বড় ঝামেলায় পড়ল ব্রাজিল দল

আগের সংবাদ

ভিডিওকলের ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ

পরের সংবাদ

কমলনগরে খাসজমি বন্দোবস্তে ঘুষ বাণিজ্য

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ , ৪:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ , ৮:০১ অপরাহ্ণ

নিয়ম-নীতি উপেক্ষা, প্রতিটি আবেদনে ৮০ হাজার টাকা

কমলনগরে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তারা উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন খাসজমি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীদের বন্দোবস্ত দিয়েছেন। অথচ বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এসব খাস জমি পাওয়ার একমাত্র যোগ্য হচ্ছেন ভূমিহীন কৃষকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরকাদিরা ইউপির দক্ষিণ চরপাগলা মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানে ফজুমিয়ারহাট বাজারটিতে এ পর্যন্ত যতগুলো দোকান বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তার কোনটাতেই কোন নিয়ম মানা হয়নি। গরীব ও ভূমিহীনদের আবেদন ফেলে দিয়ে অবৈধ পন্থায় প্রভাবশালীদের আবেদন গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি নথির বিপরীতে ভূমি অফিস কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন তহসিলদার মিলে কামিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী ইউসুফ জানায়, ৭০ বছর ধরে দখলে আছি। পরে বন্দোবস্ত পেতে ডিসি বরাবর আবেদনও করেছি। এখন শুনি, উপজেলা ভূমি অফিস আমার দখলকৃত জমিটি টাকার বিনিময়ে এলাকার প্রভাবশালীদেরকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। প্রভাবশালীরা ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক লোকজন জানায়, সাবেক চরকাদিরা ইউনিয়ন (ভূমি অফিস) তহসিলদার সানা উল্লাহ, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ও এসিল্যান্ডের পরস্পর যোগসাজসের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা এ জমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরো জানান, সরকার ছিন্নমূল অসহায় মানুষের মাঝে ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য নীতিমালা করলেও ফজুমিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন খাস জমিতে দোকান ভিটি নির্মাণে বন্দোবস্ত দিতে নীতিমালার তোয়াক্কা করেনি উপজেলা ভূমি অফিস।

স্থানীয়দের মতে ,যার টাকা আছে, তার জন্য সরকারি খাস জমি আছে। আর যার টাকা নেই, তার ভাগ্যে কিছু নেই। এমন নীতিতেই দেয়া হয়েছে ফজুমিয়ারহাট বাজারের খাস জমিতে দোকান ঘর নির্মাণের বন্দোবস্ত। এমনকি একজনের দখলে থাকা দোকান-ভিটি আরেকজনকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকার লেনদেন ও করা হয়।

এলাকার সচেতন মহলের মতে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের খামখেয়ালিপনা আর ঘুষ বাণিজ্যের কারণে খাস জমি প্রকৃত অসহায় ভূমিহীন লোকজনকে বন্দোবস্ত না দিয়ে সম্পদশালী ও প্রভাবশালীদেরকে দেয়া হয়ছে। এছাড়া বারবার একই ব্যক্তি সরকারের খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়া নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

খাসজমি। ছবি: প্রতিনিধি

মাঠ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন সিদ্বান্তে হতবাক নিরীহ মানুষ। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে সরকারের। যেন এক রামরাজত্ব। কে শুনে কার কথা। টাকা হলেই সব কিছু সম্ভব চরকাদিরা ইউনিয়ন তহসিল অফিসে।

চরকাদিরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন তহসিলদার সানাউল্লার সময় ফজুমিয়ারহাট বাজারের ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি নতুন গলি নির্মাণ করার লক্ষ্যে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে দোকান ভিটির জন্য আবেদন করেন স্থানীয়রা।

এর মধ্যে অগাধ সম্পদশালী নুরুল ইসলাম, মো: সারওয়ার, সোহেল বাঙালি, আব্দুশ শহীদ, মিলন মিয়া, আনোয়ার হোসেন, হিরণ হাওলাদার, শাহজালাল মানিক, আব্দুল মালেক মেম্বার ও ডালিম কুমার শ্রীপদ’কে খাস জমিতে নতি বন্দোবস্ত দেয় উপজেলা ভূমি অফিস।

উপকারভোগী নুরুল ইসলাম ও সারওয়ার জানান, এই ভিটিগুলো বন্দোবস্ত নিতে আমাদের প্রত্যেক লোকের প্রায় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আপনারা লেখালেখি করলে হয়তো বন্দোবস্ত বাতিল হয়ে যাবে। এ বিষয়ে লেখালেখি না করতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ জানান।

তবে নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন তহশিলদার সানা উল্লা ও ফজুমিয়ারহাটের কিছু দালাল খাস জমিতে দোকান ভিটির বন্দোবস্ত পাইয়ে দিতে প্রত্যেকটি আবেদনের বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা করে নেয় উপজেলা ভূমি অফিস।

তবে কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ন একতরফা ও গোপনীয় ভাবে ভূমি অফিস সংশ্লিষ্টরা প্রভাবশালীদের দেয়া অর্থে নিজেদের পকেট ভারি করে উক্ত নথির অনুমতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। এই নিয়ে ফজুমিয়ারহাট বাজার ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও বাজার ব্যবসায়ী ইসমাইল, স্বপন,আবুল হোসেন ও ইউসুফ জানান, উপজেলার ফজুমিয়ারহাট একটি বাণিজ্যক কেন্দ্র। জায়গার অভাবে এ বাজারে কোন টল ঘর ও পাবলিক টয়লেট করা যাচ্ছে না। অথচ এই খাস জমিতে টল ঘর ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই জনবহুল এই বাজারটির উন্নয়নের স্বার্থে প্রভাবশালীদের নামে দেয়া জমির বন্দোবস্তের নথি বাতিল করে একটি পাবলিক টয়লেট ও টলঘর নির্মাণ করার দাবি জানান তারা।

চরকাদিরা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল আলী বলেন, ওই জায়গাতে টলঘর ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা যেতে পারে। কিন্তু এখন তো বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল বলতে পারবে।

উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার পুদম পুষ্প চাকমা বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়