হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সদ্যপ্রয়াত মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করা নির্জলা মিথ্যাচার। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীনস্বার্থ উদ্ধারে আহমদ শফীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করা ও কওমি অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।

এতে আরো বলা হয়, শাহ আহমদ শফী স্বজ্ঞানে এবং স্বেচ্ছায় মাদ্রাসার শূরা কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তার মৃত্যুতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত মর্মাহত। মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিয়মিত ক্লাস চলছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক সবাই সন্তুষ্ট। বিবৃতিদাতারা হলেনÑ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির প্রধান মুফতি আবদুস সালাম, সদস্য শেখ আহমদ এবং মাওলানা ইয়াহিয়া, প্রধান শায়খুল হাদিস এবং শিক্ষাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা শুয়াইব, মুফতি জসিম উদ্দিন, শিক্ষক কবির আহমদ, আশরাফ আলী নিজামপুরী, আহমদ দিদার কাসেমী, ফোরকান আহমদ প্রমুখ।

অন্যদিকে আলোচিত ফেসবুক আইডি উসামা মুহাম্মদের টাইমলাইন থেকে কওমি ভিশনের ব্যানারে গতকাল সোমবার পোস্ট করা একটি ভিডিওতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আহমদ শফী সাহেবের মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে হয়নি। তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। যখন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন তাকে মজলিশে শূরার সদস্যরা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও শ্বাসকষ্ট ছিল। তাই পরে তাকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাবুনগরী আরো বলেন, হজরতকে কেউ খুন করেনি, খুন করার কোনো প্রশ্নই আসেনি।

তিনি আরো বলেন, কেউ কেউ বলছে, এটা সরকারিভাবে তদন্ত করা হোক। এটা যদি করা হয় তবে হজরতের লাশ কবর থেকে তোলা হবে। এটা করলে হজরতের সঙ্গে চরম বেয়াদবি, চরম বেইজ্জতি করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে টানা দুইদিন ধরে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-ভাঙচুরের পর ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন আহমদ শফী। ওই বৈঠকে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক শফীপুত্র আনাস মাদানীকে এবং শফীর অনুসারী আরেক শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ ও হেফাজতের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিরোধের একপর্যায়ে জুনাইয়েদ বাবুনগরীর অনুসারীরা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গড়ে তোলে বলে জানা গেছে। মাদ্রাসায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির নেপথ্যে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামের নেতারা ইন্ধন জোগায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়