পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন

আগের সংবাদ

সাবেক সাংসদ বাহাউদ্দিন নাছিম করোনায় আক্রান্ত

পরের সংবাদ

নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকার

হুমকির মুখে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন, কয়রা (খুলনা) থেকে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ৫:০৭ অপরাহ্ণ

অসাধু ব্যাবসায়ীদের অপতৎপরতায় হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র। সুন্দরবন অভ্যন্তরের নিষিদ্ধ বনাঞ্চলে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারে দুষ্কৃতকারী চক্রের অবাধ তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে।
পশ্চিম সুন্দরবন অভ্যন্তরের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের। ভ্রমর খালি, কুকুমারী, পাঠাকাটা, কাগা, দোবাকিয়া, পাতকোষ্টা, হংসরাজ, নীলকমল, কালির চর, মান্দার বাড়ি, পুষ্প কাটি, নোতাবেরি, তালপট্টি, মেঘনা, বালুইঝাকিসহ নিষিদ্ধ বনাঞ্চলের নদ-নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ, অবৈধ ভেসালি ও পাটাজালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ আহরন করায় হুমকির মুখে পড়েছে বনাঞ্চলের মৎস্য সম্পদের প্রজনন ও উৎপাদন।

শুধু মৎস্য সম্পদ নয় বিষক্রিয়ায় ধ্বংস হচ্ছে সুন্দরবনের শতাধিক প্রজাতির জলজ প্রণী।অসাধু বনরক্ষীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় নির্বিচারে চলছে সুন্দরবন ধ্বংসের এই মহোউৎসব ।

কোম্পানি নামধারী একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতি অল্প সময়ে এধরনের পদ্ধতিতে বেশি মাছ আহরণ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। পুঁজিপতি এসকল কোম্পানিদের দাপটে সুন্দরবনের প্রকৃত জেলেরা নিঃস্ব হচ্ছে।

সুন্দরবনের পেশাদার মৎস্য শিকারী আবু মুসা, আবু ঈসা, দাউদ মোল্লা, আবুল কালামসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা কয়েক পুরুষ ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে বেচে আছি। সুন্দর বনের নিষিদ্ধ বনাঞ্চল মাছের আবাস স্থল। সেখানেই মাছের প্রজনন ও বংশ বিস্তার হয়ে থাকে । (অভায়ারণ্য এলাকা) কিন্তু ব্যাবসায়ী নামধারি কতিপয় ব্যাক্তি বনবিভাগের অসাধু কয়েক কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে সক্ষতা করে প্রতিনিয়ত বনের অভায়ারণ্য এলাকায় ভেষালী জালসহ বিভন্ন ক্ষুদ্র ফাঁসের জালের মাধ্যমে মাছ আহরন করছেন। এভাবে চলতে থাকলে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ খুব শীঘ্রই বিলুপ্ত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই ।

ইতমধ্যে বনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করায় শুধু মৎস্য সম্পদই নয়, হুমকির মুখে পড়ছে সুন্দরবনের জলজ প্রাণীও। বিষ দিয়ে মাছ শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অবৈধ এই কারবার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নিষিদ্ধ বনাঞ্চলের ছোট খাল থেকে বিষ দিয়ে ধরা হয় চিংড়ি। খালের মাথায় বিষ ঢেলে চলছে মাছ ধরার এই বিষাক্ত প্রক্রিয়া। খালের বড় মাছগুলো ধরার জন্য দেয়া হয় অন্য ধরনের বিষ। ক্ষুদ্র ফাঁসের পাতানো জালে শতাধীক প্রজাতির জলজপ্রানী, ডিম, রেনু সহ সমুলে বিনষ্ট হচ্ছে ।

চোরাকারবারিরা একটি নৌকায় প্রতি সাতদিনে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে বনে প্রবেশ করে চলে যায় নিষিদ্ধ নদী ও খাল এলাকায়। আর এভাবে নিষিদ্ধ বনাঞ্চলের নদনদীতে মাছ শিকার অব্যহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবন হারাবে তার ঐতিহ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনার সহকারী বন সংরক্ষক মো: আবু সালেহ ভোরের কাগজ কে বলেন সুন্দরবন বিশাল একটা এরিয়া এখানে চুরি করে কেউ যদি কিছু করে, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না, তবে আমাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে, নিষিদ্ধ বনাঞ্চলের নদ-নদীতে কোন প্রকার মৎস্য আহরণ হচ্ছে না বলে ও তিনি দাবি করেন।

ডিসি