বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি ও স্বাস্থ্যবিধির চ্যালেঞ্জ

আগের সংবাদ

হৃতিককে বডি বানানোর টিপস দেন সৌরভ

পরের সংবাদ

নিরাপদ হোক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১১:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১১:০৬ অপরাহ্ণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও নারীরা তাদের জন্য স্বস্তির পরিবেশ খুঁজে পাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে স্ট্যাটাস, কমেন্ট ও ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বহুসংখ্যক নারী। পাবলিক পোস্টগুলোর কমেন্ট সেকশনে নারীদের নানা ধরনের বাজে মন্তব্য, হয়রানি এবং ট্রলের মুখে পড়তে হচ্ছে। একজন পুরুষ তার মন্তব্য যেভাবে প্রকাশ করতে পারছেন, নারী সেভাবে পারছেন না। নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের দ্বারা তাকে অহেতুক আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ায় পরিচয় গোপন করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট (ফেইক আইডি) তৈরি করা হচ্ছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে অধিক আকর্ষণের জন্য নারীদের ছবি ব্যবহৃত হচ্ছে। যার ফলে ছবির মেয়েটি সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে নানারকম অশ্লীল ও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠিয়ে নারীদের বিরক্ত করা হচ্ছে। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন অগণিত নারী। এক জরিপে দেখা যায়, নারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ নারী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। এদের মধ্যে মাত্র ৩০ ভাগ নারী অভিযোগ দায়ের করেন। অধিকাংশ নারীই এটি নীরবে সহ্য করে যান।সমাজের ক্ষুদ্র একটি অংশ যদি অপরাধী হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তা দমন করা সহজ হয়ে ওঠে। কিন্তু বৃহত্তর অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এদের দমন করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নোংরা মানসিকতার এই মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ফলে তাদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সবসময় তৎপর থাকতে হবে। যে ঘটনাগুলো আমাদের চোখের সামনে আসে সেগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া জরুরি। সম্প্রতি পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কার্যক্রম বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমগুলোতে সৃষ্ট অপরাধ দমনে যেটি কার্যকর প্রভাব ফেলছে। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মনস্তাতত্ত্বিক প্রভাব এক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে আছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ গণমাধ্যম নারীকে যেভাবে দেখাচ্ছে বা দেখতে শেখাচ্ছে সেখানে আসলে নারীর সত্যিকার অবস্থান উঠে আসছে না। বিজ্ঞাপনগুলোতে নারীকে দাসত্ব এবং ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে তার সম্মানের অপমান করা বন্ধ করতে হবে। নচেৎ পুঁজিবাদী মানসিকতার নিচে নারীর সম্মান চাপা পড়ে যাবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়