মাদককাণ্ডে এনসিবি দপ্তরে জেরার মুখে দীপিকা

আগের সংবাদ

আজ কলকাতাকে কী খেল দেখাবেন ওয়ার্নার?

পরের সংবাদ

বাংলা চলচ্চিত্রের পপস্টার!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ , ১:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ , ১:১৮ অপরাহ্ণ

হলিউড কিংবা বলিউডে একাধারে সংগীতশিল্পী ও চিত্রনায়ক হিসেবে খ্যাতিমান রয়েছেন অনেকেই। কিশোর কুমার সংগীতশিল্পী হলেও অভিনয় করেছেন বেশকিছু চলচ্চিত্রে অথবা বলা যেতে পারে এ সময়ের অভিনেতা ফারহান আখতারের কিংবা জনি ড্যাপের কথা। কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সংগীত ও অভিনয়ের সম্মিলিত প্রতিভার অধিকারী একমাত্র জাফর ইকবাল। সংগীত ও চলচ্চিত্র, দুই জগতেই ছিল তার মুগ্ধকর বিচরণ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ছিল এই পপস্টার-চিত্রনায়কের জন্মদিন। ১৯৫০ সালে ঢাকার গুলশানে জাফর ইকবালের জন্ম। চিত্রনায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যই তার খ্যাতি সারাদেশে, এ কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু চলচ্চিত্রের আগে থেকেই এ অভিনেতার বেড়ে ওঠা ছিল গানের জগতে। এমনকি গান গেয়েই শুরু জাফর ইকবালের চলচ্চিত্র যাত্রা।

১৯৬৭ সালে বন্ধু তোতা, মাহমুদ ও ফারুককে নিয়ে জাফর ইকবাল গঠন করেছিলেন ব্যান্ডদল ‘র‌্যাম্বলিং স্টোনস’। প্রতি শনি ও রবিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গান গাইতেন তারা। কোনো এক কনসার্টে গান গাইতে গিয়েই নির্মাতা খান আতাউর রহমানের নজরে পড়েন জাফর ইকবাল। সেখান থেকেই শুরু! ১৯৭০ সালে খান আতাউর নির্মাণ করেন ‘আপন পর’। এ চলচ্চিত্রেই চিত্রনায়িকা কবরীর বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে জাফর ইকবালের। বাংলা চলচ্চিত্রে আবির্ভাব ঘটে একজন পপস্টারের।

কথিত রয়েছে- ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরণী’ গানটি ববিতার জন্যই গেয়েছিলেন জাফর ইকবাল। যদিও প্রেম বিষয়ে ববিতা বা জাফর ইকবাল কেউই কখনো মুখ খোলেননি। ব্যক্তিজীবনে জাফর ইকবাল চলচ্চিত্রের বাইরের মানুষ সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ছোটবেলায় যে ছিল গানের অনুরাগী। বড় ভাই সুরকার আনোয়ার পারভেজ ও ছোট বোন সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহর দেখাদেখি গানের পথে হাঁটা। এমনকি গিটার বাজানোতেও দক্ষ ছিলেন জাফর ইকবাল। প্রয়াত সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গেও গানে কাজ করেছেন তিনি। নির্মাতা এহতেশামের ‘পিচ ঢালা পথ’ চলচ্চিত্রের ‘পিচঢালা এই পথটাকে ভালোবেসেছি’ গানে গিটারিস্ট হিসেবে ছিলেন জাফর ইকবাল। এছাড়া আরো অনেক ছবির আবহসংগীতও করেছেন তিনি। অভিনয়ে জাফর ইকবালের ছিল হ্যান্ডসাম দৈহিকভাষা। নাচ কিংবা পোশাক পরিচ্ছদে জাফর ইকবালের ছিল নিজস্ব রুচি। প্রায় ছবিতেই তাকে দেখা যায় মেগি টিশার্ট পরিহিত। আশির দশকের চলচ্চিত্রে যা ছিল ব্যতিক্রম। জাফর ইকবালের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে সবচেয়ে বেশি ছবি করেছেন চিত্রনায়িকা ববিতা।

এ অভিনেত্রী জাফর ইকবালের স্মৃতিচারণ করে একদা বলেছিলেন, ‘তার কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন সচেতনতা, রুচিবোধ ছিল চমৎকার। খুব ভালো ইংরেজি গান গাইতে পারতেন। গিটার বাজিয়ে ওর মুখে ইংলিশ গান শোনাটা আমাদের সময়কার যে কোনো মেয়ের জন্য স্বপ্নের একটি মুহূর্ত। ওর মতো পরিপূর্ণ কোনো নায়ক আমাদের চলচ্চিত্রে আসেনি।’ জাফর ইকবালের প্রিয় সংগীতশিল্পী ছিলেন ‘কিং অব রক অ্যান রোল’খ্যাত এলভিস প্রিসলি। জাফর ইকবালের চলাফেরায় হয়তো তারও কিছুটা প্রভাব ছিল। চলচ্চিত্রে রোমান্টিক, জীবন-যন্ত্রণায় পীড়িত কিংবা বিপথগামী তরুণের চরিত্রেই বেশি দেখা গিয়েছে জাফর ইকবালকে। সামাজিক প্রেমকাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র ‘মাস্তান’র নায়ক জাফর ইকবাল ‘রোমান্টিক নায়ক’ হিসেবেই ছিলেন বেশি জনপ্রিয়। জাফর ইকবাল অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘নয়নের আলো’, ‘গৃহলক্ষী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাইবন্ধু’, ‘লক্ষীর সংসার’ উল্লেখযোগ্য। প্রায় ১৫০টি চলচ্চিত্র অভিনয় করেছিলেন জাফর ইকবাল।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি গান নিয়েও মেতে ছিলেন জাফর ইকবাল। নিজের গাওয়া গানগুলো নিয়ে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ নামে একটি একক অ্যালবাম বের করেছিলেন। তার নিজের গাওয়া ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’, ‘যেভাবেই বাঁচি বেঁচে তো আছি’, ‘শেষ করো না শুরুতেই খেলা’, ‘বিদেশ থেকে দেশে আইলে’ গানগুলো এখনো শ্রোতাপ্রিয়। সংগীতশিল্পী-অভিনেতা ছাড়াও জাফর ইকবাল একজন মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার ব্যক্তি জীবনে রয়েছে চিত্রনায়িকা ববিতার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন। কথিত রয়েছে- ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারো ঘরণী’ গানটি ববিতার জন্যই গেয়েছিলেন জাফর ইকবাল। যদিও প্রেম বিষয়ে ববিতা বা জাফর ইকবাল কেউই কখনো মুখ খোলেননি।

ব্যক্তিজীবনে জাফর ইকবাল চলচ্চিত্রের বাইরের মানুষ সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। জাফর ইকবালের শেষ ছবি ‘লক্ষী র সংসার’। এ ছবির ‘আজিমপুর যাব কীভাবে’ শিরোনামের গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। ছবিটি মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই মারা যান তিনি। শেষমেশ আজিমপুর কবরস্থানেই দাফন করা হয় এই ক্ষণজন্মা নায়কের মরদেহ।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

যে মন্তব্যগুলো খবরের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে এবং আপত্তিজনক হবে না সেই মন্তব্যগুলোই দেখানো হবে। প্রকাশিত মন্তগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত। পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য ভোরের কাগজ লাইভ কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

জনপ্রিয়