মিনিটে ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বেল!

আগের সংবাদ

স্বর্ণের দাম ফের বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ

পরের সংবাদ

কবে নিশ্চয়তা পাবে জিনিয়ারা?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ

আপু একটা ফুল নিবেন? জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য এভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে ফুল বিক্রি করত জিনিয়া। কিন্তু হঠাৎ একদল শিশু পাচারকারীর ফাঁদে পড়ে সে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক পরিচিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের বিষয়ে বেশ তৎপর হন শিক্ষার্থীরা। তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমরা কি জানি, হাজার হাজার উদ্ধার না হওয়া জিনিয়ার কথা?
অ্যাডভেন্টিস্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিলিফ এজেন্সি (এডিআরএ) বাংলাদেশের ২০১৯ সালের সমীক্ষা অনুসারে, প্রতি বছর বিশ্বে ৬০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ পাচার হয়ে থাকে। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই মানব পাচারের দিক থেকে অন্যতম একটি দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী যৌন নির্যাতন ও শোষণ সম্পর্কিত ফ্যাক্টবুক বাংলাদেশের তথ্য অনুসারে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি নারী ও শিশু পাচার হয়ে থাকে। তাদের যৌনকর্মী অথবা জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হয়।
এডিআরএর সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মানব পাচার হয়ে থাকে। এই মানব পাচারকারীদের ২০টি ট্রানজিট পয়েন্ট রয়েছে, যা বাংলাদেশের ১৬টি জেলায় অবস্থিত। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়াতে মানব পাচার হচ্ছে। তথ্যে আরো পাওয়া গেছে, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্বের কয়েকটি দেশে জলপথ দিয়ে মানব পাচার করা হচ্ছে।
মানব পাচারের প্রধান শিকার নারী ও শিশু। বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা, ফাঁদ, প্রলোভন এবং জোরপূর্বক ধরে নিয়ে মানব পাচার করা হয়। তাদের নিশানায় থাকে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী দ্বারা নির্যাতিত ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নারী, অনাথ, পরিবার থেকে বিতাড়িত ও নির্যাতিত শিশু।
পাচারকৃত নারী ও শিশুকে নিয়োজিত করা হয় পতিতাবৃত্তিতে আবার কখনো ভিক্ষাবৃত্তিতে। তাদের শরীরে রক্ত এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়, মাথার খুলি, কঙ্কাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে উট দৌড় প্রতিযোগিতায় উটের বাহক হিসেবে শিশুদের ব্যবহার করা হয়।
মানব পাচারের অন্যতম কারণ হচ্ছে দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য, সচেতনতার অভাব, শিক্ষার অভাব এবং দুর্বল প্রশাসন ব্যবস্থা। শিশুরা এই চক্র সম্পর্কে অবগত থাকে না, যা শিশু পাচারের অন্যতম কারণ। শিশুদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটছে। শিশু এবং তাদের মা-বাবাকে এই সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল সংস্থা ইউনিসেফের মতে আমাদের দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখ। যারা জীবিকার তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। অশিক্ষিত বাবা-মা কিংবা অনাথ হওয়ায় তারা সচেতন হতে পারে না। এই দুর্বলতার সুযোগ নেয় একদল নেকড়ে। তাদের জীবনের দায়িত্ব কে নেবে? কবে নিশ্চয়তা পাবে জিনিয়ারা?
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়