ঢাকা-৫ এর প্রার্থীদের সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর বসবে ইসি

আগের সংবাদ

আমদানি শুরুর খবরে হিলিতে কমেছে পেঁয়াজের দাম

পরের সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা (বড় মাদ্রাসা)। বুধবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে হাজার হাজার ছাত্র। তারা ক্লাস বর্জন করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নেমে আসে। সন্ধ্যায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। মাদ্রাসার ফটক বন্ধ করে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ছবি: প্রতিনিধি

এসময় বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার সহকারি মহাপরিচালক মাওলানা শেখ আহমদ, শিক্ষক নুরুল ইসলাম জেহাদী ও মাওলানা আনাস মাদানীর দপ্তর ভাঙচুর করে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে মাঝে মাঝে হেফাজত ইসলামের আমির মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পুত্র হেফাজতের প্রচার সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীর অপসারণ দাবি করা হয়। বড় মাদ্রাসায় বিক্ষোভের সংবাদ অবহিত হয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার রশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর )মশিউদৌল্লাহ রেজাসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।

ছবি: বাবুল দাশ

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীর অপসারণসহ ৫ দফা দাবিতে মাদ্রসার শিক্ষার্থীরা সকল ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সংবাদ অবহিত হয়ে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু মাদ্রাসার ফটক বন্ধ থাকায় তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেন। সংবাদ অবহিত হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা আশংকায় আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সদস্যরা মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেয়। কিন্তু তারা মাদ্রাসার ফটক বন্ধ থাকায় ভিততে প্রবেশ করতে পারেনি।

বিক্ষোভের কারণে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট খাগড়াছড়ি মহাসড়কে গাড়ি চলাচলের কোন সমস্যা হয়নি। তবে চারাদিকে মাদ্রাসায় গোলযোগের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার ভিতরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করেন। কিন্তু মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থানকারী উৎসুক জনতাকে শান্ত থাকার জন্য আহবান জানান।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি সম্বলিত একটি প্রচার পত্র বিতরণ করা হলেও সেখানে কারা বা কাদের পক্ষ থেকে এ প্রচার পত্র বিতরণ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ৫ দফা দাবির মধ্যে ১. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করতে করা। ২.ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বাস্তবায়েন সকল প্রকার হয়রানি মূলক কার্যক্রম বন্ধ করা। ৩.আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব মাযূর এবং অক্ষম হওয়ার কারণে পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানানো। ৪.ওস্তাদদের মাদ্রাসা থেকে বিয়োগ নিয়োগ পরিপূর্ণভাবে সূরার নিকট হস্তান্তর করা। ৫.বিগত শূরার হক্কানী আলেমদের পুনরায় নিয়োগ এবং সূরার মধ্যে দালালদের বহিষ্কার করা।

তাদের এসব দাবি মানা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসাবে মাদ্রাসার সমস্ত একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তবে বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসার ভিতরে অবস্থান করায় দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এসআর