যৌন হয়রানি: বহিষ্কার হচ্ছেন বগুড়ার সেই দুই শিক্ষক

আগের সংবাদ

পুরনো সিন্ডিকেটের হাতে ফের জিম্মি পেঁয়াজবাজার

পরের সংবাদ

ট্রাকেই পচবে পেঁয়াজ!

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ , ২:২৯ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ , ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

রপ্তানি বন্ধ করে অনুতপ্ত ভারত

আগাম ঘোষণা না দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় অনুতপ্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তবে অনুতপ্ত হলেও আগের এলসি করা পেঁয়াজের একটি ট্রাকও দেশে ঢোকেনি। ফলে ট্রাকেই শত কোটি টাকার পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, শুনেছি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুবই অনুতপ্ত। কারণ হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটি তারা জানত না। পেঁয়াজ রপ্তানির ব্যাপারে ভারতের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি। আশা করছি, আমাদের আহ্বানের ব্যাপারে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে।

হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় এর আগে ভারতকে ‘গভীর উদ্বেগের’ কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে করে গত বছরের অক্টোবর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে যে অলোচনা হয়েছিল তা গুরুত্ব হারায় বলেও মনে করে ঢাকা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকাস্থ হাইকমিশনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেখে, ভারত সরকারের সর্বশেষ আকস্মিক ঘোষণা এই বিষয়টিকে নিয়ে দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে ২০১৯ এবং ২০২০ সালে আলোচনা ও বোঝাপড়া হয়েছিল তা ক্ষুণ্ন করে।

বাংলাদেশ এ ব্যাপারে চলতি বছরের ১৫-১৬ জানুয়ারি দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং গত বছরের অক্টোবরে ভারতে ভিভিআইপি সফরে আলোচনা হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছে। গত বছরের অক্টোবরে ভারত সফরকালে এক অনুষ্ঠানে হিন্দিতে (ভারতীয় গণমাধ্যম অনুসারে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার আগে আমাদের জানাবেন। আমাকে আমার বাবুর্চিকে বলতে হয়েছিল আমাকে পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করা খাবার দিতে। আমি ভারতকে অনুরোধ করব যেন, এ জাতীয় পদক্ষেপ নেয়ার সময় দয়া করে আগেই আমাদের জানান। সর্বোপরি আমরা প্রতিবেশী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারতীয় হাইকমিশন তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের বার্তা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি এবং দুদেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার চমৎকার সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি পুনরায় শুরুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছে।
তবে ঘোষণা ছাড়াই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত অনুতপ্ত হলেও গেল দুদিনে দেশে ঢোকেনি আগের এলসির একটি ট্রাকও। পূর্বের খোলা এলসির বিপরীতে দেশের অন্যতম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোলে শতাধিক, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে ৫০০, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে প্রায় ২০০ ট্রাক পেঁয়াজ বোঝাই করে সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে আটকে রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার স্থলবন্দরে আটকে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকার শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দিলেও গতকাল পর্যন্ত একটি ট্রাকও বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।

বেনাপোল কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আকসার উদ্দীন মোল্লা জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ ঢোকার কথা ছিল। আমরা দিনভর অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ অংশে কোনো গেটপাশ না আসায় গত দুই দিনে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। ওপারে সব ট্রাক আটকে আছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ আমদানিকারক খুলনার হামিদ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি সরোয়ার জনি জানান, ভারত আটকেপড়া ট্রাকের কিছু ছাড়তে চেয়েও দিল না। সামনে দুই দিন বন্দর বন্ধ। গরমে আটকেপড়া পেঁয়াজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। বন্ধু রাষ্ট্রের এমন আচরণে আমরা মর্মাহত।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, সংকট জানিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ যৌক্তিক না। তাহলে গত বছরের মতো এবারো ইলিশ দেয়ার বিপরীতে পেঁয়াজ বন্ধ করত না। পেঁয়াজের আমদানি সচল করতে হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বসা দরকার।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দরে আটকেপড়া ৪০০ ট্রাকের পেঁয়াজে পচন ধরেছে। এর মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নাসিক থেকে অনেক আগেই এলসি করা আরো ১ হাজার ট্রাক পেঁয়াজ মহদীপুর বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুল হক বলেন, মঙ্গল ও বুধবার মহদীপুর বন্দর এলাকায় দিনে কয়েকদফা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পরই আবার রোদ। এতে ট্রাকবোঝাই পেঁয়াজে পানি ঢুকে পচন শুরু হয়েছে। আরো দুদিন যদি সেখানে পেঁয়াজ আটকে থাকে, তবে ট্রাকের সব পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু বলেন, অনেক আগেই এসব পেঁয়াজের বিশাল চালানের এলসিসহ আমদানির সব কাজ শেষ করা হয়েছিল। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেয়া অর্ডারের পেঁয়াজ এখন ভারতের অভ্যন্তরেই পচতে শুরু করেছে। যদি আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে আগের এলসি করা পেঁয়াজ ছাড় না করা হয়, তবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বে সোনা মসজিদ বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা ব্যবসায়ীরা।

ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সদস্য হৃদয় ঘোষ ও স্থলবন্দরের এজেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভূপতি মণ্ডল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের হটকারী সিদ্ধান্তে অর্ধশত কোটি টাকার পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। এলসি করা পেঁয়াজ ট্রাকেই রাখা হবে। এটা তো আর ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। ফলে সরকার আগের এলসি করা পেঁয়াজ দ্রুত ছাড় করতে অনুমতি না দিলে অযথা পড়ে থেকে নষ্ট হবে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়