থানার ভেতরে আসামির গুলিতে পুলিশের মৃত্যু

আগের সংবাদ

মাদককাণ্ডে এনসিবির তলবে দীপিকা

পরের সংবাদ

ছাড়ে জটিলতা, ওপাড়ে পচছে পেঁয়াজ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৭:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

পুরনো এলসির আটকে পড়া পেঁয়াজ ছাড়ে জটিলতায় আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ট্রাকে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায়, টানা ১২ দিন ধরে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি পাকিং আর সড়কে প্রায় শতাধিক পেঁয়াজ বোঝায় ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত এসব ট্রাক ছাড় করাতে না পারলে আবারও নতুন করে ক্ষতির শিকার হবেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা তাদের ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পুরনো এলসির আটকে পড়া পেঁয়াজ ছাড় করণে বারবার আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি।

স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ সংকট দেখা দেয়ায়, দাম আবারও বেড়ে চলছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পাইকারি বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি পেঁয়াজ অর্ধেক নষ্ট হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে দাবি ব্যবসায়ীদের।

পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শেখ ট্রেডার্সের শেখ মাহাবুব বলেন, প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে লঙ্কা কাণ্ড হয়। ভারত কখনো উৎপাদন সংকট আবার কখনো রপ্তানি মূল্য তিনগুণ বাড়িয়ে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য করে তারা। এক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলায় ভারত ছাড়াও বাইরের কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের আহবান জানান সরকারের প্রতি।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মহাসিন মিলন বলেন, আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

পেঁয়াজ আমদানি কারক রফিকুল ইসলাম রয়েল নামের এক ব্যবসায়ী জানান, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল বন্দরের ওপারের বিভিন্ন পার্কিংয়ে হেফাজতে তাদের প্রায় শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের পেয়াঁজে পচন ধরেছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই এসব ট্রাক বন্দর এলাকায় পৌঁছে ছিল। দ্রুত এসব ট্রাক না ছাড়লে আবারো নতুন করে তারা লোকশানে পড়বেন।

স্থানীয় বাজারের পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতারা জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম। আর যা আসছে তা অর্ধেক বস্তায় পচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত একরম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে মনে হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়ায় সংকট দেখিয়ে ১৪ সেপ্টেবর থেকে বাংলদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এ পর্যন্ত কোন পেঁয়াজের ট্রাক দেয়নি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। দিবে কিনা তাও নিশ্চিত জানাতে পারেনি। তবে এ পথে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে অন্যান্য পণ্যের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক আছে।

উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৫ শত ৪৪ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য। তবে এসব পণ্যের মধ্যে কোন পেঁয়াজের ট্রাক ছিল না। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ২৭ ট্রাক পণ্য। তবে এসব রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ৬৭ ট্রাক ছিল পদ্মার ইলিশ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়