এক ব্যক্তির নির্দেশেই চাকুরিচ্যুত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

আগের সংবাদ

তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

তার সঙ্গেই কি মৃত্যু হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ , ২:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ , ৬:০৯ অপরাহ্ণ

১৯৯৬ সালে নিজ ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক প্রয়াত সালমান শাহকে। ক্ষণজন্মা এই নায়কের প্রতি ভক্তদের ভালোবাসা পরিমাপ করার মতো নয়, তা একবাক্যে বলা যায়। সেই ঝুলন্ত লাশের সঙ্গেই হয়তো মাটিচাপা পড়ে গেছে এদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলা চলচ্চিত্রের গ্রহণযোগ্যতা। তার প্রমাণ, সালমান শাহের মৃত্যুর ২৪ বছরেও কেউ তার জায়গা নিতে পারেনি। ভুলিয়ে দিতে পারেনি তার নাম। শুরুতে বিষয়টি আত্মহত্যা বলা হয়। কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার মা নীলা চৌধুরী। তায়ের মায়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্তক্ষরণ হতে থাকা প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ও একই কথাই যেন বলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা এখনো চলমান। চলতি বছর তার মৃত্যুর দুই যুগ পার হয়েছে।

হুট করেই বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে নক্ষত্র হয়ে ধরা দেন ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহ। মাত্র তিন বছরেই তিনি জয় করে নেন কোটি ভক্তের হৃদয়। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন তিনি। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে চিত্রনায়িকা মৌসুমীরও। প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেন তিনি। তার চলন-বলন ও পোশাক-পরিচ্ছদ তরুণদের মন জয় করে নেয়। সেই ৯০ দশকের সিনেমাতেও তার মানানসই গেটআপে যে আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল, সে ছোঁয়া গত ২৪ বছরেও তৈরি করতে পারেনি বাংলা চলচ্চিত্র জগত। আর এই ক্ষণজন্মার অভিনয় ও বাচনভঙ্গির তো তুলনাই হয় না। বলাই বাহুল্য, সালমান শাহের নিজস্ব স্টাইল বা ধরণগুলো ছিল ব্যতিক্রম। যা তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। তার জনপ্রিয়তাই বলে দেয়, একজন সালমান শাহ যদি বেঁচে থাকতেন তবে হয়তো বাংলা চলচ্চিত্র এখন যে অবস্থানে রয়েছে তার থেকেও কয়েক যুগ এগিয়ে থাকতো। মানসম্মত বিনোদন পেতে বাংলাদেশের দর্শদেরকে বিদেশি চলচ্চিত্রের প্রতি নির্ভরশীল হতে হতো না।

সালমান শাহ নামটি ছিল সিনেমার জন্য। তবে এই নায়কের প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ১৯৭০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। ছোট পর্দা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সালমান শাহ। তবে সাফল্য পান বড় পর্দায়। অভিষেক সিনেমাতেও দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন তিনি। একের পর এক উপহার দিয়েছেন সুপারহিট সিনেমা। তাকে দেখা গেছে মোট ২৭টি সিনেমায়। আর এতে সময় লেগেছিল মাত্র তিন বছর।

নন্দিত এই অভিনেতা ছোট পর্দায় অভিনয় করেছেন- ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’র মতো নাটকে। এছাড়া বিজ্ঞাপনেও দেখা গেছে তাকে।

সালমান শাহ অভিনীত সিনেমাগুলো হলো- ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ (বিপরীতে মৌসুমী), তুমি আমার (শাবনূর), অন্তরে অন্তরে (মৌসুমী), কন্যাদান (লিমা), জীবন সংসার (শাবনূর), চাওয়া থেকে পাওয়া (শাবনূর), সুজন সখী (শাবনূর), বুকের ভেতর আগুন (শাবনূর), এই ঘর এই সংসার (বৃষ্টি), স্নেহ (মৌসুমী), বিচার হবে (শাবনূর), প্রেমযুদ্ধ (লিমা), মহা মিলন (শাবনূর), তোমাকে চাই (শাবনূর), বিক্ষোভ (শাবনূর), আশা ভালোবাসা (শাবনাজ), মায়ের অধিকার (শাবনাজ), আঞ্জুমান (শাবনাজ), আনন্দ অশ্রু (শাবনূর), প্রেম পিয়াসী (শাবনূর), সত্যের মৃত্যু নেই (শাহনাজ), প্রিয়জন (শিল্পী), শুধু তুমি (শ্যামা), স্বপ্নের পৃথিবী (শাবনূর), স্বপ্নের নায়ক (শাবনূর), দেন মোহর (শাবনূর) ও স্বপ্নের ঠিকানা (শাবনূর)।

সিনেমাপ্রিয় দর্শকরা সকল কাজ শেষে একটু স্বস্তির আশায় টিভির পর্দায় চোখ রাখেন। ব্যস্ত জীবনে একটু বিনোদন পেতে সিনেমার জন্য বাড়তি সময়কেও যেন আলাদা করে গুছিয়ে রাখেন। একটা সময় গ্রামের সকল মানুষ একসঙ্গে এক টিভির সামনে বসতেন সিনেমা দেখতে। সিনেমা দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়তেন দর্শকরা। সিনেমা থেকে উঠে আসত কিছু বাস্তবধর্মী বার্তা। অথচ এখন প্রতিটি ঘরে পর্দা আর হাতের মুঠোয় সব থাকতেও মানুষ কেন বাংলা সিনেমা থেকে বিমুখ হচ্ছে?

অভিনয়ের জগতে যখন নতুনত্বের গ্রহনযোগ্যতা আর সৃজনশীলতার প্রাধান্যতা, তখন দুই যুগ আগে যে সালমান শাহ চলে গেছেন! তার প্রতি এখনো কেন ভক্তদের এত ভালোবাসা? ভালোবাসা থাকতেই পারে। কিন্তু নতুনদের দূরে ঠেলে দিয়ে এখনো কেন সালমান শাহকেই স্মরণ করছে পর্দাপ্রেমীরা? অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে, যেসব তরুণ-তরুণীরা সালমান শাহের ভিডিও শেয়ার দিয়ে ফেসবুকে স্মরণীয় কথা লিছেন, সেসব তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশের জন্মই হয়েছে সালমান সাহের মৃত্যুর পরবর্তীতে। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়…বাংলা চলচ্চিত্র গত দুই যুগেও কি একজন সালমান শাহ তৈরি করতে পারেনি?

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়