এমন রাত আগে দেখেননি কোহলি

আগের সংবাদ

স্বর্ণ নিয়ে তামাশা, বিরামহীন উত্থান-পতন

পরের সংবাদ

কিশোর অপরাধ ও আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

কিশোর অপরাধ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা রায় (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখন গণমাধ্যমের আলোচিত বিষয়। গত রবিবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নীলা রায় ও তার ভাই অলক রায়ের পথরোধ করে স্থানীয় বখাটে মিজানুর রহমান। পরে তার ভাইয়ের কাছ থেকে নীলাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে নিকটস্থ তার নিজ পরিত্যক্ত বাড়ির একটি কক্ষে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে রাতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নীলার মৃত্যু হয়। পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর এখনো ধরা পড়েনি মিজান ও তার সহযোগীরা। তবে বৃহস্পতিবার মিজানের বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। পেশাদার সন্ত্রাসী-গডফাদার চক্রের মতো করে কিশোরদেরও রয়েছে গ্যাং। একেক গ্যাং একেক এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কিশোর সন্ত্রাস নতুন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবিভর্‚ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, শুধু মিজান নয়, সাভার পৌর এলাকায় ১০টি কিশোর গ্যাংয়ের শতাধিক সদস্যের অত্যাচারে ভীত এলাকাবাসী। একই চিত্র সারাদেশে। রাজধানীর অবস্থা আরো ভয়াবহ। ২০১০ সালে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সক্রিয় কিশোর সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশ, তাতে ৫১৬ জনের নাম ছিল। ঢাকার উত্তরা, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, তুরাগ, নিউমার্কেট ও গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় সক্রিয় ছিল গ্রুপগুলো। পুলিশের তথ্য মতেই, গত ১০ বছরে রাজধানীর আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই কিশোর অপরাধীদের হাতে ঘটেছে। এটি খুবই ভয়ঙ্কর তথ্য। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও অর্ধশত কিশোর গ্যাং দখলবাজি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে তথ্য রযেছে। এদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে খুনের ঘটনাও। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে কাজ করছে অনেক কিশোর। বিভিন্ন মহল্লায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি থেকে শুরু করে ছিনতাই-রাহাজানির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে এরা। প্রশ্ন হচ্ছে, যে বয়সে নিজেকে গড়ে তোলা ও পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার কথা, সে বয়সে ছেলেমেয়েদের এমন অপরাধে জড়ানোর কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিথিল পারিবারিক বন্ধন, মা-বাবার সন্তানকে সময় না দেয়া, সামাজিক অবক্ষয়, স্বল্প বয়সে স্মার্টফোনসহ উন্নত প্রযুক্তি উপকরণের নাগাল পাওয়া, সঙ্গদোষ ইত্যাদি কারণে কিশোরদের অপরাধে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কিশোরদের বেপথু হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে এবং কেউ তাদের অসৎ কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। এজন্য সবার আগে পরিবার তথা বাবা-মাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানরা কী করে, কার সঙ্গে সময় কাটায়- এসব খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের অযৌক্তিক আবদার পূরণ করার আগে ভাবতে হবে। যারা ইতোমধ্যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সাভারের ঘটনায় অভিযুক্ত মিজানকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়