বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ় রাখতেই পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি

আগের সংবাদ

নিউইয়র্কে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ১৪

পরের সংবাদ

তৃতীয় দফায় বন্যা

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি নজর দিতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ , ৫:৩০ অপরাহ্ণ

দেশে এ বছর দফায় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। তৃতীয় দফার বন্যায় ডুবে গেছে দেশের কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি। খবরে প্রকাশ, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় যমুনা তীরবর্তী ৫টি উপজেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বগুড়ার শহড়াবাড়ী ঘাট পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীর ক‚ল উপচে চরের জমিতে সদ্য রোপণ করা রোপা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী, উলিপুরসহ ৯টি উপজেলার শতাধিক চর প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার হেক্টর আমনের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। কৃষকদের ঘরে ভাত নেই, হাতে পুঁজি নেই। আর ফসল আবাদ করা সম্ভব নয়। কৃষকদের এই দুরবস্থা কেবল তাদের জন্যই কষ্টকর নয়, এটা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটা বড় সমস্যা। তাই সরকারের উচিত এই কৃষকদের মধ্যে যাদের ঋণ রয়েছে, তাদের ব্যাপারে কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজন তাদের জন্য বীজ, সার, কীটনাশকসহ সব কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা ও নতুন করে পুঁজির ব্যবস্থা করা। চলতি মৌসুমে দুই দফা বন্যার মুখোমুখি হয়েছে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। এতে ৩৩ জেলার নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ দুর্গতিতে পড়েছে, যা বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ। চলমান বন্যা ১৯৮৮ সালে ধ্বংসের কথা মনে করিয়ে দেয়। খবরে আসছে, বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ এখনো দেখা না গেলেও অচিরেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো আমাদের সাধ্যাধীন নয়। তবে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বন্যার্ত মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। বন্যার সময় বাঁধ একটা বড় আশ্রয়স্থল। যেভাবে বাঁধ ভাঙছে, তাতে সব বাঁধকে এখন নিরাপদ আশ্রয় মনে করা যাচ্ছে না। তারপর রয়েছে খাদ্য সংকট। সরকার থেকে বলা হয়েছে, চালের সংকট হবে না। আমরা আশা করছি, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়ার সংস্থান করছে সরকার। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি নিয়ে বন্যাদুর্গতদের মাঝে যাওয়া জরুরি। বন্যা একটি প্রাকৃতিক বাস্তবতা এবং ভাটির দেশ হিসেবে পানি বাংলাদেশ দিয়েই নামবে। এ অবস্থায় জানমাল রক্ষার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিতে মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। সামনে বন্যার ভয়াবহতা বাড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। এসব নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নিতে হবে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এসআর