খাতুনগঞ্জে আড়তের পেঁয়াজ উধাও

আগের সংবাদ

ব্যাংকগুলোর ৩৮৩ কোটি টাকা মুনাফা কমেছে

পরের সংবাদ

স্বল্পমূল্যে টিসিবির পেঁয়াজ

১ কেজির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে কম টাকায় সরবরাহের জন্য টিসিবি ট্রাকে করে এ পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। তবে টিসিবির পেঁয়াজে সবার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এতে করে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের এসব মানুষকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ৩০ টাকায় মিলছে ১ কেজি পেঁয়াজ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, পেঁয়াজ কিনতে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। মৌচাক মার্কেটের সামনে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনেছেন ফিরোজ রশিদ। জানতে চইলে ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, দোকানে পেঁয়াজের দাম চাইছে ৯০ টাকা। না কিনে বাজারে গিয়ে দেখি পেঁয়াজ ১০০ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমিত আয়ের মানুষ আমি। করোনা পরিস্থিতিতে আমার বেতনও কিছুটা কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে এত দাম দিয়ে পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্য কেনা সম্ভব নয়। তাই বলে তো না খেয়ে থাকতে পারব না। তাই ৩০ টাকার পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। প্রায় ১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১ কেজি পেঁয়াজ পেয়েছি।

টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের বিক্রয়কর্মী বলেন, হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় গতকাল থেকে পেঁয়াজের অনেক চাহিদা। মানুষের দীর্ঘ লাইন। সবাই পেঁয়াজের জন্য দাঁড়িয়েছে। ক্রেতা বেশি হওয়ায় একজনকে ১ কেজির বেশি পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, টিসিবি থেকে মাত্র ৩০০ কোজি পেঁয়াজ এনেছি। কিন্তু লাইনে যে সংখ্যক মানুষ আর তাদের যে চাহিদা তা ১ হাজার কোজিতেও পূরণ হবে না। পেঁয়াজ ছাড়াও তেল, চিনি ও ডাল বিক্রি করছে টিসিবি। চিনি ও ডালের কেজি ৫০ এবং ৫ লিটার তেল ৪০০ টাকা।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকসেল থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। এছাড়া চিনি ও মসুর ডাল ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ২ কেজি এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে ২-৫ লিটার কিনতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত সোমবার হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে। গত বছরও সেপ্টেম্বরে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল। পরে দেশের ইতিহাসে পেঁয়াজের কেজি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

এমন পরিস্থিতিতে রবিবারই সারাদেশে সীমিত পরিসরে সুলভমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে সরকার। টিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান করোনা ভাইরাস এবং বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঢাকায় ৪০টি, চট্টগ্রামে ১০টি, রংপুরে ৭টি, ময়মনসিংহে ৫টি, রাজশাহীতে ৫টি, খুলনায় ৫টি, বরিশালে ৫টি, সিলেটে ৫টি, বগুড়ায় ৫টি, কুমিল্লায় ৫টি, ঝিনাইদহে ৩টি ও মাদারীপুরে ৩টি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বাকি জেলাগুলোর (উপজেলায়সহ) প্রতিটিতে দুটি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি চলছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়