ধর্ষণের উদ্দেশ্যে খাবারে ঘুমের ওষুধ, অসুস্থ ৫

আগের সংবাদ

সৃজন আঙিনায় লক্ষ্যের অভিমুখে

পরের সংবাদ

শেখ হাসিনা- উন্নয়নের আলোকবর্তিকা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ , ১১:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ , ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

আজ বঙ্গবন্ধুকন্যার ৭৪তম জন্মদিন

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। বাবা কখনো ডাকতেন ‘হাচিনা’ কখনো ‘হাচু’ বলে। ছোট ভাই রাসেলের কাছে তিনি ছিলেন ‘হাসু’ আপা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সপরিবারে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধু। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

এই বিদেশ যাওয়া নিয়েই এক সময় দোটানায় ছিলেন শেখ হাসিনা। শেষ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘জামাই যা বলে তা করো।’ এর পর ৩০ জুলাই পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হন। শুরু হয় শাসকগোষ্ঠির রোষানল। তাঁকে বারবার কারান্তরীণ করা হয়। হত্যার জন্য কমপক্ষে ১৯ বার সশস্ত্র হামলা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হামলা ছিল- ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় হেলিপ্যাডে এবং শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ও ৮৪ কেজি ওজনের দুটি বোমা পুঁতে রাখা। তিনি সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বোমাগুলো সনাক্ত হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

বিএনপি সরকারের সময় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওইদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক জনসভায় বক্তব্য শেষ করার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। লোমহর্ষক সেই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ তাঁর দলের ২২ নেতাকর্মী নিহত হন, ৫শর বেশি মানুষ আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে আঘাত পান। এরপরও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি।

কথায় আছে, রাখে আল্লাহ মারে কে? ২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে নানা পরিকল্পনা এঁটেছিল। সেই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের একটি ছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের গ্রেনেড হামলা। ভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যান শেখ হাসিনা। বিধাতা হয়তো দেশ ও জনগণের জন্য আরো কিছু কাজ করাবেন বলেই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

প্রতিটি মৃত্যু পরীক্ষা থেকে বেঁচে এসে শেখ হাসিনা নতুন উদ্যমে বাংলাদেশ গড়তে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। শত্রুর গুলি, বুলেট, বোমা, গ্রেনেড তাঁকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। কষ্টসহিষ্ণু পথ পেরিয়ে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড়িয়ে। প্রবৃদ্ধির হার অর্জনে এশিয়ার অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে ইমার্জিং টাইগার, বাংলাদেশ।

পিতার যোগ্য কন্যা হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড’ এবং রাজাকার, আলবদরদের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’র বিচার করে তিনি বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে- শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিবার ক্ষমতায় আসার পর দেশ ও জাতির জন্য দৃষ্টান্তমূলক কাজ করার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ।

বিভ্রান্তির জালে মোড়ানো ইতিহাস আর কণ্টাকীর্ণ পথ মাড়িয়ে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ আকাঙ্খিত বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করে। যেটা এক সময় অলীক স্বপ্ন মনে হয়েছিল অনেকের কাছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়েছিল। বিচারের পরিবর্তে তৎকালিন শাসকদের একজন আইন (ইনডেমনিটি অর্ডার) করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে পারবে না! ওই অবৈধ সরকারের পরেও যারা ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করেছে বা নির্বাচিত সরকার গঠন করেছে তারাও এই বিচার করেনি।

স্বাভাবিকভাবে যে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়ে থাকে। কিন্তু সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে সেই মামলা করার স্বাভাবিক নিয়মেরও ব্যত্যয় ঘটেছে। তাই, ১৯৯৬ সালের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২ অক্টোবর প্রথমবারের মতো মামলার এফআইআর হয়। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ১৪ বছর বিচারের নানা ধাপ পেরিয়ে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা শুরু হয়।

দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে ক্ষমতায় এসে শক্ত হাতে প্রশাসন চালাতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। হয়তো পিতার মৃত্যুই তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সময় সময় কঠোর হতে শিখিয়েছে। কখনো ইস্পাত কঠিন দৃঢ় মনোভাব, কখনো কোমল হৃদয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে। এই কারণেই তাঁর প্রথম শাসনামলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত এবং ক্রীড়ায় উন্নয়নমূলক কাজ চলেছে সমান তালে। দেশের প্রথম উড়াল সেতুর (খিলগাঁও ফ্লাইওভার) নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হয় তাঁর প্রথম শাসনামলে। সেই থেকে শুরু…। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন উড়াল সেতু দৃশ্যমান।

দাদা ও পিতা টুঙ্গীপাড়ার মাঠে ফুটবল খেলায় দুই পক্ষের হয়ে লড়াই করেছেন। ছোট ভাই শেখ কামাল ছিলেন আপাদমস্তক ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমনা মানুষ। বিয়ে করেছিলেন দেশসেরা অ্যাথলেট সুলতানা কামালকে। বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারই ছিল ক্রীড়া মনস্ক। যে কারণে ক্রীড়াঙ্গনে শেখ হাসিনা সরকারের সফলতা স্বাভাবিক ঘটনা।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ প্রথবারের মতো আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে। নারী ক্রিকেটও পৌঁছে গেছে অসামান্য, ঈর্ষণীয় অবস্থানে। ফুটবলেও পিছিয়ে নেই নারীরা। দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে সরাসরি মাঠে চলে গেছেন প্রধামন্ত্রী। বাংলাদেশের পতাকা হাতে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। পরাজয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন। কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে কেউ সাফল্য অর্জন করলে গণভবনে তাকে বা তাদেরকে ডেকে সম্মানিত করেছেন।

শেখ হাসিনা

একাদশ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর শেখ হাসিনা এবার দুর্নীতির পাহাড় ভাঙতে শুরু করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের প্রতিষ্ঠিত করতে ও দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের ধরতে দেশজুড়ে চলছে অভিযান। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের কাজও। যদিও পদ্মা সেতুর কাজ আরো আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, যদি না ইউনুস চক্রান্তে পরে বিশ্ব ব্যাংক ঋণদানে গাড়িমসি না করতো।

এখানেও শেখ হাসিনার কৃতিত্ব উল্লেখ করার মতো। বিশ্বকে তিনি দেখিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংক ছাড়াও নিজের টাকায় কিভাবে ম্যাগা প্রজেক্টের কাজ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা যেদিন বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ সহায়তা ছাড়াই আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো, সেদিন থেকেই আত্মপ্রত্যয়ী কোটি কোটি বাঙালি মানসকিভাবে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল ব্যক্তিগতভাবে অর্থ তুলে নিজেদের টাকাতেই সেতু নির্মাণ করার। যেমনভাবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি প্রস্তুত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের জন্য। আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়ার দৃঢ়তার মন্ত্র এভাবেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে শিখিয়েছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কোনো স্বপ্ন বা আপ্ত বাক্য নয়, বাস্তবতা। কোথায় নেই প্রযুক্তির ছোঁয়া? শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশে এই ছোঁয়া লেগেছে। যার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। যিনি নিজেই একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। একমাত্র কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন মনোবিজ্ঞানী।

অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন তিনি। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) দূত মনোনীত হয়েছেন হাসিনা কন্যা। এছাড়াও, তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য এবং বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন শেখ হাসিনা। নিয়েছেন নানামুখী পদক্ষেপ। পিতার নামের সঙ্গে মায়ের নাম লেখার প্রচলন তিনিই করেছেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের বিচরণ নিশ্চিত হয়েছে তার সরকারের সময়েই।

করোনাকালের দুর্যোগেও প্রধানমন্ত্রীর সফলতা চোখে পড়ার মতো। অভিভাবকের মতোই বিভিন্ন সময় তিনি জনগণকে করোনা বিষয়ে সাবধান করে দিচ্ছেন। সর্বশেষ তিনি শীতকালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে জানিয়ে এখন থেকেই তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

উন্নত বিশ্বে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতও যেখানে হিমশিম খাচ্ছে করোনার প্রকোপে সেখানে অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই খুলে দেয়া হয়েছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত কর্মজীবী মানুষদের আশাবাদি করে তুলেছে। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মহামারী শুরুর পর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, এরপর শিল্পোৎপাদন চালু- সবই ছিল ‘সময়োপযোগী’ পদক্ষেপ। পুরো দেশ এখন সেই সুফল পাচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্র ভালো করছে। সব সূচকই ঊর্ধ্বমুখী। কোনো দেশেই এ অবস্থা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর মূল কৃতিত্ব তিনি দেন প্রধানমন্ত্রীকে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে উন্নয়নের আলোকবর্তিকা। যে আলোতে বিশ্ব দেখছে আগামীর উন্নত বাংলাদেশকে।

লেখক: সাংবাদিক

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়