বাঁধ নির্মাণ না হলে কমলনগর খিলে খাবে মেঘনায়

আগের সংবাদ

মাঠ প্রশাসনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব!

পরের সংবাদ

দৌলতপুর

আসেন না চিকিৎসকরা, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা দেন কর্মচারীরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ , ১১:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ , ১১:০৯ অপরাহ্ণ

জনবহুল বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন ভিত্তিক উপ-স্বাস্থকেন্দ্র চালু করে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একেকটি মোটামুটি স্বয়ং সম্পন্ন হাসপাতাল। যেখানে থাকার কথা বহির্বিভাগ, ওআরটি কর্ণার, যক্ষা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ, আইএমসিআই, প্যাথলজি-এক্সরে,স্বাস্থ্য শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব সেবা। প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যার কুষ্টিয়ার বৃহৎ উপজেলা দৌলতপুরেও রয়েছে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবচিত্র অনেকটাই ভিন্ন। বেরিয়ে এসেছে হতাশার চিত্র।

আয়তনের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম দৌলতপুর উপজেলা। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৫২টি কমিউনিটি ক্লিনিক আর ৮টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এই উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও তা কেবল মৌখিক। নেই কাগজ কলমের সঠিক হিসেবও। দৃশ্যমান ৮টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুটি আগেই বন্ধ দাতা দেশ নেদারল্যান্ডের সিদ্ধান্তে। অব্যবহৃত থাকায় সেই ভবনগুলো এখন পরিত্যক্ত।

সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন, এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসা কোনোটাই পান না তারা। নিম্ন আয়ের এক বিশাল জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি বরাদ্দের এই বিনামূল্যের সেবা থেকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় চালু নেই আরো ৬টি উপ-স্বাস্থকেন্দ্র।

দৃশ্যমান অবকাঠামোর বাকি ৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা কাগজে কলমে চালু থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই, দাবি স্থানীয়দের। কোথাও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো লোকই আসেন না। আবার কোথাও চিকিৎসা দেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মচারী কিংবা ফার্মাসিস্ট নিজেই। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস চিকিৎসকরা আসেন না বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী।

এ ছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবস্থাও খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। পড়তে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের নানা ভোগান্তিতে। জোড়াতালি দিয়ে কোনো মতে চালানো হচ্ছে এখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম। বেশিরভাগে রোগীকেই পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে।

খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাই অস্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২২ জন চিকিৎসক কে কোথায় কাজ করছেন সে বিষয়ে। করোনাকালীন সেবাদানে কিছুটা হেরফের আসলেও দৌলতপুর উপজেলার এ দৃশ্য সব সময়ের। কিন্তু সমাধানের চেষ্টায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উদাসীনতা চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছেন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। কর্মস্থলে না গিয়েও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসছেন দায়িত্বরতরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) খলিশাকুণ্ডি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অমৃত দাসকে এমনই মিথ্যা তথ্য দিতে দেখা যায়। বেহাল স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের এ চর্চা বেশ লম্বা সময় ধরে চলছে বলে পরিষ্কার হয় অনুসন্ধানে।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা থাকলেও মাঝে মধ্যে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঢু দেন দুয়েকটি জায়গায়। এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ডাক্তার থাকে না, গেলেই শুধু প্যারাসিটামল দেয়, ব্যথার ওষুধ চাইলে বলে ব্যথার ওষুধ নেই, গ্যাসের ওষুধ নাও।’ ঠিক একই অভিযোগ অপারাপর ভুক্তভোগীদেরও। বিগত বছরগুলোর মতো চলতি অর্থ-বছরেও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বাবদ পর্যাপ্ত ব্যয় দেখাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন তুলে ধরেন নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতার কথা। তিনি বলেন, কিছু সমস্যা আমাদের মাঝেও আছে। তবে তা কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কিন্তু সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ আর সেবা মনিটরিংয়ে ব্যাপক গাফিলতির চিত্র দেখা যায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাঝেও। তিনি এ উপজেলায় যোগদানের পর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা স্থানীয় ও দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলেও গত কয়েক মাসে মাত্র একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বলে জানা যায়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো দাপ্তরিকভাবে অবগত করার বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক আর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা সুবিধা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান, স্থানীয় সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশাহ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মন্ত্রী, সচিবকে এমনকি জাতীয় সংসদেও দৌলতপুরের চিকিৎসা সেবা উন্নয়নের বিষয়ে বেশ কিছু সহায়তা চেয়েছি। চলতি অর্থবছরে সেগুলো দৌলতপুরের মানুষ পাবে বলে আশা করছি। তবে চিকিৎসকদের গাফিলতি থাকলে সেটা খুবই দুঃখজনক। নিজেও বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন এমপি বাদশাহ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়