কৃষিকে প্রাধান্য দেয়া সময়ের দাবি

আগের সংবাদ

নিরাপদ হোক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

পরের সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি ও স্বাস্থ্যবিধির চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১১:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১১:০৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধন করেছেন। তাদের এমন দাবি কতটা যৌক্তিক সে বিষয়ে রয়েছে মতভেদ। তবে কোভিড-১৯-এর কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। কারণ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য গত ১৭ মার্চ দেশের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ৬ মাস পার হলেও কমেনি করোনার তাণ্ডব আর তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করতেও গভীর ভাবতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার ছাপ লক্ষণীয়। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সেমিস্টার পদ্ধতিতে সিলেবাস শেষ করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকায় সেখানে দীর্ঘদিন ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকলে পরবর্তীকালে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েও কোর্স শেষ করা জটিল হয়ে যায়। এমনকি এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। সেশনজট বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক অভিশাপের নাম যার ফলে ক্যারিয়ার গড়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে বেগ পেতে হয় এবং চাকরির বাজারে হিমশিম পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি যৌক্তিক।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের অপর অংশ মনে করেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস পরীক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়ে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই থাকেন আবাসিক হলে কিংবা গণরুমে যেখানে গাদাগাদি করে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেক শিক্ষার্থী হলে জায়গা না পেয়ে ঠাঁই নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসে যেখানে চারজনের একটি কক্ষে ৭-৮ জন থাকারও নজির আছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মানা বা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুম সংকটের কারণে এক বেঞ্চে বসতে হয় ৫-৬ জন অর্থাৎ সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩ ফুট কেন ৩ ইঞ্চি দূরত্বও বজায় রাখা সম্ভব না। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গণপরিবহন যাতায়াত করে ক্যাম্পাসে যেতে হয় যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এদিক থেকে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় না খোলাই শ্রেয়। তবে যদি বিশেষ বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় খুলতেই হয় তাহলে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সর্বোচ্চ নজর রাখতে হবে এবং বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষার্থী সংখ্যা বিবেচনা করে প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম ১ থেকে দুটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে হবে যেখানে যে কোনো শিক্ষার্থী করোনা পরীক্ষা করাতে পারবে। সর্বোপরি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে।

শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

যে মন্তব্যগুলো খবরের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে এবং আপত্তিজনক হবে না সেই মন্তব্যগুলোই দেখানো হবে। প্রকাশিত মন্তগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত। পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য ভোরের কাগজ লাইভ কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

জনপ্রিয়