গোটা দেশটাকে কারাগারে পরিণত করেছে সরকার

আগের সংবাদ

রৌমারীতে বৃষ্টিতে দুর্ভোগে দিন মজুরেরা

পরের সংবাদ

কৃষকের ৪৭ বছরের মালিকানা জমি দখলের চেষ্টা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৪:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৪:৫২ অপরাহ্ণ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোঁড়াগাছা ইউনিয়নের আজাদনগর গ্রামের এক কৃষকের ৪৭ বছরের ভোগদখল কৃত ও মালিকীয় জমি জবর দখল করে নেয়ার অপচেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রামগতি সহকারী জজ আদালতে কৃষক আজিজুল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কৃষক আজিজুল হক রামগতি থানা অন্তর্গত চরকলাকোপা মৌজার ৮৭ নম্বর খতিয়ান মূলে ২ একর ৪৬ জমি ৫ আগস্ট ১৯৭৩ সালে ৮৪২৭ নম্বর ছাপ কবলা দলিল মুলে প্রিয়লাল কূরীর থেকে খরিদ সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখল করে আসছে।

২২ জানুয়ারি ২০০৪ সনে স্থানীয় মকবুল আহম্মেদের পুত্র হেলাল উদ্দিন, ভোলা জেলার বাসিন্দা আবুল কাশেমের পুত্র ইসমাইল হোসেন, মহিবুল হক তালুকদারের পুত্র বেলায়েত হোসেন মিলে উক্ত জমির ৫৩২ নম্বর খতিয়ান মূলে ভুয়া দলিল তৈরি করে গোপনে জমা-খারিজ ও নাম জারি করিয়ে নেয়। বিষয়টি জানত পেরে অবৈধভাবে সৃজনকৃত ৫৩২ নম্বর খতিয়ান ও চক্রান্তকারী হেলাল উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন, আহাম্মদ উল্লাহ, বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ সালে রামগতি সহকারী জজ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞ আদালতে মামলা করে কৃষক আজিজুল হক। মামলার বিবাদীগণ কৃষক আজিজুল হক গংদেরকে উক্ত জমি থেকে বেদখল করতে সৃজনকৃত ভূয়া দলিল মূলে আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে কৃষক আজিজুল হকের পুত্র গিয়াস উদ্দিন বলেন, ১৯৭৩ সালে খরিদ সূত্রে প্রিয়লাল কূরীর থেকে ২ একর ৪৬ জমি ক্রয় করে তার পিতা আজিজুল হক। সেই থেকে আজ অবধি (৪৭ বছর) আমরা একান্নভূক্ত পরিবার ওই জমিতে মাছের প্রজেক্ট করে মৎস্য চাষ করে আসছি। দালিলিক প্রমাণাদিও আছে। বর্তমানে ঐ জমির একাংশে আজিজুল হক ও গিয়াসউদ্দিন গংদের মাছের প্রজেক্ট রয়েছে। অন্য অংশে ধান চাষ করেন তারা।

এদিকে প্রতিপক্ষরা উক্ত জমি নিয়ে আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করে বিষয়টি গোপন রাখাসহ ওই জমির প্রকৃত মালিক ও দখলে আছে জানিয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমি পরিমাপ করে মালিকানা বুঝিয়ে দেয়ার আবেদন করেন।

নির্দেশ পেয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের (সার্ভেয়ার) মো. সাখাওয়াত হোসেন ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার উক্ত জমি পরিদর্শন করেন। এ সময় গ্রামবাসী জড়ো হয়ে সার্ভেয়ারকে বলেন, প্রকৃত জমির মালিক কৃষক আজিজুল হক গং। তাছাড়া বিগত ৫০ বছর ধরে ভোগ দখলেও রয়েছেন তারা। এ সময় গ্রামের কয়েকজন নিরপেক্ষ লোকজনের স্বাক্ষ প্রমান গ্রহণ করেন সার্ভেয়ার। তাতে কয়েকজন বয়স্ক লোক জানান, দীর্ঘ অনেক বছর থেকে এই জমি আজিজুল হক গংরা চাষাবাদ করতে দেখেছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক আজিজুল হক বলেন, খরিদসূত্রে ২ একর ৪৬ জমির প্রকৃত মালিক আমি। এ জমি নিয়ে চক্রান্তকারীরা আদালতে একটি মিথ্যা মামলা করেছে। এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানী মামলা চলমান মুহুর্তে কী কারণে জমি পরিদর্শন চলছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষদ্বয়ের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা ভূমি অফিস (সার্ভেয়ার) মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউএনও’র নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মোমেন বলেন, ভোগদখলকৃত জমির জটিলতা নিরসন ও পরিমাপ বিষয়ে সহায়তা চেয়ে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানানোর জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে জানান তিনি।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়