তারা একসঙ্গে গাইছেন 'মাইকেল-বিদ্যাসাগর সংবাদ'

আগের সংবাদ

সাভারের কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই খড়গ

পরের সংবাদ

কর্মচারীদেরই এত সম্পদ!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ১২:২১ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতির মচ্ছব
৫৪ জনের বিরুদ্ধে চলছে দুদকের অনুসন্ধান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সম্পদের পরিমাণে কর্মকর্তাদের চেয়ে কর্মচারীরাই এগিয়ে রয়েছেন। শুধু আবজাল বা মালেক নয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক ও কেরানিসহ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের রাজধানীতে নামে-বেনামে গাড়ি-বাড়ি, ফ্ল্যাট ও এলাকায় অঢেল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসছে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে। চালক, কেরানি ছাড়াও এ তালিকায় আছেন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী, স্টোরকিপার ও কম্পিউটার অপারেটর। তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সাল থেকে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের জন্য দুদক উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান ও ফেরদৌস রহমান। দুদক টিমের প্রাথমিক অনুসন্ধানেই ড্রাইভার মালেকসহ (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক) শতাধিক জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসে। এদের মধ্যে অধিদপ্তরের গাড়িচালক মালেকসহ ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্ত্রীকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সম্পদের হিসাব তলব করে নোটিসও দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেয়া হবে। এছাড়া চলতি মাসে কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদক মামলা করবে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে ২০১৯ সাল থেকে আমরা একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করি। ড্রাইভার মালেকসহ শতাধিক জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে। মালেক ড্রাইভারের সম্পদের অনুসন্ধান ১ বছর ধরেই চলছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, তার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়ায় সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিসও পাঠানো হয়েছে। এই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরো ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে নোটিস জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজন জড়িত থাকার ফলে সব মিলিয়ে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীর নোটিস দেয়া হয়েছে। কেরানি আবজাল ও ড্রাইভার মালেক ছাড়া অনুসন্ধানে আরো নাম বেরিয়ে আসছে। অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করছে, ব্যবস্থা নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে তারা হলেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন-২) কবির আহমেদ চৌধুরী ও মো. হুমায়ুন কবীর, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার অফিস সহকারী খাইরুল আলম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মজিবুর রহমান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী রেজাউল ইসলাম, মহাপরিচালক দপ্তরের সহকারী প্রধান মো. জোবায়ের হোসেন, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী এম কে আশেক নওয়াজ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই ভবন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার অফিস সহকারী কামরুল হাসান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (ইপিআই) মো. মজিবুল হক মুন্সি, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. ইমদাদুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আলোচিত গাড়িচালক আবদুল মালেক, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুজ্জামান, শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক এ টি এম দুলাল, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মুগদা মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক আবদুল্লাহ হেল কাফি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী মো. তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী মো. ফয়জুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ল্যাব সহকারী আবদুল হালিম ও সুব্রত কুমার দাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মো. শাহজাহান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের স্টোর কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হাসেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আবদুল মজিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টোর ম্যানেজার ইপিআই হেলাল তরফদার, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের স্টোর কিপার সাফায়েত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আবদুল মজিদ।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়