দৌলতপুরে ফের সাংবাদিকের নামে আ.লীগ নেতার মামলা

আগের সংবাদ

লোমহর্ষক ঘটনা বর্ণনা করলেন গণধর্ষণের শিকার নববধূ

পরের সংবাদ

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ১:০৫ অপরাহ্ণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিচ্ছেন মাত্র ৮ জন চিকিৎসক। জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। এতে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কালিয়াকৈরের কয়েক লাখ মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে কালিয়াকৈর উপজেলার শ্রীফলতলী এলাকায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না থাকায় কোনোমতে চলছে হাসপাতালটি।

অপরদিকে ৩১ শয্যা হাসপাতালটির জন্য ২০ চিকিৎসক হাজির থাকার কথা থাকলেও চিকিৎসক আছেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার কালিয়াকৈর বাজার, সহকারী সার্জন চাঁপাইর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ ৪ জন চিকিৎসকের পদই শূন্য রয়েছে। ৬ জন চিকিৎসক আছেন প্রেষণে।

তারা হলেন- জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. সঞ্চিতা ভৌমিক, চা বাগান উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমও ডা. গাজী মাহাবুব রহমান, এমও (ইউনানী) ডা. ইসরাত জাহান, সহকারী সার্জন ডা. তাসনুভা জাহান, সহকারী সার্জন ডা. শরিফুন নাহার, সহকারী সার্জন ডা. আ ন ম মাইনুল কুদ্দুস। জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া ডা. এম এম আব্দুল ওয়াদুদ ও এমও ডা. আবুল খায়ের সালাউদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত আছেন। ওই দুজনের নামে বিভাগীয় মামলা রয়েছে। ৮ চিকিৎসকের মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি, ট্রেনিং, রাতে ও দুপুরে অফিস ডিউটি থাকে। এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার বলেন, সময় মতো হাসপাতালে উপস্থিত থেকে আরএমও হিসেবে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করি।

জানা যায়, হাসপাতালে রোগী এলেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের ব্যক্তিগত চেম্বারে পাঠানো হয়ে থাকে। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি ২ বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রবীর কুমার সরকারের অবহেলায় হাসপাতালটির অবস্থা এমন নাজুক। ডা. প্রবীর কুমারের বাড়ি হাসপাতাল থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে। ফলে কয়েকজন চিকিৎসককে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিজে যথেচ্ছভাবে হাসপাতাল চালাচ্ছেন। ডা. প্রবীর একজন নন-ক্যাডার এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার হয়েও বিসিএস ক্যাডারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদ দখল করে আছেন কয়েক বছর ধরে। অথচ বোর্ডে তার নামের পাশে ভারপ্রাপ্ত ব্যবহার করেন না।

হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, ভবন সংস্কার না করে টাকা আত্মসাৎ, খাবার সরবরাহের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে কমিশনের বিনিময়ে ঘনিষ্ঠজনকে দেয়া, হাসপাতালের গাড়ি নিজের চেম্বারের কাজে ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ডা. প্রবীরের বিরুদ্ধে। জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তাররা রোগীদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রবীর কুমার সরকার নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, ৫০ শয্যা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালটি। এর মধ্যে ৪টি পদ শূন্য, ৬ জন প্রেষণে, ২ জন অননুমোদিত অনুপস্থিত রয়েছেন। তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ৮ চিকিৎসক দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়