কর্মচারীদেরই এত সম্পদ!

আগের সংবাদ

দীপিকা ও রাকুল জেরার মুখোমুখি হবে আজ

পরের সংবাদ

সাভারের কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই খড়গ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

স্কুলছাত্রী নীলা খুন : ২৬ সংগঠনের প্রতিবাদ কাল

সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা রায় (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পার হলেও ধরা পড়েনি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মিজানুর ও তার সহযোগীরা। শুধু মিজান নয়, সাভার পৌর এলাকায় ১০টি কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্যের দাপুটে ভীত এলাকাবাসী। সাভার মডেল থানার আশপাশের পাঁচটি কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড আরো ভীতিকর। স্কুল-কলেজের সামনে আড্ডা জমানো এই কিশোরদের সংগ্রহে রয়েছে অস্ত্র। তাদের ভয়ে তটস্থ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা। তারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেন না। মুখ খুললেই নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। এরপরও অভিভাবকদের অনেকেই নীরবে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় ওইসব কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যায়নি স্থানীয় প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় স্কুলছাত্রী নীলাকে হত্যার পরও গতকাল পর্যন্ত অভিযুক্ত কেউ আটক হয়নি। উল্টো, হুমকির মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা। কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে যারা এখন মুখ খুলছেন তাদের বেশ কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো ধরনের তথ্য দিলে তাদেরও নীলার মতো পরিণতি হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

সাভার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের (দক্ষিণপাড়া) কাউন্সিলর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী নিউটনের কার্যালয় ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে নিউটন বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে পুলিশকে নিয়মিত তথ্য দিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। উল্টো আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এরপর সন্ত্রাসীরা আমার অফিস ভাঙচুর করেছে। সাভার দক্ষিণপাড়া, কাজীমোকমাপাড়া, ঘোষপাড়ায় সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। থানা থেকে নামাবাজার রোডে সন্ধ্যার পর মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আখড়া বসে।

অন্যদিকে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে পৃথক বিট পুলিশিংয়ে দায়িত্ব পালনকারী সাব-ইন্সপেক্টররা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেননি। বরং পুলিশকে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে তথ্য দেয়ার পর তা ফাঁস হয়েছে। এতে বিপদে পড়েছেন তথ্যদাতারা। সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সাভার সরকারি কলেজ ও সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এবং আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিয়মিত দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগের পরও পুলিশ নিষ্ক্রিয়। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পৌর এলাকার বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অনেকে সাহস করে প্রতিবাদ করে নির্যাতনের শিকার হলেও পুলিশকে জানানোর সাহস করেননি। এই সুযোগে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে নীলা তার বড়ভাই অলকের সঙ্গে আবুল কাশেম স্বন্দ্বীপ সড়কে (থানা রোড) ডাক্তার দেখাতে আসে। তারা প্রথমে একটি চাইনিজ রেন্টুরেন্টে এবং পরে ক্যাফে মেট্রো রেস্টুরেন্টে নাস্তা খান। মিজানুর সেখানে গিয়ে ঘুরে আসে। এরপর তাদের অনুসরণ করে রাস্তা থেকে নীলাকে নিয়ে যায় ইয়াবা সেবনের আস্তানায়। সেখানে পৈশাচিক কায়দায় ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। ইয়াবা সেবনের ওই আস্তানার ব্যাপারে স্থানীয়রা সবাই জ্ঞাত। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে এ ব্যাপারে অবগত করেও সুফল পাননি। এই গ্যাংয়ের সদস্যরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সন্তান হওয়ায় সবাই থেকেছে নীরব। অনেকের পরিবার রাজনীতিতে জড়িত থাকায় কিশোররা কাউকে তোয়াক্কা করে না। প্রকাশ্যে একের পর অপকর্ম চালিয়ে যায়। ইয়াবার পাশাপাশি মদ ও বিয়ার তাদের আড্ডার নিয়মিত উপকরণ। মিজানুরের খুটির জোর ছিল সাকিব ও শাকিল নামে দুই সহোদর। তাদের বাবা সিরাজুল ইসলাম শিরু পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হওয়ায় তারা ড্যাম কেয়ার স্টাইলে চলত।

জানা গেছে, সাভার প্রেস ক্লাবের সামনের মাঠ, তারাপুর ঈদগাহ মাঠ, নামাবাজার সড়ক, ব্যাংক কলোনি, বক্তারপুর, গে-া সচিব সড়ক, রেডিওকলোনি, পালপাড়াসহ কয়েকটি মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের নিয়মিত আড্ডা এখন ওপেন সিক্রেট। থানা পুলিশকে নানাভাবে তারা তথ্য দিলেও এখন পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের কেউ আটক হয়নি। নামাবাজার কাঠপট্টির এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম রতন, রুবেল, অর্নব, সালমান, কুতুব, আশিক, রকি ও জামিরুল। তাদের কাছে ব্যবসায়ীরাও জিম্মি। এদের নেপথ্যে রয়েছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও এক ছাত্রলীগের দুই নেতা। তবে পুলিশের দাবি ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার শিমুলতলা মহল্লার সাস এনজিও কার্যালয়ে সভা করেছে সাভার নাগরিক কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, এনজিও সমন্বয় পরিষদ, মহিলা পরিষদ, কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনসহ ২৬টি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সভায় আগামী শনিবার সকালে সাভার উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে নেতারা উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সব কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটকের দাবি জানান।

সূত্র মতে, সাভারে সব মহলের প্রতিবাদের মুখে গতকাল সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানায় বিট পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন পদস্থ কর্মকর্তারা। বখাটেদের যে কোনো মূল্যে ধরতে এবং মাদক নির্মূলে অভিযান জোরদার করতে বৈঠকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাত ৮টার দিকে সাভার পৌর এলাকার সাভার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে দক্ষিণপাড়ায় আব্দুর রহমানের পরিত্যক্ত বাড়িতে ইয়াবার আস্তানায় অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলা খুন হন। ঘাতক মিজানুর আব্দুর রহমানের ছেলে। তারা ব্যাংক কলোনি মহল্লায় ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় মিজানুরের সহযোগী সেলিম পালোয়ানকে আটক করলেও মূল আসামিসহ অন্যরা অধরা রয়েছে। উল্টো এ চক্রের অন্যরা মোবাইল ফোনে ঘটনা ও তাদের অপকর্মের প্রত্যক্ষদর্শীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়