হাজার হাজার মসজিদ ও কবরস্থান ধ্বংস করছে চীন

আগের সংবাদ

মেসির স্ত্রীর মন খারাপ

পরের সংবাদ

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রান্তিক জনপদের মৌলিক সমস্যাগুলো অংশীজনের চাহিদার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে সমাধানকরণে অবদান রাখার সুযোগ উপনিবেশিক আমল থেকে বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতা ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ছোটখাটো সমস্যা নিরসনে কাজের দায়িত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের মনের ভাষা ও সমাজভিত্তিক চাহিদা যাচাই করে উন্নয়নে স্থানীয় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখার সুযোগ কাজে লাগাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জনপ্রতিনিধিকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজির স্থানীয়করণ এবং তার প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অধিকারী করে গড়ে তোলা এসডিজির সফল বাস্তবায়নের স্বার্থেই অপরিহার্য।

এসডিজির সফল বাস্তবায়ন চাইলে এটাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে সবার কাছে বোধগম্য রূপে স্থানীয় ভাষায়। প্রতিটি পদক্ষেপেরই তিন মাত্রায় প্রতিক্রিয়া থাকে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত। এই তিন দিক আস্থায় নিয়ে টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা সহজ ভাষায় বললে তাই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি। খালি চোখে দেখলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক শান্তি ও সমতা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার বিশ্বব্যাপী সম্মুখমুখী কার্যক্রমকে বোঝায়। কাজেই প্রথম ভাগে মৌলিক চাহিদা পূরণে লক্ষ্যমাত্রাসমূহ : দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধামুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন। দ্বিতীয় ভাগের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ : নারী-পুরুষ সমতা, অসমতা হ্রাস, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তৃতীয় ভাগে রয়েছে যথোচিত কর্ম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই নগর উন্নয়ন, দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন ইত্যাদি লক্ষ্যমাত্রাসমূহ। মানুষের চাহিদা মেটাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। কাজেই ধরণীকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চাপ থেকে বাঁচাতে গিয়ে চতুর্থ ভাগের পরিবেশ সম্পর্কিত সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি, জলবায়ু কার্যক্রম, জলজ ও স্থলজ জীবন সংরক্ষণ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অন্যতম।

সর্বোপরি চাহিদা উন্নয়ন ও অর্থনীতি, সমতা ও শান্তি এবং পরিবেশ এই তিন খাতের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে চাই পঞ্চম ভাগের পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যমাত্রা : লক্ষ্য পূরণে বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব। উন্নয়নকে সর্বজনীন করতে হলে এসডিজির লক্ষ্যগুলো সবার কাছে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের বিকল্প নেই। গ্রামের ঘরে ঘরে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিকে এসডিজির সঙ্গে পরিচয় করানো এবং এসডিজিতে তার নিজের ও তার প্রতিষ্ঠানের কোন কোন লক্ষ্যমাত্রায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে- সেই সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এর ২৭(২) বিধিতে উল্লিখিত প্রথম তফসিলের প্রথম অংশে পাঠাগার ব্যবস্থাপনা ও এর রক্ষণাবেক্ষণ, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ ও এর সংরক্ষণ এবং দ্বিতীয় অংশে বিদ্যালয় স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্রাবাস নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ছাত্র বৃত্তি প্রদান, জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ, নারী ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কাজেই এই প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যেই এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা : ৪ মানসম্মত শিক্ষা, লক্ষ্যমাত্রা : ৫ জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন, লক্ষ্যমাত্রা : ৬ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, লক্ষ্যমাত্রা : ১৫ টেকসই বন ব্যবস্থাপনা- এসব এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সুযোগ রয়েছে। জনপ্রতিনিধিকে কাজের ক্ষেত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট এসডিজিতে অবদান রাখার সুযোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা চাই।

এসব লক্ষ্যমাত্রার একটি বা একাধিক অংশকে প্রাধান্য দিয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানটি তার ত্রিবার্ষিক বা দ্বিবার্ষিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে পারে। যে এলাকায় ঐতিহাসিক স্থান বা দর্শনীয় স্থান আছে যেখানে সেগুলোকে সংরক্ষণে বেশি মনোযোগ দেয়া যায়। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সঙ্গে পরিবেশের কী পরিবর্তন হতে পারে কেবল তাৎক্ষণিক না, ঋতুভিত্তিক, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব পড়তে পারে তা বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রকল্পে দুপাশের পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হবে কিনা, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় কালভার্ট রাখার চিন্তা মাথায় রাখা চাই। খালের পানির বর্ষাকালীন সর্বোচ্চ উচ্চতাকে বিবেচনায় নিয়ে নৌচলাচলের সুবিধা রেখে সেতুর উচ্চতা নিরূপণ করতে হবে। একইভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার কাজের সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করতে না শিখলে, অগ্রাধিকার প্রস্তুত ও প্রকল্পের পৌনঃপৌনিকতা এড়াতে বিভিন্ন প্রকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য কাজের পারস্পরিক সমন্বয় করতে না পারলে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের এসডিজির ফুটপ্রিন্ট পরিমাপ করা সম্ভব হবে না।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,
জেলা পরিষদ, জামালপুর।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়