শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে

আগের সংবাদ

পর্যাপ্ত মজুতেও অস্থিরতা

পরের সংবাদ

আবরার হত্যার অভিযোগ গঠন

খুনিদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি চাই

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১১:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ১১:১৩ অপরাহ্ণ

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখতে পাওয়া যায় যে, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করা হলো। একই সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রাখা হলো। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। হত্যাকাণ্ডের পর তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রায় দুই যুগ ধরে অসুস্থ রাজনীতির অন্ধগলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সব সময়ই ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদ নিয়েই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী। এখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আছে অপকর্ম করছে ছাত্রলীগ। যখন বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারে ছিল, তখনো একই কাজ করেছে ছাত্রদল। গত বছরের ৬ অক্টোবর ভিন্নমতাবলম্বী সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। অমানবিক, পাশবিক এমন ঘটনায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ-মর্মাহত হয়েছে। এমনকি উত্তাপ ছড়িয়েছে ঢাকাসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও। ছাত্রলীগ নামধারীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অস্থির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সরকারি সম্পদ ধ্বংসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আদর্শিক এই ছাত্র সংগঠনটি। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে নতুন করে সামনে আসে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গত বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বুয়েট প্রশাসন শক্ত হলে আবরারকে হয়তো বাঁচানো যেত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন চাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কেউ খুনি হোক এটাও চাই না। আবার বিশ্ববিদ্যালয় মানবিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও মুক্তচিন্তার পাদপীঠ না হয়ে সব ধরনের রাজনীতিমুক্ত হয়ে একটা কূপমণ্ডূক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক সেটাও চাই না। আমরা মনে করি, সরকারকেও তার ভাবমূর্তির স্বার্থেই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস মোকাবিলায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আবার হত্যার বিচার দ্রুত হোক, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, এটা সবার মতো আমাদেরও দাবি। তবে যে দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি সারাদেশে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে, তার অবসান হওয়া জরুরি।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়