জন্মদিনের শুভেচ্ছাপত্র

আগের সংবাদ

নিষ্ঠা, সততা ও সাহসের মূর্তপ্রতীক

পরের সংবাদ

আমাদের আশ্রয়, আমাদের ভবিষ্যৎ

রামেন্দু মজুমদার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পথ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার শেখ হাসিনা প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে যখন বাংলাদেশে ফিরে এলেন, তখন জাতি পেল আলোর দিশা। শত প্রতিক‚লতাকে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে পরিচালনার সংগ্রামে অবতীর্ণ হলেন। মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ও গণতন্ত্রকে ফিরে পাওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জয়যুক্ত হলো। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো।
বঙ্গবন্ধুর অনেক গুণ আমরা তার কন্যার মধ্যে প্রত্যক্ষ করি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসম্ভব সাহসী এক নেতা, যিনি মৃত্যুকেও ভয় করেননি কোনো দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনাকালে একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। শেখ হাসিনার দৃঢ়তার জন্যই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। কেউ কি ভাবতে পেরেছিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো পরাক্রমশালী যুদ্ধাপরাধীকে বাংলাদেশে ফাঁসি দেয়া যাবে? কিন্তু শেখ হাসিনা বিচারের রায় কার্যকর করে তার সাহসী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। একইভাবে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা করেছেন এবং বেশ কয়েকজন ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
পিতার মতো শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টির ফলে দেশ এগিয়ে চলেছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। তিনি কেবল বর্তমান নয়, আগামীর দিনগুলোর কথা ভেবে একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ করে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর মতো প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী তিনি। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প সম্ভব করার আত্মবিশ্বাস তার ছিল এবং আজ তার বাস্তবায়ন দৃশ্যমান। ডিজিটাল বাংলাদেশ কেবল সেøাগান ছিল না, আজ বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। প্রান্তিক কৃষকও আজ তথ্যপ্রযুক্তির সেবা লাভ করতে পারেন।
শেখ হাসিনাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মানবতার জননী’ হিসেবে। পৃথিবীর কোনো দেশ যখন এগিয়ে আসেনি, তখন শেখ হাসিনা ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন সারা জীবন রাজনীতি করেছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য, তেমনি বঙ্গবন্ধুকন্যা তৃণমূল পর্যায়ে গরিব-অসহায় মানুষের জন্য নানা সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। একদিকে যেমন তিনি কঠোর প্রশাসক অন্যদিকে তিনি মমতাময়ী জননী। তার মানবিকতা সবাইকে মুগ্ধ করে।
নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে শেখ হাসিনা আজ দেশে-বিদেশে সম্মানিত। তার প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টির কারণে তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রথম কাতারে স্থান করে নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর, শেখ হাসিনাও নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলে বিশ্ব শান্তি স্থাপনের নিরলস কাজ করে চলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন শান্তির সংস্কৃতিতে, কোনো বিরোধে নয়। বিশ্বে সব সংঘাত ও অসাম্যের অবসান তার লক্ষ্য।
শিল্প সাহিত্যের প্রতি তার অনুরাগ সর্বজনবিদিত। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গ উপভোগ করেন। লেখক হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। অসুস্থ শিল্পী-সাহিত্যিকদের উদার হাতে সহায়তা করেন। শিল্পীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেছেন শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে বহু দূর। দুর্নীতিকে যদি তিনি কঠোরভাবে দমন করতে পারেন, তবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন সহজেই বাস্তবায়িত হবে।
জন্মদিনে তাকে জানাই নিরন্তর শুভ কামনা। প্রার্থনা করি সুস্থ শরীরে তিনি দীর্ঘদিন আমাদের মাঝে থেকে আমাদের নেতৃত্ব দিন। শেখ হাসিনা আমাদের আশ্রয়, আমাদের ভবিষ্যৎ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয়তু শেখ হাসিনা।

রামেন্দু মজুমদার : সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

ডিসি