তিস্তার ভাঙনে দিশাহারা লালমনিরহাটের মানুষ

আগের সংবাদ

ভাঙতে হবে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি-সিন্ডিকেটের চক্র

পরের সংবাদ

করোনাকালে ১৭ হাজার ৩০৬ প্রতিষ্ঠানের পাশে অগ্রণী ব্যাংক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ , ১১:০২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ , ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে পড়েছে। অর্থনীতির দুরবস্থা উত্তরণে সরকার শিল্প, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যার উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩০৬ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকটি।

আগস্ট শেষে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৩৬০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। পাশাপাশি মঞ্জুরকৃত ৮৬২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ ঋণ বিতরণ সম্পন্ন হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি মূলধনের বিপরীতে শিল্পঋণ, রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, সিএসএমই, কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, শস্য ও ফসল চাষ, ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়।

এসব খাতে অগ্রণী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটি শস্য ও ফসল খাতে ১৪ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।

এ খাতে ব্যাংকটির বরাদ্দ রয়েছে ৪৪০ কোটি টাকা। কৃষি খাতের বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বরাদ্দ ১২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ১০৬ কৃষককে ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতায় ব্যাংকটি ১৩৫ কোটি ৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ খাতে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে।

চলতি মূলধনের বিপরীতে শিল্পঋণ খাতে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া মঞ্জুরকৃত ২৫ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৪৮৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। সিএসএমই খাতে ৪৮ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া ২২৩ প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুরির নিমিত্তে ৩২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা প্রকল্পে ৫টি আবেদনের বিপরীতে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে প্রণোদনায় ২৮৩ এলসির বিপরীতে ৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতি অনেকটা সংকটে পড়েছে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয় বহির্বিশ্বে একই অবস্থা। সংকট উত্তরণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা শুধু সময়োপযোগীই না বরং সময়ের আগে দক্ষতার সঙ্গে সুনিপুণভাবে জনগণকে প্রণোদনা প্যাকেজ উপহার দিয়েছেন। শিল্প, কৃষি, সিএমএমইসহ যতগুলো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, এটি শতভাগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নিরলসভাবে আমরা কাজ করছি। স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সন্তুষ্টিপত্র পেয়েছি। শামস-উল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার মধ্যে ইতোমধ্যে আমরা রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ পরিশোধে বরাদ্দকৃত ঋণের অর্থ শতভাগ বিতরণ করেছি।

কৃষিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়াসহ সব প্রণোদনার অর্থ বিতরণ বাস্তবায়নে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সক্রিয় রয়েছেন। আমি আশাবাদী শুধু আমার ব্যাংক নয় দেশের সব ব্যাংকই অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ বাস্তবায়নে চেষ্টা করবে।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়