একজন তারিক আলী

আগের সংবাদ

ফেইসবুক ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রম, গ্রেপ্তার ২

পরের সংবাদ

সারে ভেজাল

কৃষক যাবেন কোথায়?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ

যশোরে ভেজাল সার বিক্রির খবরটি উদ্বেগজনক। একশ্রেণির সার ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার জন্য এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ সারে ইটের গুঁড়া, বালু ও রং মিশিয়ে থাকে। লাল দানাযুক্ত এই সারে ভেজাল দেয়া সহজ। তাছাড়া টিএসপি সারের সঙ্গে কম দামের এফএমপি সার মিশিয়ে বিক্রি করছে। এসব সার যশোর থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এসব সার ব্যবহার করে একদিকে যেমন কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছে অন্যদিকে জমির উর্বরা শক্তিও হ্রাস পাচ্ছে মারাত্মকভাবে। বাড়ছে কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকিও। যশোর সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, উপজেলাটিতে ছোট-বড় ২১টি দস্তা সার উৎপাদনের কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধন রয়েছে মাত্র তিনটির। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ১৩টি কারখানা সিলগালা এবং ভেজাল সার ও সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হলেও ২০১২ সালের শেষের দিক থেকে ভেজাল সারের উৎপাদন বেড়ে যায়। ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে গত ৫ বছরে ওই সব কারখানার কয়েকটি সিলগালা করা হয়। কোনো কোনোটির নিবন্ধন নবায়নের অনুমতি দেয়া না হলেও থেমে থাকেনি ভেজাল সার উৎপাদনের কার্যক্রম। সরকারের সার ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৬ অনুযায়ী, জৈব সারে প্রয়োজনীয় উপাদান না থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলের নিয়ম রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদিত সার জব্দ করা এবং ইতোমধ্যে বিক্রি হওয়া সার ক্রেতাদের কাছ থেকে মূল্য ফেরত দিয়ে সংগ্রহ করতে হবে। ওই সার নিজ খরচে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করতে হবে। ভেজাল সার ব্যবহারে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপাদনকারী ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা যাবে। সার নিয়ে রমরমা ভেজাল বাণিজ্য চললেও এর প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসছে না। জমিতে ভেজাল সার কৃষক ও জমি উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে কৃষি অধিদপ্তর, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীরবতা রহস্যজনক। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভেজাল সার রোধ করতে না পারলে কৃষিক্ষেত্রে আগামীতে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। এসব সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে অন্যান্য জৈব সার কমে গিয়ে এসিডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে জমিগুলোর গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সার উৎপাদন ও বিপণনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেয়া ও মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তাদের এখন এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়