ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মামুনকে অব্যাহতি

আগের সংবাদ

মেঘনার জোয়ারে কমলনগর-রামগতির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পরের সংবাদ

বন্যায় সড়ে গেছে ভিটের মাটি

মদনের গুচ্ছ গ্রামের শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ , ১০:০১ অপরাহ্ণ

বন্যা ও বর্ষার পানি সড়ে গেলেও চরম দূর্ভোগে রয়েছে নেত্রকোণার মদন উপজেলার গুচ্ছ গ্রামের শতাধিক পরিবার। বন্যার পানিতে গুচ্ছ গ্রাম তলিয়ে গেলে অনেক ঘরের ভিটের মাটি সড়ে যাওযায় ঘরগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিদুৎ সংযোগ না থাকায়
এলাকাটি ভূতুড়ে গ্রামে পরিণত হয়েছে।

বৃষ্টির জন্য কাজকর্ম করতে না পারায় অধিকাংশ পরিবারের লোকজন কর্মহীন হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করছে। হাওরপাড়ে নির্মিত গুচ্ছ গ্রামগুলোতে এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ না করলে বর্ষাকালে যে কোনো মুহূর্তে হাওরে গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওই গ্রামে বসবাসরত বাসিন্দারা।

ঈদুল আযহার পর থেকে তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোন সাহায্য। ঘরগুলো সংস্কার করার সক্ষমতা না থাকায় অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার অবদান, গৃহহীনদের বাসস্থান গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায়(সিভিআরপি) ২০১৮/১৯ অর্থবছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মদন উপজেলার হাওরাঞ্চলে ছত্রমপুর গুচ্ছগ্রাম, ত্রিপন গুচ্ছগ্রাম, গোবিন্দশ্রী গুচ্ছগ্রাম ও বিয়াশি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়। ৪টি গুচ্ছগ্রামে ২৩০ টি পরিবারের বসবাস রয়েছে।

বুধবার বিয়াশি গুচ্ছ গ্রামে সরজমিনে গেলে, ৩০/৩৫ টি পরিবার খুবই দূরাবস্থায় বসবাস করতে দেখা যায়। ২৫/৩০ টি ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে। গুচ্ছগ্রামে প্রবেশের কোনো রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই, নামাজখানা নেই, শিশুদের খেলাধুলার কোনো স্থান নেই। বৃষ্টির জন্য কাজকর্ম করতে না পাড়ায় কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন-যাপন করছে অধিকাংশ পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্য ৩টি গুচ্ছগ্রামের অবস্থাও অনুরূপ। সেখানের বসবাসরত বাসিন্দারাও খুবই দূর্ভোগে জীবন-যাপন করছেন।

ভিটের মাটি সড়ে যাওযায় বসবাসের অনুপযোগী গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো

বিয়াশি গুচ্ছগ্রামের বসবাসরত কমিটির সভাপতি ওয়াসিদ মিয়া, বাসিন্দা সুবেল, খসরু, নজরুল, সাইদুল, আজিজুল, করিম, হোসনা আক্তার জানান, আমরা গরীব মানুষ। আমাদের কোনো কিছু নেই বলেই গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নিয়েছি। বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করে যে ক্ষতি হয়েছে তা সরকার যদি সংস্কার না করে দেয় তাহলে এ গ্রামের ২৫/৩০ টি পরিবার যেভাবে ঘর ছেড়ে চলে গেছে আমাদের অবস্থাও তা হবে। বৃষ্টির জন্য কাজকর্ম করতে না পাড়ায় কর্মহীন হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন-যাপন করছি। ঈদের পর থেকে আমাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি সাহায্য। গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, শিশুদের খেলাধুলার কোনো স্থান নেই। গ্রামে কোনো নিরাপত্তা দেয়াল না থাকায় বর্ষাকালে হাওরের ঢেউয়ে ভাঙনের আতংকে হুমকিতে বসবাস করতে হয়।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বন্যা পরবর্তীতে পুর্ণবাসন কার্যক্রম শুরু না করায় বিয়াশি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা খুবই দূরাবস্থায় আছে। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরোপন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। আদেশ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল তাদের দূর্ভোগের সত্যত্যা স্বীকার করে বলেন, অচিরেই তাদের খাদ্য সমস্যা সমাধানসহ উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, বন্যায় গুচ্ছগ্রামগুলোর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। এ গ্রামগুলোতে সরকার কর্তৃক ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়