মাছ শিকারে গিয়ে বৃদ্ধ নিখোঁজ

আগের সংবাদ

ধর্ষণের ভয়াবহতা ও শিকার

পরের সংবাদ

পার্বতীপুরে ‘নতুন অতিথি’

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:২৫ অপরাহ্ণ

মাস খানেক হলো পার্বতীপুর শহরে এক ‘নতুন অতিথি’র আগমন ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পার্বতীপুর শহর তার চষে বেড়ানোর কাজ শেষ। তবে, শহরবাসীর কেউ জানেন না, আর কতদিন? তিনি এখানে অবস্থান করবেন। যদিও এক স্থানে অবস্থান করা তার স্বভাব বিরুদ্ধ। তারপরও হয়তো শহরবাসীর আশাতীত আন্তরিক আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়ে এতোদিন এখানে অবস্থান করছেন। অনেকের ধারনা আন্তরিকতায় ব্যত্যয় হলে যেকোন মুহুর্তে শহর ছাড়তে পারেন তিনি। কখনও গাছে, কখনো ভবনের ছাদে, আবার কখনো বা মোবাইল ফোন টাওয়ারে অবস্থান নিলেও গত সপ্তাহ খানেক ধরে তিনি শহরের কেন্দ্র স্থল সিংগার মোড়ের পাকুড় গাছে অবস্থান নিয়েছেন।

সোমবার সকালে তার অবস্থান পার্বতীপুর শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইয়ংস্টার কাব চত্ত্বরে। তাকে ঘিরে জমে ওঠে কৌতুহলী মানুষের ভীড়। সবাই তার দৃষ্টি কাড়তে তাকে কলা, আপেল, পেয়ারা, চীনা বাদামসহ নানা ফলমুল ও কেক, রুটি দিয়ে আপ্যায়ন করতে থাকে। এভাবে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকায় এক সময় বিরক্ত সে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

যাকে নিয়ে এতো কথা, তিনি এ অঞ্চলের কেউ নন। ঐতিহাসিক গ্রন্থ মহাভারতে বর্ণিত লঙ্কারাজ রাবনকে যাদের সহযোগিতায় বধ করে অযোদ্ধার রাজপুত্র রাম সীতাকে উদ্ধার করেন, তিনি তাদেরই বংশধর রাম ভক্ত ‘বীর হনুমান’। পার্বতীপুরে তার আগমন নিয়ে স্থানীয়দের নানা অভিমত। কেউ বলছেন, দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আমদানী করা চাল, গম, পিয়াজের ট্রাকে চড়ে দলছুট কালোমুখ হনুমানটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তবর্তী হাকিমপুর থেকে ডাঙ্গাপাড়া, বিরামপুর, ফুলবাড়ী হয়ে দীর্ঘ ৭০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে সে পার্বতীপুর পৌছে। অন্যদের ধারনা, বাংলাদেশে হনুমানের প্রধান আবাস যশোরের কেশবপুর উপজেলা থেকে কলাবাহী ট্রাকে চড়ে হনুমানটি পার্বতীপুরে এসেছে। এখানে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়ানুভূতি পাওয়ায় হনুমানটি এতো দিন ধরে শহরে অবস্থান করছে। তবে, কেউ বিরক্ত করলে মুহূর্তে অবস্থান পরিবর্তন করে সে।

বিরল প্রজাতির এই কালোমুখ হনুমান দীর্ঘ দিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় শহরে ঘোরাফেরা করায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন শহরের জেষ্ঠ্য নাগরিকরা। তাদের মতে, দ্রুত হনুমানটিকে ধরে সরকারি চিড়িয়াখানা কিংবা জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তর করা হোক।

এ ব্যাপারে সোমবার দুপুরে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মোকছুদুল আলম জানান, হনুমানটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এটিকে ধরতে গিয়ে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ আশংকায় এতোদিন হনুমানটিকে সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান বা সার্ফারি পার্কে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে শীঘ্রই হনুমানটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উৎসুক দর্শকরা ঢিল ছুড়ে বা অন্য কোনভাবে যাতে বিরল প্রজাতির এ হনুমানটির কোন ক্ষতি না পারে সেজন্য তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আবেদন জানান।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়