রাতারাতি দাম বেড়ে দ্বিগুণ

আগের সংবাদ

খাতুনগঞ্জে আড়তের পেঁয়াজ উধাও

পরের সংবাদ

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র

করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে বহির্বিভাগে রোগী বাড়ছে

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে রোগীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের গতিও অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। ধীরে ধীরে দেশে সব কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে শুরু করায় সেই দৃশ্যও বদলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে ভর্তি রোগী এখনো অনেক কম। মাস্ক ব্যবহার কিংবা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বালাই না থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এখনো বিদ্যমান আছে করোনা ভাইরাস নিয়ে ভুল বার্তা। আর সেই কারণে অনেকে জ¦র-সর্দি-কাশিসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ থাকার পরও হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি মাসুম বাদশাহ জানান, করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে দীর্ঘ কয়েক মাস রোগীশূন্য ছিল মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি। স্বাভাবিক সময়ে জরুরি ও বহির্বিভাগে ৪০০-৫০০ রোগী থাকলেও করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে তা নেমে আসে ৪০-৫০ জনে। এখন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেয়া হচ্ছে সরকারি ওষুধ। কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সোহেল রানা জানান, করোনা আতঙ্ক কমে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাহ বলেন, এ হাসপাতালটিতে কোনো রোগী যাতে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সে দিকে নজরদারি রাখা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হবি জানান, গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো সর্দি, জ্বর ও কাশি উপসর্গ থাকার পরও অনেকে ভয়ে এবং সমাজে হেয় হতে হবে এই শঙ্কা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন না। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন, জরুরি বিভাগে ৫০-৬০ জন। ইনডোরে রোগীর সংখ্যা ৪০ জন। মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে আরো সময় লাগবে।

রংপুর (তারাগঞ্জ) প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম বিজয় জানান, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবায়ও স্থবিরতা অনেকটা কেটে গেছে। রোগীরা মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অনির্বাণ মল্লিক জানান, বর্তমানে ইনডোরে প্রতি মাসে ২৮-৩০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ৬০০ রোগী নিয়মিত বিভিন্ন চিকিৎসা নিচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরী জানান, করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। আগের চেয়ে ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট রয়েছে। এমবিবিএস চিকিৎসক রয়েছেন ৯ জন। মোট কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৫৬ জন। পদ শূন্য রয়েছে ১২টি।

নোয়াখালির হাতিয়া প্রতিনিধি মো. ফিরোজ উদ্দিন জানান, সরেজমিনে দেখা গেছে হাতিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে তা বহির্বিভাগে। ভর্তি রোগীর সংখ্যা এখনো খুব একটা বাড়েনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিজাম উদ্দিন মিজানও জানান, এখনো হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম।

শরীয়তপুর ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মনীষা সাহা ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার এই পরিস্থিতি শহরের মানুষ যেটুকু সচেতন গ্রামের মানুষ ঠিক তার উল্টো। গ্রামাঞ্চলে এখনো উপসর্গ লুকিয়ে রাখার প্রবণতা কমেনি। মানুষের সচেতনতা নেই, তাই ভয় বেশি।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমিউনিটির লোকজন একে অপরের পরিচিত এবং একজনের খোঁজখবর আরেকজন রাখেন বলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে আসা লোকের সংখ্যা অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কিছুটা বেশি।

সিএইচসিপি এসোসিয়েশনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ ভোরের কাগজকে জানান, দেশে করোনা সংক্রমণের পরপরই অনেক সিএইচসিপি করোনা আক্রান্ত হয়। এতে ওইসব কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখন সেই অবস্থা নেই। পুরোদমে সেবা কার্যক্রম চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস এখন দেশের বিভিন্ন আনাচেকানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য ল্যাবের সংখ্যা বাড়লেও অনেক এলাকায় তা পৌঁছায়নি। তাছাড়া করোনা সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা কম থাকায় সতর্কতাও কম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. রিজওয়ানুল করিম ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তা হলো হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এখনো বাড়েনি।

কমিউনিটি বেইজ হেলথ কেয়ারের (সিবিএইচসি) লাইন ডিরেক্টর ডা. সহদেব চন্দ্র রাজবংশী ভোরের কাগজকে বলেন, দেশে করোনা দুর্যোগে সিএইচসিপিরা সাধ্যমতো মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তবে কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে রোগীরা সেবা নিয়েছেন। এখন এ সংখ্যা আরো বাড়ছে।

এমএইচ