শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বুধবার

আগের সংবাদ

শেখ হাসিনা একজন সাহসী, বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী নেত্রী

পরের সংবাদ

তোমার কর্মে চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ৮:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা। ৭৩ বা ৭৪ বৎসর একজন মানুষের জন্য সন্তুষজনক বয়স। কিন্তু কালের বা জাতীয় জীবনে এটি তেমন কোনো বয়স নয়। স্বাধীন বাংলাদেশ অর্ধশত বৎসর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। জাতীর পিতার জন্মশতবর্ষ ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপি করোনাভাইরাস ‘কোবিড-১৯’ গত ১০০ বৎসরের মাঝে সবচেয়ে মারাত্মক সংকট হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থিত হয়েছে। মানবজাতি নতুনভাবে বিশ্বব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। আপনি ব্যবসা বা শিল্প কারখানায় মুনাফার জন্য বেশি বিনিয়োগ করবেন না। প্রকৃতিকে রক্ষা করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশি বিনেয়োগ করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরসমূহ শুধু বিশ্ব নেতৃবৃন্দই নয় সাধারণ মানুষও এখন জানে। বিশ্ব ব্যবস্থার এই আধুনিকায়নের যুগে কোনো দেশ বা জাতি বিচ্ছিন্নভাবে কোনো ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে নিজ দেশে সীমাবদ্ধ রাখতে পারবে না, এটির প্রভাব বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। যার উদাহরণ আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেখতে পাচ্ছি।

বাংলাদেশ গত এক দশকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে একটি সমীহ জাগানো জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এটি শুধু ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বা মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনীতির অন্যান্য অনেক সূচকেই-যেমন অবকাঠামো নির্মাণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা অভ্যন্তরীণ অর্থের যোগান দেওয়ার সামর্থ অর্জনসহ অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে।

সাম্প্রতিক করোনা সংকটে অর্থনীতির মন্দাভাব স্পর্শ করেনি এমন জাতি বিশ্বে একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশেও নানাদিক থেকে সেই আঘাত এসেছে। বৈদেশিক শ্রমবাজার, তৈরি পোশাক রপ্তানি, চামড়া ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সংকট, পণ্য উৎপাদনের সংকট অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করছে।

এই বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকেও আমরা দেখেছি দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আবার অনেক বড় বড় দেশের নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতাও আমাদের চোখে পড়েছে। যুদ্ধ বা জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক সংকটের সময় যথাযত নেতৃত্ব দেওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেমিক জনদরদী সৎ ও যোগ্য নেতার কর্তব্য।

৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেমন সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে সশস্ত্র পাক সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তেমনি তাঁর কন্যা মানবতার জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে জাতির এই দুর্যোগের সময় সাফল্যের যাত্রা অব্যাহত রেখে চলেছেন। তিনি করোনাভাইরাস প্রতিরোধের উপায়সমূহ নিজে ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রচার করে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, সাহস যুগিয়েছেন। খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার বিষয়টি সাড়া বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে- তিনি মৌসুমী ফসল রক্ষা করার জন্য খুবই সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই বিষয়টি দেশে এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি ব্যতিক্রমী কল্যাণকর উদাহরণ হয়ে থাকবে যখন অনেকেই এর মাধ্যমে ব্যাপক করোনা সংক্রমণের সৃষ্টি হবে এবং পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আমরা দেখলাম তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে উত্তরবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কৃষি শ্রমিকদের ভাটি অঞ্চলে ধান সংগ্রহের জন্য পাঠালেন। সেই সঙ্গে তিনি ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আহ্বান জানালেন।

এই খাদ্যশস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় করোনা সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পায়নি। উপরন্ত জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সমূহ আসন্ন বিশ্ব খাদ্য সংকটেও বাংলাদেশের ভালো অবস্থানের প্রশংসা করেন। তৈরি পোশাক খাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের কাজে লাগানো বিশেষ করে করোনাকালে মাস্ক এবং পিপিই তৈরি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির বিষয়ে উৎসাহিত করেন। তিনি শিল্প ও ব্যবসা খাতে প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে করেছেন। নিজের দল, ১৪ দলের শরীক, সরকারি, বেসরকারি এবং বিরোধী রাজনৈতিক অনেক তাত্ত্বিকের অযৌক্তিক সমালোচনার মধ্যেও তিনি অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

করোনা সংকটের মাঝে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তিনি গরীব ও সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচি সমূহ বাড়িয়ে দেন। একদিকে অর্থের যোগান কম, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সরবরাহের ঘাটতি অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধির সংকটে তিনি বঙ্গবন্ধুর মতো সাহসী পদক্ষেপে তা মোকাবেলা করে চলছেন।

দেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সৃষ্ট সংকটটি আসলে বৈশ্বিক সংকটের অংশ। ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যেও তিনি কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধনের মাধ্যমে এটি মোকাবেলার চেষ্টা করে চলেছেন। সেই ক্ষেত্রেও দেশবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি জাতীয় সংসদে দেশবাসীকে জানিয়েছেন ‘কোভিড-১৯’ এর ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সরকার কাজ করছেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় আমাদের দেশের পরিসংখ্যানকে আন্তর্জাতিক উপাত্তের সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনায় আনলে পরে তাকে হতাশাব্যঞ্জক বলা যাবে না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশের চেয়েও ভালো আমাদের দেশের পরিসংখ্যান। সেই ক্ষেত্রেও দেশের মানুষের আস্থা বা ভরসার জায়গাটিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ-যেখানে বাংলাদেশের মানুষ তাঁর নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর দাঁড়িয়ে নিজের ভাগ্য নির্মাণ করতে পারবে। অপসংস্কৃতি, কুপমণ্ডুকতা গোড়ামী, পশ্চাৎপদতা, ক্ষুদ্র স্বার্থের আদর্শহীন গোলামী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জাাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সৎ, উদার, অগ্রসরমান, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত সমৃদ্ধ মানবিক সমাজ গড়ে তুলবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্নও ছিল একই। আজ ১৭ কোটি বাঙালির প্রত্যাশাও ঠিক তেমনি। শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হারানো, কোটি কোটি বাঙালির আত্মত্যাগ হারিয়ে যেতে পারে না। আমরা দেখেছি ৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের চাকাকে পেছনে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে অনেকদিন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে না এলে বাংলাদেশের আজকের ইতিহাস হয়তো অন্যরকম হতো। অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সামাজিক, স্বাস্থ্যখাত, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের এই যে এতো অগ্রসরতা অথবা আজ বাংলাদেশ যে বিশ্বদরবারে সম্মানজনক অবস্থায় পৌঁছেছে এটি বঙ্গবন্ধু কন্যার মেধা, শ্রম, সাহসিকতা ও দক্ষতার ফসল। এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, এটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন, এটি ১৭ কোটি বাঙালির স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণে তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন- নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ, আর এই আরাধ্য দেশ নির্মাণই বাঁচিয়ে রাখবে বঙ্গবন্ধুকে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অনন্তকাল ধরে। এর জন্য প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বের চলমান কল্যাণধর্মী, মমতাময়ী ও সাহসী নেতৃত্ব।

আল্লাহ বঙ্গবন্ধুকন্যাকে দীর্ঘ কর্মক্ষম, সুস্থ ও সফল জীবন দান করুন। শুভ হউক জন্মদিন, নির্মিত হউক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের- মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।

লেখক

লেখক: সাবেক উপ-উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়