অনুশীলনে ব্যস্ত টাইগাররা

আগের সংবাদ

রাতারাতি দাম বেড়ে দ্বিগুণ

পরের সংবাদ

আয়ে শীর্ষে মেসি দ্বিতীয় স্থানে রোনালদো

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ

মেসিকে নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। মাঠের ভেতরে-বাইরে সব জায়গায় রয়েছেন আর্জেন্টাইন এ সুপার স্টার। ব্যালন ডি’অর জয়ে রোনালদোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে আছেন মেসি। মাঠের লড়াই বা পুরস্কারের মঞ্চগত একদশক ধরে দুজনের দ্বৈরথ চলছে। মেসি- রোনালদোর দ্বৈরথ চলছে মাঠের বাইরেও। সেটা যদি হয় আয়-রোজগারের ক্ষেত্রে, সেখানেও একবার মেসি শীর্ষে ওঠেন তো আরেকবার রোনালদো। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস সাময়িকীর করা শীর্ষ আয়ের ফুটবলারদের সর্বশেষ প্রকাশ করা তালিকায় সবার ওপরে এখন মেসি। নিউজার্সি থেকে বছরে ৮বার প্রকাশিত এ ম্যাগাজিনটিতে সাধারণত প্রাধান্য পেয়ে থাকে অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্য, রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়। অর্থনীতি যেহেতু তাদের অন্যতম প্রধান বিষয় তাই তাদের সমীক্ষায় উঠে আসে অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় করা শীর্ষ অ্যাথলিটদের নামও। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। করোনা আক্রান্ত অর্থনৈতিক অবস্থাতেও যেসব ফুটবলার আয় করেছেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার, এবার তাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা।

তালিকার শীর্ষ নামটি আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির। ১০৫ বছরে বার্সেলোনা যেখানে জিতেছিল ৬৪টি শিরোপা, সেখানে মেসি আসার পরের ১৬ বছরে তাদের দখলে এসেছে ৩৪টি। বিশ্বসেরা এ ফুটবলারকে খুশি রাখতে তাই তার অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের অর্থই জোগান দেয় কাতালানরা। বেতন ও এন্ডোর্সমেন্ট মিলিয়ে গত এক বছরে মেসির আয় সর্বোচ্চ ১২৬ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ১০৭০ কোটি টাকা! বিপুল এই আয়ের মধ্যে বার্সেলোনা থেকে বেতন বাবদ তিনি পেয়েছেন ৯২ মিলিয়ন। আর বাদবাকি ৩৪ মিলিয়ন ডলার তার স্পনসরদের অবদান। মেসি যদি এবারের দলবদলে বার্সা ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে বা অন্য কোথাও যেতেন তাহলে পরের বছর তার আয়টা আরো ফুলেফেঁপে উঠত নিশ্চয়ই। গত মৌসুমটা শেষ হতে না হতেই মেসি বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে বার্সেলোনাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ন্যুক্যাম্প ছাড়তে চান। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মনে করেছিলেন তার চুক্তিতে ৭০ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজের শর্তটি অকার্যকর হয়ে গেছে। কিন্তু বার্সেলোনা সরাসরি জানিয়ে দেয়, কেউ যদি মেসিকে নিতে চায় তাহলে ৭০ কোটি ইউরো রিলিজ ক্লজ দিয়েই নিতে হবে। ক্লাবের দাবি ছিল, ক্লজটি এখনো কার্যকর আছে। এ নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পর মেসি তার বার্সা ছাড়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। ঘোষণা দিয়েছেন আরো একটা মৌসুম বার্সেলোনাতেই থাকবেন। বার্সা চাইছে মেসি নতুন চুক্তি করুন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের নতুন সমীক্ষায় ২০২০ মৌসুমের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তৃতীয় এবং চতুর্থ অবস্থানে আছেন পিএসজির দুই তারকা ফুটবলার নেইমার এবং এমবাপ্পে। রোনালদোর বেতন বাবদ জুভেন্টার্স থেকে ৭০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের পাশাপাশি এন্ডোর্সমেন্ট থেকে তার আয় আরো ৪৭ মিলিয়ন। যার মিলিত পরিমাণ ১১৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি অঙ্কে সেটিও ৯৯২ কোটি টাকার বেশি।

ফোর্বসের তালিকায় শীর্ষ আয়ের ফুটবলারদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছেন নেইমার। সর্বশেষ ১২ মাসে বেতন ও এন্ডোর্সমেন্ট থেকে তার আয় ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৮১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা ফরাসি স্ট্রাইকারের বেতন ও এন্ডোর্সমেন্ট মিলিয়ে গত ১২ মাসের আয় ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এটা ঠিক যে আয়ের দিক থেকে মেসি, রোনালদো বা নেইমারের চেয়ে অনেক পিছিয়ে এমবাপ্পে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের মতো তার আয়ও খুব দ্রুত ভালো হচ্ছে।

খেলোয়াড়দের বাজারের বাইরে লিগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ধনী প্রিমিয়ার লিগ হলেও শীর্ষ দশে প্রিমিয়ার লিগের মাত্র দুজন খেলোয়াড়ই রয়েছেন। ৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার আয় নিয়ে লিভারপুলের ফরোয়ার্ড মো. সালাহ আছেন পঞ্চম স্থানে। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবার আয় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তার চেয়ে মাত্র ১০ লাখ ডলার কম আয় করে সপ্তম স্থানে বার্সেলোনার গ্রিজমান। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে খুব কমই মাঠে নামা হয়েছে বেলের। এর জন্য অবশ্য আয় তত কমেনি ওয়েলস ফরোয়ার্ডের। ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় নিয়ে ফোর্বসের তালিকায় তিনি আছেন অষ্টম স্থানে। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও জার্মান বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা লেভানডফস্কি আছেন নবম স্থানে। বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ স্ট্রাইকারের আয় ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার দে হেয়া লেভার চেয়ে ১০ লাখ ডলার কম আয় নিয়ে আছেন দশমে।

এসএইচ