আনুশকার এক ফ্রেমে গোটা বিশ্ব

আগের সংবাদ

ম্যাচ হেরে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়াল পিএসজি

পরের সংবাদ

সাদেক বাচ্চুর জন্য শোকগাথা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ , ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

চিরতরে চলে গেলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। করোনা আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গুণী অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সুহৃদ থেকে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সব মানুষের মনে। তার মৃত্যুতে শোকার্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ভোরের কাগজের প্রতিবেদক।

সাদেক বাচ্চু একটা ইতিহাস

ওমর সানি, চিত্রনায়ক।

সাদেক বাচ্চু একটা নাম, একজন অভিনেতা, একটা ইতিহাস। বহু বছর আগে হুমায়ুন ফরীদি ভাই যখন সুপারস্টার তখন তার শিডিউল পাওয়া ভীষণ দুষ্কর। পরিচালক উত্তম আকাশ দাদা এবং আমি চিন্তা করলাম কী করা যায়! বাচ্চু ভাইয়ের কাছে গেলাম। বাচ্চু ভাই বলল উত্তম তুমি আমার সঙ্গে মজা করছো, তোমার ছবিতে নিবা আমারে ওমর সানির সঙ্গে। আমি বললাম না বাচ্চু ভাই, আপনি থাকবেন। সেই ‘আখেরি হামলা’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘রঙিন রংবাজ’সহ আরো বহু ছবিতে একসঙ্গে জুটি হলাম। আমার কাছে মনে হতো একটা ভালো মানুষের ডিকশনারি তিনি। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।

এত স্মৃতি কোনোদিন ভোলা যাবে না

অমিত হাসান, চিত্রনায়ক।

আমার ক্যারিয়ারে বহু বহু কাজ তার সঙ্গে করেছি। বাচ্চু ভাই অভিভাবক ছিলেন। আমি মিশেছি তার সঙ্গে ছোট ভাইয়ের মতো। তিনি ছিলেন আমার আত্মার আত্মীয়। সিম্পল জীবনযাপন ছিল তার। অহমিকতা, দম্ভ দেখিনি কোনোদিন। তার সঙ্গে এত এত স্মৃতি, কোনোদিন এসব ভোলা যাবে না। আল্লাহ বাচ্চু ভাইকে বেহেস্ত নসিব করুন।

আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য

শাবনাজ, চিত্রনায়িকা।

আঙ্কেল আমাকে মেয়ের মতো আদর করতেন। অভিনয়ে যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন ঠিক সেভাবে আমার আর নাঈমের সম্পর্কের সময়ও সাহায্য করেছেন। আমাদের বিয়ের সাক্ষীও তিনি। পর্দায় হয়তো বেশির ভাগ সময় তাকে খলচরিত্রে দেখা যায়। কিন্তু আমার দেখা ভালো মানুষদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য।

ভালো অভিনেতার থেকেও ভালো মানুষ ছিলেন

পপি, চিত্রনায়িকা।

এমন একজন অভিনেতা-অভিভাবককে হারিয়ে আমার মনের শূন্যতা আরো বেড়ে গেল। তিনি অভিনেতা হিসেবে যতটুকু ভালো ছিলেন, তার চেয়েও ভালো ছিলেন একজন মানুষ হিসেবে। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমদিকে সন্তানের মতোই তার স্নেহ পেয়েছি। এই সময়ে বা করোনাকালে ইন্ডাস্ট্রির শূন্যতা বেড়েই চলছে। দিন দিন অনেক গুণী অভিনেতা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

সেটে কখনো দুর্ব্যবহার করতে দেখিনি

পূর্ণিমা, চিত্রনায়িকা।

তার সঙ্গে প্রথম কাজ করা শুরু হয় ২০০০ সালে। তারপর থেকে আমার প্রতিটি সিনেমার কোনো না কোনো চরিত্রে তিনি থাকতেন। খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন। তিনি যে এত বড় মাপের একজন অভিনেতা তা আমরা নতুন হলেও আমাদের কখনো বুঝতে দিতেন না। সেটে কখনো কারো সঙ্গে তাকে দুর্ব্যবহার করতে দেখিনি। করোনায় তাকে হারালাম, তার চলে যাওয়াটা আমার জন্য দুঃখের।

আমাদের সম্পর্কটা ছিল বাবা-ছেলের

নায়ক বাপ্পি চৌধুরী।

সাদেক বাচ্চু আঙ্কেলের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বাবা-ছেলের মতো। আমার অভিনীত বেশিরভাগ সিনেমাতেই তাকে সঙ্গে পেয়েছি। অনেক স্মৃতি আজ মনে পড়ছে। কাজের ফাঁকে আমরা কত গল্প করেছি। তার কাছ থেকে জেনেছি এ অঙ্গনের অনেক ঘটনা। আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিতেন। বলতেন, পরিশ্রম আর একাগ্রতার কোনো বিকল্প নেই। করোনাকালে আমরা অনেক কাছের মানুষকে হারিয়ে ফেলছি। তার চলে যাওয়াটাও ভীষণ শূন্যতার। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি একে একে সব শক্তিমান অভিনয়শিল্পীদের হারিয়ে ফেলছে। এসব ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেয়ার নয়। বাচ্চু আঙ্কেলের আত্মার শান্তি কামনা করছি।