বাহারের আলোহীন চোখে একটি চাকরির স্বপ্ন

আগের সংবাদ

সচেতনতাই করোনা প্রতিরোধে মুখ্য ভূমিকা রাখবে

পরের সংবাদ

ঈশ্বরচন্দ্রের ইহজাগতিকতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৫:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ , ৫:৫১ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রকৃতই ইহজাগতিক মানুষ ছিলেন। দেবদেবী কিংবা দেবদূত ছিলেন না, ওতে তাঁর ন্যূনতম বিশ্বাসও ছিল না। আর অনিবার্যরূপে ছিলেন বাঙালি। তাঁর মহান কীর্তির পাশাপাশি বিশেষ ক্ষেত্রে সীমারেখাও ছিল। যে সীমা বা পরিসর তিনি অতিক্রম করতে পারেননি। রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন তাই ত্রæটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বেও ছিলেন না। একটি বিশেষ পরিসরের বৃত্তে আজীবন আবদ্ধ থেকেছেন। বৃত্ত ভাঙার চেষ্টা করেননি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিশালত্ব আকাশচুম্বী। বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞানে, মননে, পাণ্ডিত্যে তিনি ছিলেন অনন্য-অসাধারণ। বিদ্যা-শিক্ষা প্রসারে তাঁর ভূমিকা প্রবাদতুল্য। সেই সময়কার পশ্চাৎপদ হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন করে সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত করেছিলেন। বহুক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বে বাঙালি জাতি তাঁকে চিরদিন স্মরণে রাখবে। তাঁর অমরত্ব লুপ্ত হবার নয়। চাঁদের বক্ষে যেমন কলঙ্ক না থাকলে চাঁদকে পরিপূর্ণ বলা যায় না। চাঁদের বক্ষে কতিপয় চিহ্নকে আমরা চাঁদের কলঙ্ক বলে অভিহিত করে থাকি। আমাদের সাহিত্যে তার বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রকৃতই ইহজাগতিক মানুষ ছিলেন।

দেবদেবী কিংবা দেবদূত ছিলেন না, ওতে তাঁর ন্যূনতম বিশ্বাসও ছিল না। আর অনিবার্যরূপে ছিলেন বাঙালি। তাঁর মহান কীর্তির পাশাপাশি বিশেষ ক্ষেত্রে সীমারেখাও ছিল। যে সীমা বা পরিসর তিনি অতিক্রম করতে পারেননি। রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন তাই ত্রæটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বেও ছিলেন না। একটি বিশেষ পরিসরের বৃত্তে আজীবন আবদ্ধ থেকেছেন। বৃত্ত ভাঙার চেষ্টা করেননি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে বর্তমান পশ্চিমবাংলার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। বীরসিংহ গ্রামটি সেকালে হুগলি জেলায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পিতামহ রামজয় তর্কভ‚ষণ ছিলেন সুপণ্ডিত এবং দৃঢ়চেতা মানুষ। জন্মের পর তাঁর নামকরণ ‘ঈশ্বরচন্দ্র’ পিতামহ’ই দিয়েছিলেন। পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন টুলো ব্রাহ্মণ। কলকাতায় সামান্য বেতনের চাকরি করতেন। কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতির কারণে পুরো পরিবার নিয়ে কলকাতায় বসবাস করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সে কারণেই ঈশ্বরচন্দ্র মা ও ঠাকুরমার সঙ্গে বীরসিংহ গ্রামে বসবাস করতেন। গ্রামের সনাতন বিশ্বাসের পাঠশালা, কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত পাঠশালায় বাংলা শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮২৮ সালে পাঠশালার শিক্ষা শেষে উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশে পিতার সঙ্গে কলকাতায় আসেন। কলকাতার গভর্নমেন্ট সংস্কৃত শিক্ষালয়ে ব্যাকরণ এবং ১৮৩০ সালে ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি হন। শিক্ষাজীবনে তিনি অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকাল ১৮২৯ থেকে ১৮৪১ সাল পর্যন্ত। বাংলা, সংস্কৃত, ইংরেজি ভাষায় তাঁর সমান দক্ষতা ও পাণ্ডিত্য ছিল অসামান্য।

তাঁর নামটি ঈশ্বরচন্দ্র ছিল বটে, কিন্তু তিনি ঈশ্বরকেন্দ্রিক ছিলেন না। ছিলেন মানবকেন্দ্রিক। তার বহু প্রমাণ রয়েছে তাঁর জীবনজুড়ে। সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদে থাকাবস্থায় ওই কলেজে কেবলমাত্র ব্রাহ্মণ শিক্ষার্থী ব্যতীত অন্য বর্ণের শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সংস্কৃত কলেজে যাতে কায়স্থ শিক্ষার্থীদের অন্তত পড়াশোনার সুযোগ দেয়া হয়; ঈশ্বরচন্দ্র সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এতে কলেজের ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা চরম বিরোধিতা করেন। যাঁদের মধ্যে তাঁর ব্রাহ্মণ শিক্ষকেরা পর্যন্ত ছিলেন।

রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বিলোপে অমর হয়েছেন। ঈশ্বরচন্দ্রও তেমনি বিধবা বিবাহ প্রবর্তনে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। তাঁর বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের পেছনে একটি ব্যক্তিগত ঘটনা তাঁকে বিধবা বিবাহ প্রবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বীরসিংহ গ্রামে তাঁর সঙ্গে এক বালিকার চমৎকার বন্ধুত্ব ছিল। পরস্পর ছিল পরস্পরের খেলার সাথী। ঈশ্বরচন্দ্র বালিকাটিকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, এবং পছন্দও। এক সময় তাঁদের মধ্যে অনুরাগের সৃষ্টি হয়। ভালোলাগা পরিণত হয় ভালোবাসায়। কিন্তু বালিকাটি যখন জানতে পারলো সে বাল্যবিধবা। সারাজীবন হিন্দু বিধবাদের ন্যায় তাকে কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করতে হবে। সেই বালিকাটি হিন্দু বিধবাদের কঠোর নিয়ম পালনের প্রতিবাদস্বরূপ আত্মহত্যা করে। এই ঘটনাই ঈশ্বরচন্দ্রকে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ঘৃণিত সেই প্রথা বাতিলে অঙ্গীকার করেন, সরকারকে দিয়ে যে-কোনো উপায়ে হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহের অধিকার প্রচলন করে আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ করাবেন।

তখনকার সমাজ-বাস্তবতায় কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। বিধবা বিবাহের প্রচলনে তাঁকে নানামুখী ষড়যন্ত্র-বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু দমে যাবার পাত্র নন ঈশ্বরচন্দ্র। রাজা কমলকৃষ্ণ দেববাহাদুরের সভাসদগণসহ অনেক ব্রাহ্মণ-পণ্ডিতেরা একজোটে ধর্মের সর্বনাশের আশঙ্কায় তীব্র আপত্তিসহ ধর্মশাস্ত্রের ব্যাখ্যা করে ঈশ্বরচন্দ্রকে বিধবা বিবাহ নিবৃত্তকরণের চেষ্টা করেন। ধর্মশাস্ত্র অনুসারে তারা বলেন, “মহাভারতে ঋষি দীর্ঘতমা ইহলোকে স্ত্রীলোকের এক পতি মাত্র নিয়ম সংস্থাপন করিয়াছেন; অতএব বিধবা বিবাহ অচল।” [বিদ্যাসাগর রচনাসংগ্রহ, ২:৯০] জ্ঞানে-পাণ্ডিত্যে অসামান্য ঈশ্বরচন্দ্র যে ন্যূনতম ধর্মাচার না করেও ধর্মশাস্ত্র সম্পর্কে অত্যধিক জ্ঞান রাখতেন; সে ধারণা ধর্মীয় পণ্ডিতদের জানা ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র ধর্মশাস্ত্রের সেই বিতর্কে মহাভারত থেকেই উদ্ধৃতি অনুবাদ করে বলেন, “দীর্ঘতমা ওই নিয়ম প্রচলন করেছিলেন ব্যভিচার নিবারণের জন্য।” [বিদ্যাসাগর রচনাসংগ্রহ, ২:৯৫] মহাভারত থেকে আরো দৃষ্টান্ত দেখিয়ে বলেন, “নাগরাজ ঐরাবতের বিধবা কন্যাকে অর্জুন বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘতমার নিয়ম স্থাপনের উদ্দেশ্য যদি বিধবা বিবাহ নিষেধ করা হতো, তাহলে নাগরাজ তাঁর বিধবা কন্যার কন্যাদান করতেন না। আর অর্জুনও বিধবা কন্যাকে বিয়ে করতে রাজি হতেন না।” এরপর নতমুখে পণ্ডিতগণের বিদায় নেয়া ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র ওই সকল পণ্ডিতদের উদ্দেশে মহাভারত থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন, “কুন্তীকে পাণ্ডু বলছেন : আগে নারীরা অলুব্ধা, স্বাধীনা ও স্বচ্ছন্দ বিহারিণী ছিলেন। পতিকে ছেড়ে অন্য পুরুষে উপগতা হলে তাঁদের অধর্ম হতো না। পুরাকালে এই ছিল ধর্ম। ঋষিরা এই ধর্মই মেনে চলেন। উত্তরকুরু দেশে এখনও এই ধর্ম মানা হয়। এই সনাতন ধর্ম স্ত্রীদের প্রতি অনুকূল।” (স্ত্রীণাম্ অনুগ্রহকর স হি ধর্ম : সনাতন:) তবে উত্তরকুরু নামে সব-পেয়েছির-দেশ-এর বাইরে এই প্রথা বহাল রইল না কেন? পাণ্ডু তারও বিবরণ দেন, শ্বেতকেতু, তাঁর বাবা ও মা এক জায়গায় বসেছিলেন। এমন সময়ে এক ব্রাহ্মণ এসে শ্বেতকেতুর মায়ের হাত ধরে ‘এসো যাই’ বলে তাঁকে আড়ালে নিয়ে গেলেন। শ্বেতকেতু তাতে প্রচণ্ড ক্ষীপ্ত হয়েছেন দেখে তাঁর বাবা বললেন, “রাগ কোরো না, পুত্র; এই তো সনাতন ধর্ম” (মা তাত কোপং কার্ষীস্ ত্বম্ এষ ধর্মঃ সনাতনঃ) শ্বেতকেতু এতে আশ্বস্ত না হয়ে নিয়ম ঘোষণা করেন: নারী বা পুরুষ কেউই তার স্বামী বা স্ত্রীকে অতিক্রম করতে পারবে না। উদ্দালকের ছেলে শ্বেতকেতু বলপূর্বক এই নিয়ম স্থাপন করেছিলেন।

তাহলে দেখা যায় অতীতে যেটা সনাতন ধর্ম ছিল, সেটা আর সনাতন ধর্ম রইল না। নতুন নিয়ম প্রচলন হল। স্বামী-স্ত্রী বিষয়ে সনাতন ধর্ম আর অপরিবর্তিত থাকলো না। সনাতন ধর্মেরও পরিবর্তন হয়, যুগের তাগিদে।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ প্রচলনের উদ্দেশে ‘বিধবা বিবাহ’ দ্বিতীয় গ্রন্থের শেষে প্রতিপক্ষদের আরো বলেন, “আর আপনারা ইহাও বিবেচনা করিয়া দেখুন আমাদের দেশের আচার একেবারেই অপরিবর্তনীয় নহে। ইহা কেহই প্রতিপন্ন করিতে পারিবেন না, সৃষ্টিকাল অবধি আমাদের দেশে আচার পরিবর্তন হয় নাই; এক আচারই পূর্বাপর চলিয়া আসিতেছে। অনুসন্ধান করিয়া দেখিলে, আমাদের দেশের আচার পরিবর্তিত হইয়া আসিয়াছে। পূর্বকালে এদেশে চারি বর্ণে যেরূপ আচার ছিল, এক্ষণকার আচারের সঙ্গে তুলনা করিয়া দেখিলে, ভারতবর্ষের ইদানীন্তন লোকদিগকে এক বিভিন্ন জাতি বলিয়া প্রতীতি জন্মে। বস্তুত ক্রমে ক্রমে আচারের এত পরিবর্তন হইয়াছে যে, ভারতবর্ষের ইদানীন্তন লোক, পূর্বতন লোকদিগের সন্তান পরম্পরা, এরূপ প্রতীতি হওয়া অসম্ভব।” [বিদ্যাসাগর রচনাসংগ্রহ, ২:১৬০-১৬১]

ধর্ম নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি-মাতামাতি ছিল বিদ্যাসাগরের চিন্তা-দৃষ্টিভঙ্গি ও আচারের সম্পূর্ণ বহিভর্‚ত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ধর্মাচার করতেন না এবং ধার্মিকও ছিলেন না। অথচ ধর্মশাস্ত্র-সংস্কৃতে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসামান্য। বিধবা বিবাহ যে ধর্ম বিরুদ্ধ নয়, বিপরীতে ধর্মীয় মতে বৈধ; সেটা প্রমাণে তাঁকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। অনায়াসে প্রতিপক্ষদের পরাস্ত করতে পেরেছিলেন, ধর্মশাস্ত্র প্রমাণে। তাঁর ধর্ম-ধারণা সম্পর্কে ড. বিনয় ঘোষ একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি শিবনাথ শাস্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন; বিদ্যাসাগর জিজ্ঞেস করলেন, “ও হে হারাণ, তুমি তো কাশীবাস করছ, কিন্তু গাঁজা খেতে শিখেছ ত?” উত্তরে শিবনাথ শাস্ত্রীর পিতা হারাণ শাস্ত্রী বলেন, “কাশীবাস করার সঙ্গে গাঁজা খাওয়ার কি সম্বন্ধ আছে?” বিদ্যাসাগর বলেন, “তুমি তো জান, সাধারণ লোকের বিশ্বাস যে কাশীতে মরলে শিব হয়। কিন্তু শিব হচ্ছেন ভয়ানক গাঁজাখোর। সুতরাং আগে থেকে গাঁজা খাওয়ার অভ্যাসটা করে রাখা উচিত নয় কি? তা না হলে যখন প্রথম গাঁজা খাবে তখন তো মুস্কিলে পড়তে পার।” [ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিনয় ঘোষ, পৃ ১৫২] ড. বিনয় ঘোষ ওই গ্রন্থের ৪০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “বিদ্যাসাগরের পাণ্ডিত্য ছিল মানবকেন্দ্রিক ঈশ্বরকেন্দ্রিক নয়।”

ঋষি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বিদ্যাসাগরের বাড়িতে যান। তাঁকে শিষ্য করতে না পারলেও অন্তত ধার্মিক করতে। রামকৃষ্ণের উপস্থিতি বিদ্যাসাগরের কাছে অসহ্য ঠেকছিল। রামকৃষ্ণ তাঁকে বলেন, “আমি সাগরে এসেছি, ইচ্ছা আছে কিছু রত্ম সংগ্রহ করে নিয়ে যাব।” বিদ্যাসাগর বিরক্ত হয়ে বললেন, “আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হবে বলে তো মনে হয় না, কারণ এ সাগরে কেবল শামুকই পাবেন।” পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে বলেছেন, “এমন কি তাঁর (বিদ্যাসাগরের) নিজের মোক্ষলাভের জন্য ভগবানের নাম করবারও তাঁর কোন স্পৃহা নেই, সেইটা বোধ হয় তাঁর সবচেয়ে বড় ত্যাগ। অন্য লোকের উপকার করতে গিয়ে তিনি নিজের আত্মার উপকার করার প্রয়োজন অগ্রাহ্য করেছেন। [ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিনয় ঘোষ, পৃ ১৫৭]

দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়ের পুত্র রাধাপ্রসাদ রায়ের পৌত্র ললিতমোহন রায়কে ধেস্নহে কাছে ডেকে বলেছেন, “ললিত তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস কর যে মৃত্যুর পরে জীবন আছে? আমরা আমাদের এই পার্থিব জীবন সম্বন্ধেই অনেক কিছু জানি না। কিন্তু তুমি ভাগ্যবান, কারণ তুমি শুধু এই পার্থির জীবন সম্বন্ধেই জান তা নয়, এমন কি মৃত্যুর পরে পারলৌকিক জীবন সম্বন্ধেও তোমার জ্ঞান আছে।” …বিদ্যাসাগর হাসতে হাসতে বললেন, “তোমার কথা শুনে বেশ মধুর লাগছে, যদিও হাসি পাচ্ছে। আমার এই জরাজীর্ণ বার্ধক্য অবস্থায় শুনে খুব সান্ত¡না পেলাম যে মৃত্যুর পর আমি উপযুক্ত প্রতিদান পাব।” [ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিনয় ঘোষ, পৃ ১৫৪]।

এসআর

মন্তব্য করুন

যে মন্তব্যগুলো খবরের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে এবং আপত্তিজনক হবে না সেই মন্তব্যগুলোই দেখানো হবে। প্রকাশিত মন্তগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত। পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য ভোরের কাগজ লাইভ কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

জনপ্রিয়