শেখ হাসিনার জন্মদিনে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

আগের সংবাদ

উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের তফসিল ঘোষণা

পরের সংবাদ

শেখ হাসিনার জন্মদিন

বাঙালির ‘মুক্তি সংগ্রাম দিবস’ হিসেবে পালিত হোক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ৪:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ৪:০৮ অপরাহ্ণ

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর,বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে জাতির পিতার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াতেই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রাণপ্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন।

গ্রামের আকাঁ-বাঁকা মেঠো পথ,পাখির কলকাকলি আর বাইগার নদীর ঢেউয়ের সাথে শৈশব-কৈশোর কেটেছে তাঁর।শিক্ষা জীবন শুরু হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াতেই।গ্রামের পাঠশালায় প্রথম শিক্ষাজীবন শুরু। ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রীসভায় বন ও কৃষি মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি প্রথমবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। তার আগে দাদা, দাদি, মা আর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে টুঙ্গিপাড়ায় থাকতেন। ১৯৫৬ সালে ভর্তি হন টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। শহুরে জীবনের চাইতে গ্রামই তার অধিক প্রিয়। ছুটি পেলেই চলে যেতেন গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ায়। গ্রাম হবে শহর এই স্লোগান তারই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বাইগার নদীর ঢেউ আর পাখির কলকাকলি বেশ উপভোগ করতেন তিনি। সেকথা নিজেই লিখেছেন তাঁর রচনাসমগ্রে।

১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন আর ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। ১৯৬৭ সালেই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে। শিক্ষা এবং শিক্ষকদের প্রতি তার শ্রদ্ধার নিদর্শন চেখে পড়ার মতো। যা আমরা তার শিক্ষক অধ্যাপক ড.আনিসুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের মুখে বহুবার শুনেছি।

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে স্কুল জীবন থেকে প্রত্যক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত হন রাজনীতির সঙ্গে। ১৯৬৬-৬৭ সালে ছাত্রলীগ থেকে ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ছিলেন রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বাঙালির মুক্তি আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে অংশ নিয়েছেন। আইয়ুব-বিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সে কারণে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বিশ্বের অন্য যে কোনো নেতার থেকে আলাদা। এখন তিনি শুধু জাতীয় নেতাই নন, বিচক্ষণ বিশ্ব নেতাদের অন্যতম। সর্বশেষ ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘মাদার অব হিউম্যানটি’র খ্যাতি অর্জন করেছেন।

কারাবন্দী পিতা বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে, ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড.এম.এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে মা, বোন, ছোটভাই রাসেলসহ বন্দী ছিলেন। প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদের জন্ম মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই। দেশ স্বাধীন হবার পর তারা মুক্তি পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে, শেখ হাসিনা তার মাত্র ১৫ দিন আগে দেশ ছেড়েছিলেন জার্মানিতে গবেষণারত স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। সেদিন আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের বাইরে থাকায় দৈবক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর অতি আদরের দুই কন্যা।

শেখ হাসিনা

স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে পুরো পরিবারকে হারিয়ে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ এই ছয় বছর প্রবাসে নির্বাসিত ও কষ্টের জীবন কাটাতে হয় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখে। ১৯৮১ সালে ফেব্রুয়ারির ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। একই বছরের ১৭ মে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। সেই সময় দেশে ফেরা শেখ হাসিনার জন্য সুখকর ছিলো না। জিয়াউর রহমানের সামরিক দুঃশাসনের এই সময়ে দেশে জাতির পিতার ছবি এবং জয় বাংলা স্লোগান ছিলো নিষিদ্ধ। তারপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ ও বাঙালির প্রয়োজনে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

দেশে ফেরার পর থেকেই নিরলসভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত অসংখ্য বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালায় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। বাংলার মানুষের ভালোবাসায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আঘাত এলেও তিনি কখনও মাথা নত করেননি। দেশে ফিরেই তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। জনগণ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গড়ে তুলেছিলো দুর্বার আন্দোলন। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে স্বৈরাচারের সঙ্গে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেননি। এদেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত একতরফা নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন নি। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কোন নির্বাচন জনগণের অধিকার আদায়ের আর কোন নির্বাচন স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার। দীর্ঘ একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে দলকে সরকারে আনেন তিনি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। দেশের মানুষের সামগ্রিক মুক্তির যাত্রা শুরু করেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হারানো হলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর জোট সরকারের অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। ২০০৪ সালের গ্রেনেড মেরে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সে হামলায় দলের নেতাকর্মীদের মানববর্ম শেখ হাসিনাকে প্রাণে বাঁচালেও আওয়ামী লীগ মহিলা সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ২০০৬ সালের পর তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়, জেলে পাঠানো হয় অনৈতিকভাবে, কিন্তু কোনো ঘাত প্রতিঘাত তাঁকে দমাতে পারেনি। ষড়যন্ত্র কখনই পিছু ছাড়েনি তাঁর, এতে অবশ্য তিনি কখনই বিচলিত নন। দমে যাননি শেখ হাসিনা। বরাবরের মতোই শোককে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের কল্যাণে নিজেকে হিমালয়-সম অটল রেখেছেন।

২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত টানা তিনবারসহ চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। ২০০৯ থেকে ২০২০ এই ১১ বছরে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে ইতিহাসের এক স্বর্ণযুগে। একমনে ও ধ্যানে পিতার অঙ্গীকার পূরণে নির্ভীক চিত্তে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার অনন্য রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের পিছেয়ে পড়ে থাকার কারণ। তিনি ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিকতা এই তিনটি বিষয়ের ওপর গভীর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়ক উন্নীত করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বাংলাদেশ বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দুদকে তখন বানিয়ে রাখা হযেছিলো নখদন্তহীন বাঘ। তিনি দুর্নীতিকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করছেন। যদি কোনো ভাবে দুর্নীতিতে ধরা পড়ে সেটা ছোট কিংবা বড় যে পর্যায়েরই হোক কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হচ্ছে না। এখন দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। এর কারণ হচ্ছে কোনো দুর্নীতি ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যা এর আগে আমরা দেখতে পাইনি। বিএপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আমরা দেখেছি দেশ বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কিন্তু দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হয় নি। দুদক ছিলো নিশ্চুপ। এখন শেখ হাসিনা, সিস্টেমই যেন দুর্নীতিকে ধরে ফেলতে পারে সেদিকে ধাবিত হচ্ছেন। সেজন্য তিনি ডিজিটালাইজেশনের দিকে জোর দিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে সেদিকে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা

বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনেও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে বিচার ব্যবস্থা। আগে বিচার বিভাগে সরকার নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করতো। শেখ হাসিনা এর পরিত্রাণ ঘটিয়েছেন। যার কারণে এখন উচ্চআদালত এবং নিম্নআদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। এদেশের জাতির পিতার হত্যার বিচার হয়েছে সাধারণ অপরাধীদের বিচার যেভাবে হয় ঠিক সেভাবে। দেশের মানুষের দাবি ছিলো জাতির পিতার হত্যাকারীরা যাতে কোনো ধরনের আপিল করতে না পারে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণ ভিক্ষা চাইতে না পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোনো রাষ্ট্রনায়ক হত্যার বিচার পর্যবেক্ষণ করলে আমরা সেটাই দেখতে পাবো। সেখানে রাষ্ট্রনায়কদের হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হয় এবং অপরাধীদের আপিলের কোনো সুযোগ থাকে না। কিন্তু শেখ হাসিনা তা করেন নি। তিনি আমাদের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেছেন। অপরাধীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সর্বোচ্চ সুযোগ দিয়েছেন।

একই ঘটনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি করেছেন। তখনকার গণজাগরণ মঞ্চসহ সাধারণ মানুষের দাবি ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ না দেয়ার। বিশ্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য যে সকল ট্রায়াল গঠিত হয়েছিলো সেখানে অপরাধীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। আমরা যদি নুরেনবার্গ ট্রায়াল দেখি তাহলে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পাবো। কিন্তু শেখ হাসিনা সবকিছুকে পিছনে ফেলে বিশ্বে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। যা এর আগে আমরা বিশ্বের কোথাও দেখতে পাইনি।

তিনি প্রশাসনকে ধীরে ধীরে মেধাবীদের নিকট নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করেছেন। নতুন নতুন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে। তাঁর গৃহীত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের ফলে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তাঁর প্রদত্ত ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এই বাংলাদেশকে আগামী ১০০ বছর পরে আমরা কেমন দেখতে চাই তার পরিকল্পনাও করে রেখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। সেই লক্ষ্যে তিনি ভিশন ২১০০ ঘোষণা করেছেন এবং ২১০০ সালের মধ্যে এর বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। তিনি সংগ্রাম করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কিন্তু মুক্তির সংগ্রাম শুরু করে বাস্তবায়ন করে যেতে পারেন নি। স্বাধীনাতবিরোধী চক্র তা বাস্তবায়ন করতে দেয় নি। বাস্তবায়নের আগেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। সেই মুক্তির সংগ্রামটি হচ্ছে স্বাধীন দেশে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাব থেকে মুক্তি। পিতার এই অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন এই সবকিছুর সঙ্গে জড়িত হচ্ছে অর্থনীতি। যদি অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে তাহলে এই কাজগুলো সহজেই ঘটবে এবং বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম বাস্তবায়িত হবে।

১৯৭৫ এ বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ১০০ ডলার বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা তা দুই হাজার ডলারের ওপরে নিয়ে গেছেন। দরিদ্র মানুষের অন্নের ব্যবস্থা করতে তিনি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বংসম্পূর্ণ। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। চিকিৎসা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

এখানে দুটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিশ্বের অনেক ধনী দেশেও চিকিৎসা সেবা এবং শিক্ষা বিনামূল্যে দেয়া হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে এই দুটি একেবারেই বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে দেয়া হচ্ছে বাড়তি সুবিধা। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে টিফিন ও উপবৃত্তি। মাধ্যমিকেও শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। উচ্চশিক্ষায় দেয়া হচ্ছে স্কলারশিপ। তার ওপর হত দরিদ্রদের জন্য সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম তো আছেই।

যেকোনো বৈশ্বিক দুর্যোগে সবার আগে এগিয়ে যান শেখ হাসিনা। এই করোনার সময় আমরা দেখেছি তাঁর নিরলস পরিশ্রমের কারণে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনেক কম। এই মহামারি থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করে মানুষর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একাই লড়ছেন তিনি। সংকট মোকাবেলায় নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি দুর্গত মানুষকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি তদারকি করেছেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষায় সুদৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন। একাধিক ভিডিও কনফারেন্সিং করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে। আহ্বান জানিয়েছেন বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার। বিশ্বে শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। আমরা এখন পর্যন্ত বিশ্বে তাঁর মতো মানবিক নেতা দেখতে পাইনি। একথা একবারে উদাহরণ দিয়ে বলা যায়। করোনাকালীন অনেক দেশ তাদের দেশে যে সব বিদেশি শ্রমিক কাজ করে তাদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আবার অনেক দেশ পাঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে তিনি ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে রেখে তাদের খাইয়ে-পরিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাই।

শেখ হাসিনা

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেছে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে, দেশের উন্নয়ন করেছে, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বও এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগের হালধরে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনাও মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। শেখ হাসিনার কল্যাণে প্রতিটি সেক্টরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে, বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয়, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হয়েছে। দেশ তথ্য-প্রযুক্তিসম্পন্ন হয়েছে তাঁরই নেতৃত্বে। আজকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয় বাস্তবতা, ঘরে বসে পৃথিবীর সব খবর পাচ্ছে এদেশের মানুষ, প্রয়োজনীয় কাজও সারছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। এই নতুন তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা। তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন, অগ্রগতির মহাসোপানে।

এখন তাঁর জীবনের একটাই প্রত্যয়: জাতির পিতার ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’ গড়ার। সে প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত মুক্তি সংগ্রাম বাস্তবায়নের শেষ প্রান্তে। এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। তিনি দেশের নেতৃত্বে থাকলে সফল ভাবে করে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে। শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিচ্ছেন। নিশ্চিত করছেন এদেশের মানুষের সমৃদ্ধ জীবন যাপন। তাই এখন থেকে প্রতিবছর (২৮ সেপ্টেম্বর) শেখ হাসিনার জন্মদিনটি পালিত হোক বাঙালির “মুক্তি সংগ্রাম দিবস” হিসেবে। প্রাণপ্রিয় নেত্রী আপনার জন্মদিনে জানাই অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

লেখক: উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়