জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ

আগের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে চালু হবে ‘পরম্পরা’

পরের সংবাদ

সরকারের উদ্যোগগুলো জোরালো হওয়া উচিত

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ

অবৈধ বিদেশযাত্রা বা বিদেশে পাঠানোর নামে মানবপাচার কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। দিন দিন যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাচার হওয়ার পথে অনেকে মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। লিবিয়ার ঘটনা এখনো জ্বলজ্বলে। মানবপাচার আমাদের দেশে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়। গত বুধবার ব্রুনাইয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে ৪০০ লোকের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে শেখ আমিনুর রহমান হিমু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। তাকে ব্রæনাইয়ে মানবপাচারের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে র‌্যাব। সে সংসদ সদস্য হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এই মানবপাচার করে আসছিল। মানবপাচার একটি জঘন্য অপরাধ। পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রের বিশ্বজুড়ে বিস্তৃতি রয়েছে এবং ক্রমেই মাত্রা বাড়ছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিনিয়ত এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যাপক হারে মানুষ পাচার হচ্ছে। সত্যিকার পরিস্থিতিটা এই যে, কোনো সরকারই মানুষ পাচারের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েও পাচার প্রতিরোধে সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। পাচার বিষয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর তথ্যমতে- লালমনিরহাট, হিলি, কিরণগঞ্জ, সোনা মসজিদ, রাজশাহীর চারঘাট, খিদিরপুর, সাতক্ষীরা, কলারোয়া, কাকডাঙ্গা, বৈকান্দি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর, জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, লালমনিরহাটের বুড়িমারী, পাটগ্রামের সীমান্ত এলাকা ইত্যাদি নারী ও শিশু পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে সমুদ্রপথে মানুষ পাচারের ঘটনা বেশি হচ্ছে। পাচার হওয়ার পথে অনেকে সাগরে দস্যুদের কবলে পড়ে বা নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা আটক হয়ে বিদেশের জেলে বন্দি থাকছে। যারা পাচার হতে পারছে তারা মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে শ্রমদাসে পরিণত হচ্ছে। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে বহুজাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধবিষয়ক আইন প্রণয়ন করেছে। এর ফলে মানবপাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদেরও উদ্যোগী হতে হবে। অবৈধ বিদেশযাত্রা ও মানবপাচার রোধে প্রথমত সরকারকে আরো বেশি তৎপর হতে হবে। প্রতারক ও পাচার চক্রকে ধরতে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। সমুদ্রপথে পাচার রুটগুলোতে টহল নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অবৈধ বিদেশ গমনের ঝুঁকি ও পাচারের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ কাজে গণমাধ্যম, এনজিও, সামাজিক সংগঠনগুলোকেও কাজে লাগানো দরকার। আর গুরুত্বপূর্ণ হলো বৈধপথে ন্যায্য খরচে বিদেশে কাজ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং এ সম্পর্কে গণমানুষকে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল করতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়