ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

টিউশন ফি কমানো এবং শিক্ষকদের সম্মানী দুটিই জরুরি!

আগের সংবাদ

বিমান চলাচলে টানাপড়েন

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি

মালেক আবজালদের দমন করা কি কঠিন?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ , ১০:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ , ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

দুর্নীতি-অনিয়ম যে কোনো খাতেই ক্ষতিকর; কিন্তু স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকারের ইস্যুর ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি স্পর্শকাতর। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আবজাল হোসেনের পর আরেক দুর্নীতিবাজ মালেক সিন্ডিকেটের ঘটনা এখন গণমাধ্যমের আলোচিত বিষয়। স্বাস্থ্যে নিয়োগ, বদলি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের টাকা তোলার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সিন্ডিকেট গড়েন আব্দুল মালেক ওরফে মালেক ড্রাইভার ওরফে বাদল হাজি। শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক গাড়িচালক মালেক অস্ত্র ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তারের পর তার সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য পেয়েছেন র‌্যাবের তদন্তকারীরা। জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেনের সময় দুই বছরে দেশজুড়ে তদবির বাণিজ্যে অন্তত ১০০ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দিয়েছেন মালেক। মালেক, আবজালরা একদিনে তৈরি হননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়ে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দুর্নীতির একটি শক্তিশালী দুষ্ট বলয় তৈরি হয়েছে। তারা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওষুধ, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে স্বাস্থ্য খাতে জনসাধারণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাজেটের অর্থ আত্মসাৎ করছে। ঊর্ধ্বতম মহল কি ওয়াকিবহাল ছিল না? আশার কথা, প্রশাসন এখন উঠেপড়ে লেগেছে। সহযোগী এক দৈনিকের খবর বলছে, স্বাস্থ্য বিভাগের ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছেন। সরকারি একাধিক সংস্থার তালিকা ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে। এরা সবাই আবজাল ও মালেকের মতোই ধনাঢ্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থেকে নিয়োগ, বদলি, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আবজাল হোসেন, গাড়িচালক মালেক, ডাক্তার সাবরিনা, আরিফুর রহমানের মতো কিছু চুনোপুঁটি ধরা পড়ে কারাগারে গেলেও মাফিয়ারা সব সময়ই থাকেন বহালতবিয়তে। আবজাল-মালেকরা যদি কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হন, তাহলে তার আশ্রয়দাতা মাফিয়ারা কী পরিমাণ অর্থ লুট করেছেন এমন প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বরপুত্র মোতাজজেরুল ইসলাম মিঠু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। কাজেই এ খাতটির অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ না করলে মৌলিক অধিকারের প্রতি অবহেলার মতো প্রশ্নও সামনে আসবে। তাছাড়া এভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি চলতে থাকলে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দেবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে উপর্যুপরিভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা দিয়ে আসছেন। প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেয়া হলেও তার সিংহভাগ লুটেরা চক্রের পকেটে যায়, এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। দুর্নীতির নিকৃষ্ট জীবরা যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পঙ্গু করে ফেলেছে সে সত্যটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে করোনাকালে। স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনোভাবেই যেন মালেক-আবজাল-মিঠুরা ছাড় না পান, সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়