মুম্বাইয়ে ভবন ধসে নিহত ১০

আগের সংবাদ

জয়ার গোপনে ১৫ দিন

পরের সংবাদ

নেই উপাচার্য-কোষাধ্যক্ষ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ইবি পরিবার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ , ১২:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ , ৩:৪০ অপরাহ্ণ

টানা একমাস উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ ছাড়ায় চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। ২০ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী এবং ২১ আগস্ট কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম তোহার মেয়াদ শেষ হয়। ফলে ২২ আগস্ট থেকে মূলত গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটি শূন্য হয়ে আছে। অভিভাবকহীন ইবিতে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরে নেমে এসেছে স্থবিরতা। আটকে আছে ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাস্টার রোলের (থোক বরাদ্দ) ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের বেতন-ভাতাও। এ মাসেই উপাচার্য নিয়োগ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সামনের মাস থেকে বেতন পাবেন না। সবমিলিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন পার করছে ইবি পরিবার।

জানা যায়, বর্তমান প্রশাসনের শেষ কার্যদিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের অনুমতি দিয়ে যায় উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর রশিদ আসকারী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম তোহা। কিন্তু ল্যাব স্কুল এন্ড কলেজের ২০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৯৪ জন আনসার সদস্য ও ৮০ জন থোকে থাকা কর্মরতদের বেতন-ভাতার ব্যাপারে কোন অনুমতি দিয়ে যাননি। ফলে নতুন উপাচার্য না আসা পযন্ত তারা কোন বেতন-ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

তিনি বলেন, উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ শূন্য থাকায় তাদের বেতন আটকে আছে। সরকার ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পদে কাউকে এখনও নিয়োগ দেয়নি। এমনকি বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানকেও অফিসিয়ালি কোন দায়িত্ব দেয়নি। তাই তিনি আর্থিক ক্ষেত্রে কোন অনুমোদন দিতে পারবেন না। এ মাসেই উপাচার্য বা কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা-কর্মচারীরাও সামনের মাস থেকে বেতন পাবেন না জানালেন তিনি।

ক্যাম্পাসে বর্তমান চলছে নানামুখী উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। সরকারের দেয়া ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কিছু কাজ শুরু হলেও ঠিকাদাররা নিয়মিত বিল পাচ্ছেন না। ফলে শ্রমিকরাও কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন। অন্যদিকে নতুন কিছু ভবনের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও উপাচার্যের সিদ্ধান্ত ও অনুমতি ছাড়া কার্যাদেশ প্রদান করা যাচ্ছে না বলে প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে।

প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলীমুজ্জামান টুটুল বলেন, সব উন্নয়ন কাজ মন্থর হয়ে গেছে। নতুন নতুন কাজে হাত দিতে পারছি না। বন্ধের মধ্যে কিছু আবাসিক হলের সংস্কার কাজে টেন্ডার হয়েছিল কিন্তু সিদ্ধান্তের অভাবে সব বন্ধ হয়ে পড়েছে।

মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। অনলাইন ক্লাসে পাঠদানের ফলে একাডেমিক সাইটে কিছুটা হলেও গতিশীলতা ফিরে এসেছিল। কিন্তু উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হতেই অধিকাংশ বিভাগে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অনলাইন ক্লাসসহ একাডেমিক সাইট এবং সর্বস্তরে গতিশীলতা আনয়নে অতিদ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হোক।

উপাচার্য না থাকায় রেজিস্ট্রার অফিসে প্রায় সাড়ে চার শত ফাইল আটকা পড়েছে। আটকে আছে কয়েকটি বিভাগের নতুন সভাপতি নিয়োগ ও প্রমোশন প্রক্রিয়াও। এছাড়া ছুটি সংক্রান্ত ব্যাপারেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের। কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক আবু হেনা মোস্তফা জামাল বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মানে উক্ত ক্যাম্পাসের প্রাণ। সেই প্রাণ না থাকাই কোন গতিশীলতা পাচ্ছি না আমরা। সমস্ত নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো তিনিই হাতে নেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অতি দ্রুত যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হোক।

আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহজাহান মণ্ডল বলেন, উপাচার্য না থাকায় একাডেমিক-প্রশাসনিক সহ বিভিন্ন কালচারাল এ্যাক্টিভিটিস ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাভাবিকভাবে গতিশীল রাখতে অবশ্যই পদ দুটিতে অতিদ্রুত নিয়োগের দাবি জানাই।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়