ফরেনসিক পরীক্ষায় যাবে তিন তারকার ফোন

আগের সংবাদ

মোদিকে দুষলেন আফ্রিদি

পরের সংবাদ

দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি

রংপুরে ১৪ ঘণ্টায় ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

হাসান গোর্কি, রংপুর থেকে 

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অবিরাম বর্ষণে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ড ও জেলার ৮ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের প্রধান মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, ১৪ ঘণ্টায় রংপুরে ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি জানান, শত বছরেও রংপুরে এরকম বৃষ্টি হয়নি। এতে করে নগরীর শতাধিক পাড়া-মহল্লার প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, আরো দুয়েক দিন বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শরতের এই মধ্য সময়ে শনিবার রাতে আকাশ কালো করে অঝোর ধারায় শুরু হয় বৃষ্টিপাত। সেই সঙ্গে থেমে থেমে চলে মেঘের গর্জন। গতকাল সকাল পর্যন্ত চলা অবিরাম বর্ষণে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা কোমর থেকে হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। নগরীর বেশির ভাগ বাড়িঘরের ভিতর পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে মানুষ। অঝোর ধারার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র অবলম্বন শ্যামা সুন্দরী ও কেডি ক্যানেল। ভেঙে পড়েছে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। নিষ্কাশন সুযোগ না থাকায় পানিতেই চলছে যাতায়াত। নগরবাসী বলছেন ৪০-৫০ বছরেও এমন বৃষ্টিপাত দেখেননি। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাতেও নগরীতে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হয়নি রংপুর নগরীতে। প্রবীণ ইতিহাসবিদ মতিউর রহমান বসনীয়া বলেন, বিগত ৫০ বছরেও এরকম টানা বৃষ্টি দেখেননি তিনি। দেখেননি নগরীর প্রধান সড়কে কোমর পানি জমে থাকতে। এ সময় নগরীর বেশ কিছু এলাকায় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। ডিসি অফিস সংলগ্ন টেসিস ক্লাবের সামনের কৃষ্ণচ‚ড়া এবং রংপুর কলেজ সড়কে একটি গাছ পড়ে বিদ্যুৎ বিঘ্নসহ জন ও যান চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। সকালে প্রধান সড়কের কোমর পানির মধ্যে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। পানির কারণে খোলেনি নগরীর অনেক দোকানপাট।

নিচু এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। ৩৩ ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তা কোমর থেকে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর শাপলা চত্বর, শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, বোতলা, খেড়বাড়ি, বাহারকাছনা, মাস্টারপাড়া, জুম্মাপাড়া, হাজীপাড়া, চামড়াপট্টি, করণজাই রোড, সেনপাড়া, নিউ

সেনপাড়া, আদর্শপাড়া, বাবুখাঁ, কামার পাড়া, কেরানীপাড়া, আলমনগর, হনুমানতলা, মুন্সিপাড়া, মুলাটোল আমতলা, গনেশপুর, বাবুপাড়া, লালবাগ কেডিসি রোড, বাস টার্মিনাল, কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, কলাবাড়ি দর্শনা, মর্ডান মোড়, মেডিকেল পাকার মাথা, জলকর, চিকলী বিল সংলগ্ন রাধাবল্লভ, নিউ জুম্মাপাড়া, খটখটিয়াসহ শতাধিক পাড়া-মহল্লার অলিগলিসহ প্রধান সড়কে পানি উঠেছে।

নিচু এলাকার বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয় স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। নিজ বাড়িতে পানি উঠায় রান্না করতে না পারায় দুর্ভোগ উঠেছে চরমে। অবিরাম বৃষ্টিতে বাড়ির ভেতরে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। রাধাবল্লভ এলাকার ভ্যানচালক বাবলু মিয়া বলেন, তার বাড়ি গলা পর্যন্ত তলিয়ে গেছে। ইট দিয়ে বিছানা উঁচু করে তার উপর অন্যান্য জিনিসপত্র রেখেও তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। অনেক স্থানের ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে জেলার তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীর নিম্নাঞ্চলে আবারো দেখা দিয়েছে বন্যা। ভারি বর্ষণ ও আর বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি জমি, ফসল আর পুকুর-বিল তলিয়েছে পানিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম শ্যামা সুন্দরী খাল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়াতে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে খালের পানি কমে আসলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানিবন্দি এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে আসবে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ভারি বর্ষণে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমি সব কাউন্সিলারকে বলেছি যারা পানিবন্দি আছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। পয়ঃনিষ্কাশনের খাল ভরাট হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি সরে গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, আমরা পানিবন্দি মানুষের পাশে থেকে যথাসাধ্য সহায়তার চেষ্টা করছি।

এসআর