রাহি করোনা পজেটিভ

আগের সংবাদ

ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে ফিরছেন আটকে পড়া পর্যটকরা

পরের সংবাদ

দৈনিক উৎপাদন ৫৫০০ টন

পাথর উত্তোলন শুরু, শ্রমিক পদভারে মুখর মধ্যপাড়া

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ , ৮:৫২ অপরাহ্ণ

গতি বাড়বে মেগা প্রকল্পে

পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া খনিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে বুধবার ( ২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে তৃতীয় শিফট চালু করা হয়েছে। এর ফলে তিন শিফটে পূর্ণমাত্রায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মে.টন পাথর উৎপাদন হবে। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে খনি এলাকা। সেই সঙ্গে স্বস্তি ফিরে এসেছে পাথর খনি ভিত্তিক নানা পেশায় জড়িত শ্রমজীবী মানুষের মাঝে। এদিকে, করোনাকালীন ২৯ এপ্রিল থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খনি থেকে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাথর বিক্রি হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে মধ্যপাড়া খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি ২৬ মার্চ থেকে পাথর উৎপাদন বন্ধ রাখে। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ১৬ আগষ্ট পাথর উত্তোলন শুরু করে জিটিসি। করোনার আগে এ খনি থেকে প্রতিদিন তিন শিফটে গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে খনির উৎপাদন ইতিহাসে নয়া রেকর্ড গড়ে জিটিসি।

সূত্র জানায়, অব্যাহত লোকসানের মুখে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে মধ্যপাড়া খনির উৎপাদন, রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচালন ঠিকাদার হিসেবে বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোসট্রয় ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেড নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি) দায়িত্ব দেয়া হয়। জিটিসি’র সঙ্গে চুক্তি সাক্ষরিত হয় ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর। চুক্তি অনুযায়ী, জিটিসি ১৭১.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে দিবে। চুক্তি কার্যকর হয় ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। জিটিসি পাথর উৎপাদন শুরু করে ২৪ ফেব্রুয়ারি। চুক্তি অনুযায়ী, উৎপাদন সহায়ক সবধরনের মাইনিং ইক্যুইবমেন্ট সরবরাহ করার কথা ছিল খনি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় মাইনিং ইক্যুইবমেন্ট আমদানি করতে না পারায় খনি ভূগর্ভে স্টোপ উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ৩ বছর পাথর উৎপাদন বন্ধ থাকে।

পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া খনি

এরই মধ্যে জিটিসির সঙ্গে চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়ে যায় চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে জিটিসি পাথর উত্তোলন করে প্রায় ৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেলারুশের খনি বিশেষজ্ঞ এবং দেশীয় প্রকৌশলীসহ প্রায় সাড়ে ৭শত খনি শ্রমিক নিয়ে তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের সক্ষমতা অর্জন করে। খনির পাথর উৎপাদনে নয়া রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি মধ্যপাড়া পাথর খনিকে লোকসানের কবল থেকে উদ্ধার করে প্রথম বারের মত লাভের মুখ দেখায় ২০১৯ সালে। খনির পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত রাখতে জিটিসি অঙ্গীকারাবদ্ধ ।

সূত্রমতে, জিটিসি’র সঙ্গে চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উৎপাদনে অচলাবস্থার দেখা দেয়। দেশে নির্মানাধীন বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে মধ্যপাড়ার উন্নতমানের পাথর ব্যবহার হচ্ছে। এ অবস্থায় খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে একদিকে ওইসব প্রকল্পে পাথরের সমস্যা হবে, অপরদিকে মধ্যপাড়া খনিও ক্রেতা হারাবে। এসব বিষয় মাথায় রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জিটিসি’র সঙ্গে আরো এক বছর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে খনি কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট মাসে জিটিসি তাদের অধীনে কর্মরত সব শ্রমিকের করোনা টেষ্ট করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে খনির স্টোপ উন্নয়ন ও ২ শিফটে পাথর উৎপাদন শুরু করে। প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বুধবার থেকে ৩ শিফট চালু করে স্টোপ উন্নয়ন এবং পাথর উৎপাদন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন করা হয়েছে ৭৭ হাজার মে.টন পাথর। বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ মে.টন পাথর।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবিএম কামরুজ্জামান জানান, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ বিস্তারের ফলে অন্য কোন উৎস থেকে উন্নতমানের পাথর সরবরাহ না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন সরকারি মেগা প্রকল্পের পাথরের চাহিদা পূরণের জন্য এ খনির বিশ্বমানের পাথর নেয়ার জন্য সব প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এছাড়া মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আহবানে সাড়া দিয়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেলপথ ও সড়ক সেতু মন্ত্রনালয়সহ বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নির্মাণ কাজে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারি এ উদ্যোগে মধ্যপাড়ার পাথরের চাহিদা ও বিক্রি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরো জানান, এপ্রিল থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাথর বিক্রি করা হয়েছে। যার বিক্রি মূল্য প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়