শেখ হাসিনার জন্মদিনে আন্তর্জাতিক দাবা আসর শুরু

আগের সংবাদ

অনলাইন ক্যাসিনো: সেলিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের করণীয়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৬:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৭:০৬ অপরাহ্ণ

আগামী ২০৪০ সালের জন্য অপেক্ষা না করে ২-৩ বছরের মধ্যে একমুখী কারিগরি শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আধুনিক জ্ঞান ও কর্মশক্তিতে বলীয়ান শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা যেতে পারে। তাতে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি ও প্রফেশনালদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার বহু কাক্সিক্ষত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধু প্রণীত সংবিধানে শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশ্বের ১৩৫টি দেশে শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বসভ্যতার বিকাশে শিক্ষাই মূল ভিত্তি। তাই শিক্ষার মৌলিকত্ব নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিনিয়তই আলোচনা হচ্ছে। শিক্ষার মৌলিকত্ব বুঝতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে শিক্ষার সূচনা ও ভিত্তি এবং শিক্ষা বিকাশের ধরন বা প্রকৃতি সম্পর্কে। শিক্ষানুরাগীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার বা উৎস সন্ধান করতে হবে। মানব ইতিহাসের সূচনালগ্নে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো ধারণা ছিল না। প্রকৃতি থেকেই প্রাণিকুল শিখেছে, শিখছে। তাই পরিবার, সমাজ, পরিবেশ-প্রকৃতিই ছিল মানুষের শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। সভ্যতার ধারাবাহিক বিকাশে বিজ্ঞানের কল্যাণে প্রযুক্তির আবির্ভাবের পথ ধরে মানুষ যখন নিজস্ব সত্তা সম্পর্কে বুঝতে শিখেছে, কল্যাণ-অকল্যাণের বিষয়টি উপলব্ধি করেছে, ভবিষ্যৎ বংশধরদের কল্যাণের ধারণাটি লাভ করেছে, ঠিক সে পর্যায়ে এসে মানুষ নিজস্ব লব্ধ জ্ঞানকে পুথিবদ্ধ করার তাগাদা অনুভব করেছে। সেখান থেকে ধারাবাহিক জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়টি মানব সভ্যতার সামনে চলে আসে। যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির পরিবর্তন ও উৎকর্ষের প্রভাবে মানুষের জীবনমানে যে প্রভাব পড়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা বহুমাত্রিকতা রূপ নেয়। শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্য বিশ্লেষণে বলা যেতে পারে মানুষের মৌলিক আচরণগত পরিবর্তন, যা সে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পারিপার্শ্বিক মণ্ডল থেকে আয়ত্ত করে থাকে এবং জীবনের প্রয়োজনে ও জীবিকা অর্জনে কৌশলগত দক্ষতা বা নৈপুণ্য লাভ করে সেটাই আধুনিক শিক্ষার সংজ্ঞায় পরিণত।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-ই খুদার নেতৃত্বে দেশের জ্ঞানী-গুণী শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু এই শিক্ষা কমিশনের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময়ে স্পষ্টতই বলেছিলেন, ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শিক্ষাদর্শন অনুযায়ী শিক্ষার জন্য শিক্ষা নয় বা কেরানি সৃষ্টি বা আজ্ঞাবহ সৃষ্টি জন্য নয়। আমি চাই আধুনিক জ্ঞান ও কর্মশক্তিতে বলীয়ান শিক্ষাব্যবস্থা’। ‘আধুনিক জ্ঞান ও কর্মশক্তিতে বলীয়ান’ বাক্যের মাধ্যমে তিনি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের শিক্ষাদর্শনের ধারণা স্পষ্ট করেছিলেন। সেই সঙ্গে অনাগত প্রজন্মের জন্য কী ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে সেই সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রাজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর এই সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় কতটা প্রাসঙ্গিক; তা বিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও ঐতিহাসিকরা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধুর ৪টি শব্দের মর্মার্থ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পারায় আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যক্তিদেরসহ আরো অনেকই দেশ-বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃতি ধরন সম্পর্কে মনোনিবেশ ও পড়াশোনা করতে হয়েছে। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনায় বিশ্বাসী স্বাধীন বাংলার প্রতিজন নাগরিকেই ‘আধুনিক জ্ঞান ও কর্মশক্তিতে বলীয়ান’ বাক্যটির গভীরতা উপলব্ধি করা বাঞ্ছনীয় বা একান্ত প্রয়োজন।

১৯৭৪ সালের মে মাসে ড. কুদরাত-ই খুদা শিক্ষা কমিশন ২৯৮ পৃষ্ঠার সুপারিশ সংবলিত ৩৬টি অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট’ শিরোনামে প্রতিবেদন বঙ্গবন্ধুর কাছে পেশ করা হয়েছিল। সে দিন বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদানের কথা বলেছিলেন। একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে প্রযুক্তির একেকটি আবিষ্কারের ফলে সমাজ ব্যবস্থা ও এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে উপনীত হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের বা উৎকর্ষ সাধনের ইতিহাসই হলো সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনের ইতিহাস। সেই কারণেই বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, যে কোনো দেশের মানসম্পদকে মানবপুঁজিতে পরিণত করে উন্নয়নের মূলধারায় অংশগ্রহণে সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী জনশক্তি পরিকল্পনা। আর এ পরিকল্পনার আওতায় দক্ষ নাগরিক সৃষ্টির একমাত্র মাধ্যম বা কৌশল হলো আধুনিক জ্ঞাননির্ভর প্রযুক্তি শিক্ষা। সেই কাক্সিক্ষত শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু জাতীয় বাজেটে সামরিক খাতের চেয়েও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেন।

১৯৭৫-এর কলঙ্কজনক ও মর্মান্তিক ঘটনার পর এ দর্শন এগোতে পারেনি। বরং কুদরাত-ই খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন চলে যায় হিমাগারে। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের আমলে এবং ২০০৮-এর পর ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন শুরু করতেই কেন ১০ বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। তারপরও ২০২১ সালে আংশিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কেন? প্রশ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও এতটি বছর লাগল কেন? তাহলে কি ঔপনিবেশিক আজ্ঞাবহ উচ্চ সুবিধাভোগী কোনো চক্র জাতির পিতার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাকে বাস্তবায়ন সুকৌশলে বিলম্বিত করে দিচ্ছে? একটি নবজাতক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা যদি বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে ৪টি শব্দের মাধ্যমে দিতে পারেন, তার বিচার-বিশ্লেষণ করতেই আমাদের ৫০টি বছর লেগে গেল?

অন্যদিকে আমাদের দেশে জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা সবাই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের বিষয়টি অবহিত। ২০৩০ সাল হলো বাংলাদেশের জন্য গোল্ডেন ইয়ার, যে বছরে নির্ভরশীলতা হবে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ হবে সর্বোচ্চ কর্মক্ষম মানুষের দেশ। অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষে সমৃদ্ধ একটি তরুণ জাতি। আর এ বিষয়টি মনে রেখেই হয়তো জননেত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ ঘোষণা করেছিলেন। অর্থাৎ ২০৩০ সালের সব কর্মক্ষম মানুষকে যথার্থভাবে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালে ধনী দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

বিশ্বের উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রসমূহের ৫০-৭০ ভাগ মানুষকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও তার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে যখন অনেক পূর্বেই ধনী দেশে পরিণত হয়েছে-সে উদাহরণ সমাজপতি, নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১-কে বাস্তবায়নের জন্য ২০৪০ সালে ৫০ শতাংশ মানুষকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কি চমৎকার ২০৩০ সালের কর্মক্ষম মানুষগুলো যখন কর্মক্ষমতা হারিয়ে বয়োবৃদ্ধির দিকে যাত্রা শুরু করবে, তখন আমরা ২০৪০ সালে যাত্রা শুরু করব এবং ১ বছরের মধ্যেই জাতি প্রধানমন্ত্রীর কাক্সিক্ষত ধনী দেশে রূপান্তরিত হয়ে যাবে? প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে ২০৪১ সালে কি আমরা  ‍চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব? বিষয়গুলো জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা ভেবে দেখবেন। এসব কি সুকৌশলে সবকিছু বিলম্বিত করে দেয়ার অপপ্রয়াস না ষড়যন্ত্র?

১৯৭২ সালে দেয়া বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শনের ভিত্তিতে প্রণীত শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট ও ২০১০-এর শিক্ষানীতি ও বিশ্বস্বীকৃত তিন স্তরবিশিষ্ট কারিগরি শিক্ষার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। যেখানে প্ল্যানিং, ডিজাইন, গবেষণা ইত্যাদি কাজের জন্য ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা এবং এক্সিকিউশন অপারেশন, সুপারভিশন, মেইনটেনেন্স ইত্যাদি কাজের জন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা এবং কাজটি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য ভোকেশনাল শিক্ষা। সমাজের উচ্চ শ্রেণিভুক্ত শিক্ষা পরিকল্পনাবিদরা দেশের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে স্বগোত্রীয় সংখ্যা বৃদ্ধিতে অধিকতর মনোযোগী হওয়ায় উচ্চ শ্রেণির প্রফেশনাল তৈরিতে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন। তাই প্রয়োজনের চেয়ে ২-৩ শতাংশ বেশি ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা হয়েছে ও হচ্ছে। ফলে সরকারি বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে তৈরি ওইসব কারিগরি গ্র্যাজুয়েট পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় (পুলিশ ও প্রশাসনিক কাজে) নিয়োজিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনের বিষয়টি আংশিক বিবেচনায় নিয়ে মিড লেভেল প্রফেশনাল তথা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করতে অবজ্ঞা-অবহেলায় যেনতেনভাবে শুধু সরকারকে খুশি করার জন্য ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যাকে এক কথায় বলা যায় ফাউন্ডেশন ছাড়া সুপার স্ট্রাকচার তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক ও ভয়াবহ বিষয়টি হলো দেশের প্রয়োজনে গ্রাউন্ড লেভেলের দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যথাযর্থ পদক্ষেপ একেবারেই নেয়া হয়নি।

এমনি পরিস্থিেিত দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে কারিগরি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর তা করতে বর্তমানের স্কুল ও টিএসসি/টিটিসিসমূহে এসএসসি (ভোক) কোর্সকে নতুনভাবে অধিকতর দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এসএসসির (ভোক) কারিকুলামে অন্যসব বিষয় কমিয়ে গণিত, বিজ্ঞান ও দেশপ্রেমমূলক সমাজ বিজ্ঞানের সঙ্গে অধিকতর কারিগরি দক্ষতাবিষয়ক সাবজেক্ট অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে নবম ও দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের এনটিভিকিউএফের (National Technical Vocational Qualification Framework) আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের দক্ষতা মানের সার্টিফিকেট প্রদান করা যায়। আর এই সার্টিফিকেটের মানমর্যাদা ও দক্ষতা স্বীকৃতি দিয়ে নতুন নামকরণের মাধ্যমে ‘জাতীয় দক্ষতা সনদ’ (Higher National Skill Certificate) ইস্যু করা যায়। এই দক্ষ জনশক্তিকে শিল্পকারখানা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ ও যথাযথ বেতন স্কেল প্রদান করতে হবে। এসএসসি (ভোক) উত্তীর্ণ মেধাবীদের ২৫ ভাগ কোটায় পলিটেকনিকে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি এবং আগ্রহীদের অধিকাংশকে এইচএসসি (ভোক) ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। ২ বছর মেয়াদি এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সের জন্য টিএসসি ও টিটিসিসমূহে ন্যূনতম ২-৩ লাখ সিট সংখ্যা বৃদ্ধি করে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করতে হবে। এই দুই বছর মেয়াদি ভোকেশনাল স্কিল কোর্সে উত্তীর্ণদের জাতীয় মর্যাদা ও দক্ষতার সার্টিফিকেটের নামকরণ করতে হবে ‘উচ্চতর জাতীয় দক্ষতা মান সার্টিফিকেট’ (Higher National Skill Certificate)।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চায় তাদের যথাযথ বেতন স্কেলে (বর্তমানের ১১/১২নং স্কেলে) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী মেধাবীদের পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কোর্সে ৪/৫ সেমিস্টারে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। যাতে ২ বছরের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করতে পারে। একইভাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং উত্তীর্ণ মেধাবীদের পরবর্তী ২ বছরে ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে হবে। যার মাধ্যমে একমুখী কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব হবে এবং দেশের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অবজ্ঞা, অবহেলা হিংস্যা-বিদ্বেষের অবসান হয়ে একে অপরের শ্রদ্ধাশীল হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন উৎপাদনের সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুন্দর গণমুখী কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হবে।

দেশের উন্নতমানের কলেজসমূহে ও এইচএসসি (ভোক) কোর্স প্রবর্তনের মাধ্যমে জেনারেল ডিগ্রি নেয়া ছাত্রছাত্রীদেরও ন্যূনতম ১টি বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে। উত্তীর্ণদের বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত ঘঞঠছঋ-এর আওতায় তৃতীয় ও চতুর্থ মানের দক্ষতা লেভেলের সার্টিফিকেট তথা ‘উচ্চতর জাতীয় দক্ষতা মান সার্টিফিকেট’ (ঐরমযবৎ ঘধঃরড়হধষ ঝশরষষ ঈবৎঃরভরপধঃব) প্রদান করা যেতে পারে। যা দেশ-বিদেশে স্বীকৃত পাবে এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীরাও দেশ-বিদেশে ভালো বেতন স্কেল কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে। যার মাধ্যমে বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। আমার মনে হয় আগামী ২০৪০ সালের জন্য অপেক্ষা না করে ২-৩ বছরের মধ্যে একমুখী কারিগরি শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আধুনিক জ্ঞান ও কর্মশক্তিতে বলীয়ান শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা যেতে পারে। তাতে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি ও প্রফেশনালদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার বহু কাক্সিক্ষত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

এ কে এম এ হামিদ : সভাপতি, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়