এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদ প্রসঙ্গে

আগের সংবাদ

গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেয়া হলো নূরকে

পরের সংবাদ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি দুদকের তদন্তে গতি বাড়ুক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ , ১০:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ , ১০:০৩ অপরাহ্ণ

অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে বিশৃঙ্খলা। চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছরে আর্থিক খাতের অনিয়মের ঘটনাগুলোর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ছিল বহুল আলোচিত। ঘটনার পর ৬১টি মামলা দায়ের করলেও এখনো তদন্ত শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে আদালতে একটি মামলারও চার্জশিট দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে করে আর্থিক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। বেসিক ব্যাংকে যা ঘটেছে, তা সাধারণ অনিয়ম ও দুর্নীতির কাতারে ফেলা যায় না। এটা এক বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি। ব্যাংকটি এর আগে ভালোভাবে পরিচালিত হলেও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইয়ের আমলে কথিত ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এরপর অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ৬১টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় মোট ১২০ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার হয়েছে ১৪ জন। কিন্তু মামলার ৫ বছর অতিক্রম হলেও এখনো আদালতে একটি মামলারও চার্জশিট দাখিল করেনি সংস্থাটি। শোনা যাচ্ছে নানামুখী চাপে সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। এমন অবস্থা অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং সমৃদ্ধির উজ্জ্বল চিত্র আমাদের উল্লসিত করলেও আমাদের সব উচ্ছ্বাস থেমে যায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্ক দেখলে। এ বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সবাই সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। বিষয়টি সবাইকে বিব্রত করে, এ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন মহলে এবং ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। আমরা মনে করি, এখনই সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। অস্বীকার করার উপায় নেই, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, উচ্চ আদালতে রিট, সর্বোপরি বিচার না হওয়ার কারণেই বড় বড় অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণখেলাপির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতা, রাঘববোয়ালদের বাঁচাতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কারণে আর্থিক খাতের লুটেরারা উৎসাহিত হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া অর্থ আত্মসাৎ সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হলে প্রথমেই ঋণখেলাপিসহ প্রতিটি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা-পরিচালকদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে যেন রিকভারি এজেন্টরা জিম্মি হয়ে না পড়ে সেদিকেও গভীর মনোযোগ দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারের সামনে। শক্ত হাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়