সীমান্ত থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় বিক্রি করতেন তারা

আগের সংবাদ

ব্যবহৃত কনডম নিয়ে আজব জালিয়াতি, হতবাক পুলিশ

পরের সংবাদ

৪ কিমিতে ৪ খাল

যে সড়কে পায়ে হাঁটাও দুঃসাধ্য

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৪:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ , ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

কর্ণঝোড়া-হারিয়াকোনা রাস্তা

শেরপুরের শ্রীবরদীর কর্ণঝোড়া বর্ডার রোড থেকে হারিয়াকোনা রাস্তাটির দৈর্ঘ মাত্র চার কিলোমিটার। অথচ এই চার কিলোমিটার রাস্তা যেতে পাড়ি দিতে হয় চার চারটি খাল। যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির তোড়ে কর্ণঝুড়া নদীর বাঁধ সংলগ্ন রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ।

বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রতিদিন শতশত মানুষ দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতেই যাতায়াত করে এ সড়কে। বর্ষা এলো তো কথাই নেই। রাস্তায় কাদা জমে যায়। চাকা তো ঘোরেই না, পায়ের গতিও থেমে যায়।

শ্রীবরদী উপজেলার সিঙ্গাবরুনা ইউনিয়নের কর্ণঝুড়া বর্ডার রোড হতে চান্দাপাড়া, কুমারগাতি, বাবেলাকোনা হয়ে হারিয়াকোনা পর্যন্ত রাস্তাটি মাত্র ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে এ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে আশপাশের চার গ্রামের মানুষ। তবে সংস্কার-সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের অভাবে রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গেলে দেখা হয় সীমান্ত এলাকায় গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতীগোত্রের প্রায় ৪ হাজার লোকের বসবাস। হারিয়াকোনা গ্রামের বিরেশ রিছিল, আলীসন চিরান, মিঠুন সাংমা, বাবেলাকোনা গ্রামের সজিনাথ চিরান, সতিশ মারাক, প্রফিশন মারাকসহ আরও অনেকের সঙ্গে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, সব এলাকার উন্নয়ন হয় কিন্তু আমাদের এ আমাদের ৪ গ্রামের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয় না।

এলাকাবাসী অভিযোগ, নির্বাচনের সময় এলে রাস্তা নির্মাণ করে দেয়ার নাম করে ভোট নেয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর তাদের খোঁজ খবর নেয় না। স্থানীয়রা বলেন, প্রতিদিন এ পথে স্কুল কলেজের কোমলমতি শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের যাতায়াত। শুষ্ক মৌসুমে যেমন তেমন, বর্ষা মৌসুমে পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।

এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও গবাদী পশু বাজারজাত করতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে কৃষকদের। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না।

সিঙ্গাবরুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজনু বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি।

শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, রাস্তা সংস্কার বা পাকাকরণের বিষয়টি বড় কথা নয়। নদী ভাঙন রোধে ও ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাড়া পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়