বিক্রমের বিরুদ্ধে ‘খুনের’ চার্জ গঠন

আগের সংবাদ

রাবি উপাচার্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সাবেক উপাচার্যের স্ত্রীর মামলা

পরের সংবাদ

৮১তম জন্মবার্ষিকীর অনলাইন আলোচনায় বক্তারা

এম এন লারমা বহুত্ববাদী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ , ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা বহু জাতি, বহু বর্ণ, বহু ভাষা, বহু ধর্ম তথা বহুত্ববাদী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত, প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের অধিকারের জন্য মরণপণ লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এমএন লারমা এখনো প্রাসঙ্গিক। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনলাইন আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের সভাপতিত্বে ও ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ সিংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত অনলাইন আলোচনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরীন কনা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ।

রাশেদ খান মেনন বলেন, এমএন লারমা পাহাড়ীদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। ৬০ দশকের কাপ্তাই বাঁধ নিয়ে তিনিই প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি শুধু চাকমাদের কথা ভাবেননি। সকল মেহনতি মানুষের অধিকার, নারীমুক্তির জন্য সংগ্রামমুখর ছিলেন। তিনি শুধু জুম্ম জাতিসত্ত্বার জন্য বা সংকীর্ণ অর্থে লড়াই করেননি, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতেও নিজেকে সমর্পিত করেছেন। তিনি পার্লামেন্টেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর করে একটি স্বর্ণ দুয়ার খুলেছিল। সেখানকার ভূমি অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। ভাগ কর, শাসন কর, ধ্বংস কর নীতি চলমান। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার আদায়ে এগিয়ে যেতে হবে।

শাহ আলম বলেন, তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। তার দল ১৯৯৭ সালে সরকারের সাথে চুক্তি করেছে। আমি এ চুক্তিকে সমর্থন করি। মেসবাহ কামাল বলেন, রাষ্ট্র যখন একে একে গণতান্ত্রিক পন্থা রুদ্ধ করে দেয় তখন প্রকৃতিগতভাবে অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হয়। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা অধিকারের জন্য সেই সৃজনশীল পথে অগ্রসর হয়েছেন। নিজের জাতিসত্ত্বা এবং অপরাপর মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তিনি মার্কসবাদী নেতা হয়েও জাতীয়তাবাদ সামনে নিয়ে এসে অগ্রসর হয়েছেন। যে উন্নয়ন অন্য জাতি বা এলাকাকে ডুবিয়ে দেয়, সেরকম গণবিরোধী উন্নয়নের ঘোর বিরোধী ছিলেন এমএন লারমা। তিনি কাপ্তাই বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর ছিলেন। বহুত্ববাদের জন্য সংগ্রাম করেছেন।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, এমএন লারমার সংসদীয় বক্তব্য পড়লে বোঝা যায় তিনি কোন মাপের রাষ্ট্র চিন্তাবিদ। সেই সময়ে বহুত্ববাদ চর্চার তীব্র আকাঙ্কা তিনি ব্যক্ত করেছেন। অথচ, তার সমসাময়িক মূলধারার রাজনীতিবিদরা এটা কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কেবল বাঙালির না, মুসলমানদের জন্য না। এটা সবার বাংলাদেশ। এখানে বহুত্ববাদ চর্চা করতে হবে।

আবু সাঈদ খান বলেন, সবার বাসযোগ্য দেশ গঠন করতে হলে এমএন লারমার চিন্তা ও আদর্শ চর্চার বিকল্প নেই। এমএন লারমা দেশকে ভালোবাসতেন। এজন্য তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বারবার সবার বাসযোগ্য দেশ গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন। জোবাইদা নাসরীন কনা বলেন, এমএন লারমা আজীবন সংগ্রামী ছিলেন। ১৯৫৭ সালে হোস্টেলে খাবারের সময় নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিতর্ক করেন। তিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের উগ্র বাঙালী জাতীয়বাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং নিজের স্বকীয়তা তুলে ধরেন।

এসএইচ