হাসপাতাল-ক্লিনিক ঘিরে ফের সক্রিয় দালাল চক্র

আগের সংবাদ

এ সপ্তাহে পাঁচ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ

পরের সংবাদ

‘থিয়েটারের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য’

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ , ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

মেলা’র সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আলাপচারিতায় থিয়েটারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে স্বতঃস্ফূর্র্ত মনে তিনি প্রকাশ করেন নিজের অভিমত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাকিল মাহমুদ

আপনি এবং আপনার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন কেমন আছেন?
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরের সময়গুলো ভিন্ন রকম ছিল। তবে মনোবল হারাইনি। এ মুহূর্তে আমরা দুজনেই ভালো আছি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, খুলে দেয়া হচ্ছে সব কিছু। এ সময়ে থিয়েটার কার্যক্রম শুরু করা কি ঠিক হবে?
ধরুন, শিল্পকলা একাডেমিতে ৫০০ দর্শকের আসনে ১০০ দর্শককে বসার ব্যবস্থা করা হলো। সে ১০০ জনের মধ্যে দুই/একজন যে করোনায় আক্রান্ত নয় তা জানার কি কোনো ব্যবস্থা রয়েছে? তাছাড়া একটি বদ্ধ জায়গায়, এসির মধ্যে করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ফলে এ মুহূর্তেই থিয়েটারের কার্যক্রম শুরু করাটা উচিত নয় বলে মনে করি।

অনেকেই ইতোমধ্যে নাটক মঞ্চায়ন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
যেহেতু এ মুহূর্তে থিয়েটার কার্যক্রম শুরু করা উচিত নয় সেহেতু তাড়াহুড়া করার আসলে কিছু নেই। থিয়েটার করে আমরা কেউ আয়-রোজগার করি না। এমন নয় যে, থিয়েটার বন্ধ থাকার কারণে আমাদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।

সরকার সিনেমা হল সংস্কারের জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। থিয়েটারের ক্ষেত্রে সরকারের এমন উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
শিল্পকলায় জাতীয় নাট্যশালার হলে অনেক লাইট অকেজো হয়ে গেছে। সেগুলো সারানো উচিত। নাট্যশালা ছাড়াও প্রতিটা হলেই লাইটের মতো এমন অনেক খুঁটিনাটি জিনিসপত্রের ত্রæটি রয়েছে। যা শিল্পকলার তত্ত্বাবধানে যারা রয়েছেন তারা বেশ ভালো জানেন। এখন তারা যদি সে বিষয়ে সরকারকে অবহিত না করেন তাহলে সরকারের তরফ থেকে কিছু করা সম্ভব নয়। তবে শিল্পকলার প্রত্যেকটা হলেরই সংস্কার প্রয়োজন।

থিয়েটার চর্চার পাশাপাশি আপনারা থিয়েটার পত্রিকার একটি চর্চা গড়ে তুলেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই থিয়েটার পত্রিকা চর্চায় যুক্ত হচ্ছে। এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
নিঃসন্দেহে ভালো একটি বিষয়। তবে সত্যি কথা বলতে কি আমাদের থিয়েটারের মানুষরাই থিয়েটার পত্রিকা পড়েন না। তারা হয়তো মনে করেন, অনেক কিছুই তারা জানেন। তাই পত্রিকা-টত্রিকা পড়ার প্রয়োজন নেই। যার ফলে তরুণ প্রজন্মের অনেককেই আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। শুধু তরুণ প্রজন্মকেই নয়। আমাদের থিয়েটার পত্রিকাটি এখন অর্থের জন্য নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া কাজটি করার জন্য ফুল টাইম কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও আমরাই এ কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে পারি না।

এর ফলে কি বোঝা যায়, আপনাদের সময়ের থিয়েটার চর্চা যতটা অগ্রসর ছিল এখনকার সময়ে স্তিমিত?
বিষয়টা আসলে সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের সময়ে বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম ছিল, কিন্তু এখন তা অনেক বেশি। তাছাড়া বর্তমানে জীবন ধারণের সঙ্গে অর্থ একটি বড় অংশ হয়ে গিয়েছে। ফলে আজকের প্রজন্ম যে থিয়েটারবিমুখ হবে তা বলাই যায়।

থিয়েটারকে পেশাদারিত্বের জায়গায় নিয়ে গেলে কি এ প্রজন্ম থিয়েটারমুখী হবে?
তা তো হবেই। তবে তার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। যেমন শিল্পকলাভিত্তিক জাতীয় নাট্যশালা কেবল নাটক মঞ্চায়নের জন্য নয়। সেখানে জাতীয় নাট্যশালা পেশাদারি নাট্যদল হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া রেপার্টরি থিয়েটার কোম্পানি গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সরকারিভাবে সেলারি গ্রান্ড চালু করে দলভিত্তিক মাসিক বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে করপোরেট কোম্পানিগুলো যারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের স্পন্সর করে থাকে তাদের থিয়েটারের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। তবে প্রাথমিক কাজটি শুরু করতে হবে সরকারকেই। কেননা থিয়েটারের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য।

বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক মহড়া করা হচ্ছে। এটিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আসলে এটি সময়ের প্রয়োজন। অনলাইনে মহড়া ঠিক হয় না। তবে অনলাইনে মহড়া করে একটি চর্চার মধ্যে থাকা হচ্ছে। সেই সঙ্গে থিয়েটার নিয়ে আলোচনা করা যাচ্ছে।

এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। ঢাকা শহর থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরিয়ে নেয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
এটি একটি অমানবিক কাজ। করোনার মধ্যে যেমন মানুষের খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে, তেমনি কুকুরদেরও বেড়েছে। ফলে তারা রাস্তায় খাবারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা না করে অমানবিকভাবে তাদের সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে! করোনার এ সময়ের বড় শিক্ষা হলো, প্রকৃতির প্রতি সদয় হওয়া। তেমনই অন্যান্য প্রাণীদের প্রতিও সহমর্মিতা নিয়ে এগিয়ে আসা আমাদের যেখানে কর্তব্য সেখানে এমন কাজ নিঃসন্দেহে ঘৃণিত।

করোনার মধ্যে এই দীর্ঘ অবসর সময়ে কী কী কাজ করলেন?
আইটিআইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে একটি বই লিখছি, ইংরেজিতে। পরবর্তীতে এটি বাংলায় করা হবে। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ লিখেছি।

ডিসি