সবার অগোচরে অর্থবিত্তের বৈভব

আগের সংবাদ

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সপ্তাহে ৪টি ফ্লাইটের অনুমতি

পরের সংবাদ

ফ্লাইট জটিলতার দ্রæত সমাধান করুন

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ

অভিবাসী শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফিরতে বিমানের টিকেট সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত অভিবাসীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন। অনেকের আবার শেষ হয়ে যাচ্ছে ভিসার মেয়াদও। অভিবাসীদের বিমান টিকেটপ্রাপ্তিতে জটিলতা, হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা উদ্বেগের বিষয়। যারা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে তাদের এ ধরনের হয়রানি অমানবিক ও দুঃখজনক। জানা গেছে, শর্তসাপেক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেয় সৌদি আরব সরকার। এরপর সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে অনুমতি চায়। একইভাবে বিমানও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করতে সৌদি অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চায়। বেবিচক সৌদি এয়ারলাইন্সকে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দিলেও শর্ত ভঙ্গসহ টিকেট বিক্রিতে অনিয়ম তুলে বিমানকে অনুমতি দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট ছয় শতাধিক আসনে সর্বোচ্চ ২৬০ জন যাত্রী পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। দুটি ফ্লাইটে প্রতিদিন ৫২০ জন যাত্রী সৌদি আরব ফিরলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আটকেপড়াদের ৫ শতাংশও ফিরতে পারবেন না। এতে করে হতাশায় ও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন প্রবাসীরা। সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্মস্থলে ফেরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমন দুরবস্থার প্রতিকার চেয়ে গত ৫ দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে আটকেপড়া শত শত রেমিট্যান্সযোদ্ধা। গতকাল তারা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান করে। আটকেপড়া শ্রমিকদের যথাসময়ে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে সরকারের জোরালো ভ‚মিকা ছাড়া বিকল্প নেই। আশার কথা, শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সৌদি আরবে যাওয়া নিশ্চিত করতে সে দেশের সরকারকে ৩ মাসের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এ অনুরোধ জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। আশা করছি, সৌদি কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দেবে। সৌদি আরবের উচিত বিমানকে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের অনুমতি দেয়া। পাশাপাশি বেবিচকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ বিমানেরও করণীয় রয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের টিকেট বিক্রি নিয়ে অনিয়ম ও অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু বৈশি^ক সংকটকালীন বিমানের এমন অবস্থা মানা যাবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বেশ পুরনো হলেও এসব নির্মূলে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি নেই। এ সংস্থার দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন প্রবাসী শ্রমিক ও রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, প্রবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ে তাদের কর্মস্থলে পুনরায় ফেরত যেতে প্রয়োজনে বিশেষ বিমান ফ্লাইট চালু, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিতসহ টিকেটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়